১৬ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মামলা খেয়ে ট্রাফিক অফিসের অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করল বিদ্যুত বিভাগ

স্টাফ রিপোর্টার, যশোর অফিস ॥ যশোরে বিদ্যুত বিভাগের কর্মচারীর মোটরসাইকেল আটকের পর ‘কাগজপত্রবিহীন’ দাবি করে মামলা করেছে পুলিশ। আর মামলার পর পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ট্রাফিক পুলিশ অফিসের ‘অবৈধ’ বিদ্যুত সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে বিদ্যুত বিভাগ। শনিবার সকালে যশোরে ট্রাফিক পুলিশ ও বিদ্যুত বিভাগের মধ্যে পাল্টাপাল্টি এ ঘটনা ঘটেছে। এ নিয়ে দুই বিভাগের মধ্যেই ঠা-া লড়াই শুরু হয়েছে।

ট্রাফিক পুলিশ সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শনিবার সকালে শহরের দড়াটানায় অবস্থান নিয়ে মোটরসাইকেলের কাগজপত্র পরীক্ষা করছিলেন ট্রাফিক পুলিশের সার্জেন্ট জহুরুল হক। এ সময় তিনি ওয়েস্ট পাওয়ার জোন ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ওজোপাডিকো) বিদ্যুত বিভাগের দুই লাইনম্যান সুমন ও নাসিরকে দাঁড় করান। এ সময় তারা মোটরসাইকেলের কাগজপত্র দেখাতে না পারায় তাদের নামে মামলা দেয়া হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ট্রাফিক পুলিশের সার্জেন্ট জহুরুল হক বলেন, ‘তারা বিদ্যুত বিভাগের কর্মচারী তা পরিচয় দেয়নি। অভিযানের সময় অন্যদের মতো তাদের কাছেও কাগজপত্র দেখতে এবং হেলমেট ব্যবহারের বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়। তারা ‘ভাব’ নিয়ে বলেন, আমাদের কাগজপত্র লাগে না। এরপর তাদের মোটরসাইকেলের বিপরীতে মামলা দেয়া হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘মোটরসাইকেলটি বিদ্যুত বিভাগের কিনা, তা লেখা ছিল না। তারপরও তারা যদি পরিচয় দিতেন; তাহলে মামলা দিতাম না। কিন্তু এ ঘটনার জের ধরে তারা বিদ্যুত লাইন কেটে দিয়েছেÑ এ কেমন কথা!’ ওজোপাডিকোর আলতাফ হোসেন নামে এক লাইনম্যান জানান, সুমন ও নাসির নামে তাদের দুই লাইনম্যানকে দড়াটানায় থামিয়ে ট্রাফিক পুলিশ অযথা মামলা দিয়েছে। গাড়ির কাগজপত্র ছিল কিন্তু হেলমেট ব্যবহার না করার অভিযোগে এ মামলা দেয়া হয়েছে। আর এরপর অন্য কর্মীরা ট্রাফিক পুলিশ অফিসের অবৈধ বিদ্যুত সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে। আর বিদ্যুত বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘শুধু ট্রাফিক অফিসে না কোতোয়ালি থানায়ও অবৈধ বিদ্যুত সংযোগ রয়েছে। সেখানেও অভিযান চালানো হবে। বিদ্যুত বিভাগের লোকজন যদি হেলমেট ছাড়া রাস্তায় চলতে গিয়ে মামলা খায়। তবে পুলিশ কেন অবৈধভাবে বিদ্যুত ব্যবহার করবে!’ এদিকে ট্রাফিক পুলিশ অফিসের বিদ্যুত সংযোগ বিচ্ছিন্ন করায় কাজকর্মে বিঘœ ঘটতে দেখা গেছে। তবে এসব অসুবিধা ও অবৈধ বিদ্যুত বিচ্ছিন্ন ঘটনাটি আড়াল করার চেষ্টা করেন যশোর ট্রাফিক পুলিশের ইন্সপেক্টর ওলিউজ্জামান। তিনি বলেন, ট্রাফিক অফিসের পেছনে পুলিশ ক্লাবের কাজ হচ্ছে। তাই সেখানকার বিদ্যুত সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে গিয়ে আমাদের অফিসের লাইনও ভুলবশত কেটে গেছে।

নির্বাচিত সংবাদ