১৫ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পুরো সিরিয়া পুনর্নিয়ন্ত্রণের অঙ্গীকার আসাদের

  • লড়াই বন্ধ করবে না বলে জানাল বিদ্রোহীরা

বিদ্রোহীদের কবল থেকে পুরো দেশকে মুক্ত করে পুনরায় নিজের নিয়ন্ত্রণে নেয়ার অঙ্গীকার করেছেন সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ। এজন্য সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাবেন বলে তিনি। বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে আসাদ বলেছেন, বিভিন্ন আঞ্চলিক শক্তি লড়াইয়ে জড়িত থাকার কারণে বিদ্রোহীদের পরাজিত করতে কিছুটা সময় লাগবে। এদিকে সিরিয়ায় বিদ্রোহী গ্রুপগুলো বলেছে, তারা লড়াই বন্ধ করবে না। কারণ তারা বিশ্বাস করেন না যে, আসাদকে সমর্থন করে চালানো বিমান হামলা কর্মসূচী বন্ধ করবে রাশিয়া। খবর এএফপি ও বিবিসির।

সিরিয়ায় প্রায় পাঁচ বছর ধরে চলমান রক্তপাত অবসানে শুক্রবার অস্ত্রবিরতি কার্যকর করতে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়াসহ বিশ্বের শক্তিধর দেশগুলো। এর আগে বৃহস্পতিবার সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেয়া এক বিশেষ সাক্ষাতকারে আসাদ বলেন, তুরস্কের পথ ব্যবহার করে বিদ্রোহীদের কাছে যে রসদ পৌঁছানো হয়, এতে বাধা দিতেই রুশ বিমান হামলার সহায়তায় তার সেনারা সিরিয়ার বৃহত্তম শহর আলেপ্পোর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তার লক্ষ্য, পুরো সিরিয়ায় নিজের কর্তৃক প্রতিষ্ঠাও করা। আইএসের দখল করা এলাকাগুলো পুনরায় নিজের নিয়ন্ত্রণে এনে। মাত্র কয়েক মাস আগেও বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আসাদ বাহিনী দুর্বল অবস্থানে ছিল। কিন্তু রুশ জঙ্গী বিমানগুলো সরকারী বাহিনীর সমর্থনে বিদ্রোহীদের অবস্থানের ওপর হামলা চালাতে শুরু করার পর যুদ্ধের মোড় ঘুরে যায়। তিনি বলেন, তুরস্ক, জর্দান, ইরাক দিয়ে বিদ্রোহীদের কাছে রসদ সরবরাহ বন্ধ করা গেলে সিরিয়া সঙ্কটের সমাধান এক বছরের কম সময়ে করা সম্ভব। কিন্তু রসদ সরবরাহের পথ বন্ধ না করা গেলে সিরিয়া সঙ্কটের সমাধান হতে আরও অনেক সময় লাগবে। সিরিয়াবাসীকে এ জন্য চড়া মূল্য দিতে হবে। আসাদের আশঙ্কা, তুরস্ক ও সৌদি আরব বিদ্রোহীদের সমর্থন জোগাবে। তারা চাইবে, সিরিয়ায় সামরিক হস্তক্ষেপ হোক। অস্ত্রবিরতির এ সিদ্ধান্ত এক সপ্তাহের মধ্যে কার্যকর করতে একটি চুক্তি সইয়ের কথা রয়েছে। তবে এ চুক্তি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে সিরিয়ার বিদ্রেহী গ্রুপগুলো। সিরিয়ার প্রধান বিরোধী ব্লকের সমন্বয়কারী রিয়াদ হিজাব বলেছেন, রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় অগ্রগতির আগে এই অস্ত্রবিরতির ঘোষণা বাস্তবসম্মত, যৌক্তিক নয়। ফ্রি সিরিয়ান আর্মির মুখপাত্র বলেছেন, আমরা সবসময়ই রাশিয়াকে নিয়ে সন্দিহান। অপর একটি গ্রুপ বলেছে, সরকারের বোমা হামলা বন্ধ না হওয়ায় বেসামরিক নাগরিকদের জন্য নিরাপদ সীমান্ত ক্রসিং খুলে না দেয়া, বন্দীদের মুক্তি না দেয়া এবং অবরুদ্ধ এলাকাগুলোকে মুক্ত করে না দেয়া পর্যন্ত তারা লড়াই অব্যাহত রাখবে।