২০ নভেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পাল্টে যাচ্ছে চা শ্রমিকের জীবনমান

  • আ.ফ.ম আবদুল হাই

খুব শীঘ্রই পাল্টে যাবে চা শ্রমিকদের জীবনমান। চা শ্রমিকদের জীবনমান পাল্টানোর জন্য সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয স্থায়ী কমিটি শ্রীমঙ্গলের বিভিন্ন চা বাগান ঘুরে চা শ্রমিকের জীবনমান পর্যবেক্ষণ করেন এবং চা শ্রমিকদের সঙ্গে মতবিনিময করেন। তার পরে সংসদীয় স্থায়ী কমিটি শ্রীমঙ্গলস্থ চা গবেষণা ইনস্টিটিউটের অডিটরিয়ামে সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির ১৭তম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সভায় মূলত চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভায় কতগুলো প্রস্তাব ও সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে, চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নের জন্য বর্তমান জাতীয় বাজেটে ২০ কোটি টাকার বরাদ্দ দেয়া হয়। তা থেকে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় ঢাল সিজনে প্রতি চা শ্রমিকের পরিবারকে নগদ ৫ হাজার টাকা ও ৩ মাস ১৫ কেজি করে চাল, চিনি, লবণ দেয়া হয়। কমিটির এ বরাদ্দ বাড়িয়ে ৩০ কোটি টাকায় উন্নীত করার জন্য সুপারিশ করেছে। যাতে আরও চা শ্রমিক পরিবারকে যেন সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় আনা যায়। এ প্রস্তাব ও সুপারিশ মালা প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক অনুমোদিত হলে তবেই পাল্টাবে চা শ্রমিকের জীবনমান। গত ১২ জানুয়ারি মঙ্গলবার দুপুরে বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট সভা কক্ষে সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয স্থায়ী কমিটির ১৭তম সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান মোঃ মোজাম্মেল হোসেন এমপি। সংসদীয় কমিটির অন্য সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মোঃ ওয়াহিদুজ্জামান এমপি, সমাজ কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী প্রমোদ মানকিন এমপি, মনোরঞ্জন শীল এমপি, বেগম আয়েশা ফেরদৌস এমপি, মোঃ হাবিবে মিল্লাত এমপি, পীর ফজলুর রহমান এমপি, শেখ হাফিজুর রহমান এমপি, মোঃ আবদুল মতিন এমপি, বেগম লুৎফা তাহের এমপি, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে সচিব তারিকুল ইসলাম, সমাজসেবা অধিদফতরের মহাপরিচালক গাজী মোঃ নূরুল কবির, সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব নূরুল কবির সিদ্দিকী, সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব নিরঞ্জন দেবনাথ ও সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সচিব মোঃ কামরুল ইসলামসহ মন্ত্রণালয় ও সংসদ সচিবালয়ের পদস্থ কর্মকর্তারা। ঐ দিনে সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয স্থায়ী কমিটির বৈঠকের আগে শ্রীমঙ্গলের রাজঘাট ও কালিঘাট চা বাগানের নাচঘরে ও চা বাগনের ফ্যাক্টরি প্রাঙ্গণে চা শ্রমিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় চা শ্রমিকদের সঙ্গে তাদের জীবনমান নিয়ে আলোচনা করেন। আলোচনার মধ্যে ছিল চাবাগানগুলোর মধ্যে প্রাথমিক স্কুলগুলো রয়েছে সেগুলোর পর্যায়ক্রমে হাইস্কুলে উন্নীত করা, কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো উন্নত করা, চা শ্রমিকদের বাসস্থান উন্নত করাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। কমিটির নেতারা বলেন, চা বাগানের শ্রমিকদের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন প্রত্যক্ষ করার জন্য এবং সমস্যাগুলো চিহ্নিত করার জন্য আমাদের এখানে আসা। আমরা আপনাদের সমস্যাগুলো শুনে গেলাম। সমস্যাগুলো আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করব। পর্যায়ক্রমে সেগুলো বাস্তবায়ন করা হবে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সচিব মোঃ কামরুল ইসলাম জানান, মূলত চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে সংসদীয় কমিটির কতগুলো প্রস্তাব ও সুপারিশমালা পেশ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে, চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নের জন্য বর্তমান জাতীয় বাজেটে ২০ কোটি টাকার বরাদ্দ দেয়া হয়। তা থেকে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় ঢাল সিজনে প্রতি চা শ্রমিকের পরিবারকে নগদ ৫ হাজার টাকা ও ৩ মাস ১৫ কেজি করে চাল, চিনি, লবণ দেয়া হয়। কমিটির এ বরাদ্দ বাড়িয়ে ৩০ কোটি টাকায় উন্নীত করার জন্য সুপারিশ করেছে। যাতে আরও চা শ্রমিক পরিবারকে যেন সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় আনা যায়। চা বাগানগুলো এখন প্রাইমারী স্কুল হয়েছে। কিন্তু ৫ম শ্রেণী পাস করার পর তাদের পড়ার কোন ব্যবস্থা নেই। সে কারণে দেশের চা বাগানগুলোর ৮টি ভ্যালিতে ৮টি মাধ্যমিক স্কুল স্থাপন করার জন্য কমিটি সুপারিশ করেছে। এমনকি কমিটি এও সুপারিশ করেছে যেসব বাগানে প্রাইমারী স্কুল নেই সেসব চা বাগানে একটি করে প্রাইমারী স্কুল স্থাপনের জন্য।