২০ নভেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ভারতের কাছে হেরে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশের বিদায়

  • এসএ গেমস পুরুষ ফুটবল, বাংলাদেশ ০-৩ ভারত

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ শিরোপা জেতার চেয়ে তা ধরে রাখা কঠিন। পারলো না বাংলাদেশ অলিম্পিক ফুটবল দল গত আসরের শিরোপা ধরে রাখতে। এসএ গেমস পুরুষ ফুটবলে তাদের স্বর্ণজয়ের মিশন ধূলিসাত করে দিয়েছে স্বাগতিক ভারত। শনিবার ভারতের ইন্দিরা গান্ধী স্টেডিয়ামে বাংলাদেশকে ৩-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে স্বাগতিক ভারত। বিজয়ী দল প্রথমার্ধে এগিয়ে ছিল ২-০ গোলে। একতরফা এই ম্যাচে বাংলাদেশ তেমন কোনও প্রতিরোধ গড়তে পারেনি। তাদের খেলা ছিল ছন্নছাড়া, হতাশাজনক। বাংলাদেশ তাম্রপদক নির্ধারণী ম্যাচ খেলবে মালদ্বীপ-নেপালের মধ্যে দ্বিতীয় সেমিফাইনালে পরাজিত দলের সঙ্গে।

গত এসএ গেমসে (পুরুষ) ফুটবলে বাংলাদেশ ভারতকে ১-০ গোলে হারিয়েছিল। মজার ব্যাপার, এই ম্যাচটিও ছিল সেমিফাইনালের! শনিবারের জয়ে প্রতিশোধটা ভালমতোই নিল ভারত। ভারত অলিম্পিক দলের সঙ্গে এ পর্যন্ত ৬ ম্যাচের মধ্যে ৩টিতেই হারলো বাংলাদেশ। বাংলাদেশে জিতেছে মাত্র ১ ম্যাচে। ভারত জিতেছে ৩ ম্যাচে। বাকি ২ ম্যাচ ড্র হয়।

এবারের আসরে বাংলাদেশ তাদের প্রথম ম্যাচে ভুটানের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে। দ্বিতীয় ম্যাচে নেপালকে হারায় ২-১ গোলে। এতে তারা অপরাজিত গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন (২ খেলায় ৪ পয়েন্ট, ‘বি’ গ্রুপ হতে শেষ চারে নাম লেখায়। পক্ষান্তরে ‘এ’ গ্রুপে ভারত প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কার কাছে ০-১ গোলে হেরে ধাক্কা খায়। পরের ম্যাচে অবশ্য মালদ্বীপকে অতিকষ্টে ৩-২ গোলে হারিয়ে গ্রুপ রানার্সআপ হয়ে শেষ চারে উন্নীত হয় (২ খেলায় তাদের পয়েন্ট ৩, মালদ্বীপেরও তাই। তবে গোল গড়ে মালদ্বীপ হয় গ্রুপের সেরা দল)।

যদিও ভারতের মাটিতে ম্যাচ, তারপরও স্বাগতিকদের নয়, বর্তমান চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নিজেদের ফেবারিট মনে করেছিলেন বাংলাদেশের স্প্যানিশ কোচ গঞ্জালো সানচেজ মরেনো। তার ভাবনাকে ভুল প্রমাণ করেছেন জামাল-রেজা-জীবন-হেমন্তরা।

সাম্প্রতিককালে বিভিন্ন টুর্নামেন্টের পারফর্মেন্স বিচার করে বলা যায়Ñ নেপাল, ভুটান, ভারত .... সবাই অনেক এগিয়ে গেছে ছেলেদের ফুটবলে। অবনতিটা হয়েছে শুধু বাংলাদেশের। সাফ-বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ-এসএ গেমস। এই তিন আসরে বাংলাদেশ জাতীয় দল এবং অনুর্ধ-২৩ দলের পারফর্মেন্সই তার প্রমাণ। সমস্যা উত্তরণে ইতোমধ্যে জাতীয় দলকে ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা নিয়েছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। কিন্তু একটি দেশের মূল জাতীয় দলের পরবর্তী দলটিই হলো অনুর্ধ-২৩ দল। জাতীয় দলের মূল পাইপলাইনই এটি। এই দলেরই যদি এরকম অবস্থা হয়, তাহলে দেশের ফুটবলের ভবিষ্যৎ কোথায়!

শনিবারের খেলায় ১২ মিনিটে মাঝমাঠ থেকে নেয়া একটি ফ্রি-কিক বাংলাদেশের গোলমুখে এসে পড়লে তা ঠিকমতো বিপদমুক্ত করতে পারেননি ডিফেন্ডার-অধিনায়ক রেজাউল করিম। ভারতীয় ফরোয়ার্ড উদান্তা সিং বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ছোট বক্সের ওপর থেকে প্লেসিং শটে গোল করেন (১-০)। ৪০ মিনিটে দ্রুতগতির একটি পাল্টা আক্রমণ থেকে বল নিয়ে বাংলাদেশ রক্ষণভাগে ঢুকে পড়েন ভারতের ফরোয়ার্ড জেরি। বাংলাদেশের ডিফেন্ডাররা কেউই ছিলেন না তাদের সঠিক পজিশনে। গোলরক্ষক রাসেল মাহমুদ লিটনও দাঁড়িয়ে ছিলেন দূরের পোস্টে। জেরি বক্সের ওপর থেকে তীব্র শটে কাছের জালে বল জড়িয়ে দেন। লিটন ফুল ডাইভ দিয়েও বল নাগাল পাননি (২-০)।

দ্বিতীয়ার্ধেও নিয়ন্ত্রণ অব্যাহত রাখে ভারত। ৫০ ও ৫৫ মিনিটে জার্মানপ্রিত সিং ও উদান্তা সিং আবার বিপজ্জনক অবস্থানে চলে এসেছিলেন কিন্তু তারা ফিনিশিং করতে পারেননি। ৬৪ মিনিটে সম্মিলিত আক্রমণ থেকে বক্সের ডান প্রান্তে বল পান জেরি মাওথিমানাগা। ফাঁকায় দাঁড়িয়ে ছিলেন তিনি। এবারও ভুল করেননি, ডান পায়ের মাটি কামড়ানো শটে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন ভারতের এই উঠতি তারকা (৩-০)।

খেলা শেষের পাঁচ মিনিট আগে বাংলাদেশ মিডফিল্ডার জামাল ভুঁইয়ার ফ্রি-কিকে বল ফাঁকায় পেয়ে গিয়েছিলেন রুবেল মিয়া। কিন্তু তার দুর্বল ভলি শট ভারতীয় গোলরক্ষক ধরে ফেলেন অনায়াসেই।

নির্ধারিত সময়ে আর ম্যাচে ফেরা হয়নি বাংলাদেশের। ফলে ৩-০ গোলের লজ্জার হার দিয়ে এসএ গেমসের স্বর্ণ জেতার স্বপ্নটা ভেঙ্গে যায় বাংলাদেশের।