২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কলা চাষের কথা

  • ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর

(পূর্ব প্রকাশের পর)

এই জরিপে কলার বাণিজ্যিক চাষের আওতায় এই সমকালে যে ১৭২৮৭৭ একর জমি আছে বলে বিদিত হয়েছে তার মধ্যে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে বিদ্যমান প্রায় শতকরা ২৩ ভাগ। বাকি ৫৯টি জেলায় রয়েছে শতকরা ৭৭ ভাগ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর প্রাক্কলন অনুযায়ী কলা দেশে উৎপাদিত ফলফলাদির প্রায় শতকরা ২০ ভাগ এবং বাণিজ্যিকভাবে ফল উৎপাদনে প্রযুক্ত জমির প্রায় শতকরা ৩৬ ভাগ।

বাংলাদেশে উৎপাদিত কলার মধ্যে প্রধান হলো সাগর, সবরি, চম্পা, বাংলা, আটি বা আটিয়া, আনাজি, কাঁঠালী, সিংগাপুরী ও নেপালী।

জরিপে দেখা গেছে যে, সারাদেশে বাণিজ্যিকভাবে কলা চাষে প্রযুক্ত জমির শতকরা ২.৪৮ ভাগে আনাজি কলা, শতকরা ২০.৩৯ ভাগে বাংলা কলা, শতকরা ১৫.৪৬ ভাগে চম্পা কলা, শতকরা ৩১.৬৪ ভাগে সবরি কলা এবং শতকরা ২৪.১৩ ভাগে সাগর কলা উৎপাদিত হয়। মনে হয় সময়ান্তরে আটিয়া কলার চাহিদা আপেক্ষিকভাবে কমে এসেছে। কক্সবাজার, চট্টগ্রাম ও ৩টি পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলায়, শতকরা ১৭ ভাগের চাইতে বেশি জমিতে বাংলা কলা উৎপাদিত হয়। আর অন্যান্য জেলা বা সমতল ভূমিতে শতকরা প্রায় ৩২ ভাগে উৎপাদিত হয় সবরি কলা, শতকরা ২৪ ভাগ উৎপাদিত হয় বাংলা কলা। চাপা কলার উৎপাদন হয় সমতল ভূমিতে প্রায় শতকরা ১১ ভাগ জমিতে। অথচ পার্বত্য জেলাসমূহে এর উৎপাদন সীমিত শতকরা প্রায় ৫ ভাগ জমিতে। কলা চাষে প্রযুক্ত জমির এই পরিমাণ নির্দেশ করে যে সবরি, সাগর, চাপা ও বাংলা কলা চাষীদের কাছে আকর্ষণীয় উৎপাদন। কাঁঠালী, সিঙ্গাপুরী ও নেপালী কলার চাষ খুবই কম।

জরিপে দেখা গেছে, বাণিজ্যিকভাবে কলা চাষে প্রযুক্ত জমির শতকরা প্রায় ৮৭ ভাগ চাষীদের নিজস্ব মালিকানাভুক্ত। কক্সবাজার, চট্টগ্রাম ও ৩টি পার্বত্য চট্টগ্রামের জেলার বাইরে ৫৯টি জেলায় কলা চাষে প্রযুক্ত জমির প্রায় শতকরা ৮২ ভাগ নিজস্ব মালিকানাভুক্ত। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও ৩টি পার্বত্য জেলায় স্বমালিকানাধীন কলার খামারের আওতায় চাষলভ্য জমির তুলনায় অপেক্ষাকৃত কম জমির বিদ্যমানতা সম্ভবত এসব এলাকায় সাম্প্রতিককালে এসব খামারীদের অপেক্ষাকৃত কম সংখ্যায় অবস্থানের দ্যোতক। ধারণা করা যায় যে এসব পার্বত্য জেলায় লোকসংখ্যা ও অভিবাসন বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে স্বমালিকানাধীন কলার খামারের সংখ্যা বাড়বে। সারা বাংলাদেশে সকল চাষীর শতকরা ৩.৩ ভাগ বাণিজ্যিকভাবে ভাগ চাষী হিসাবে কলা উৎপাদন করেন। এদের মধ্যে ইজারা নেয়া জমিতে কলা উৎপাদন করেন প্রায় শতকরা ৮ ভাগ। কলার বাণিজ্যিক চাষে প্রযুক্ত জমির শতকরা ১.৫ ভাগ বন্ধকী জমি। এর প্রেক্ষিতে কার্যকরণ সূত্র অনুযায়ী বলা চলে যে কলা চাষের উন্নয়ন বা উৎপাদনশীলতা দেশের কৃষি জমির নিজস্ব মালিকানাভিত্তিক এবং এই কারণে ভাগ চাষ ও ইজারা পদ্ধতির আকার বা তার সীমিতকরণের ওপর নির্ভরশীল নয়।

লেখক : সংসদ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী