২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

জাতীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে বিএনপি ঘুরে দাঁড়াবে - ফখরুল

স্টাফ রিপোর্টার ॥ জাতীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে বিএনপি সাময়িক বিপর্যয় কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ষষ্ঠ কাউন্সিলকে সামনে রেখে নয়া পল্টন ও গুলশান কার্যালয়ে নেতা, কর্মী ও সমর্থকদের ভিড় বেড়ে গেছে। সাব-কমিটিগুলো কাজ শুরু করেছে। তবে ১৯ মার্চ দলের জাতীয় কাউন্সিলকরতে তিনটি ভেন্যুর জন্য সংশ্লিষ্ট দফতরে আবেদন করলেও এখন পর্যন্ত কোনো ভেন্যু পাওয়া যায়নি। এরমধ্যে বসুন্ধরা কনভেশন সেন্টারের জন্য আবেদন করা হলেও তাদের কর্তৃপক্ষ তা নাকচ করে দিয়েছে। রবিবার দুপুরে নয়াপল্টন বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

ফখরুল বলেন, বিএনপির কাউন্সিল অধিবেশনের ৩ হাজার কাউন্সিলরের জন্য বড় হলরুম প্রয়োজন। এজন্য বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুমতি পেলে ভাল হয়। আশা করছি কর্তৃপক্ষ আমাদের সেখানে জাতীয় কাউন্সিল করার অনুমতি দেবে। এছাড়া সর্বশেষ রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনিষ্টিটিউশনকে টার্গেটে রেখেছি আশা করি অনুমতি পাব। মির্জা ফখরুল বলেন, সরকারের দীর্ঘদিনের দমন-পীড়নে বিএনপি যে বিপর্যস্ত অবস্থায় পড়েছিল কাউন্সিলের মাধ্যমে সে অবস্থা কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হবে। তিনি বলেন, আমরা এক প্রতিকূল অবস্থার মধ্য দিয়ে কাউন্সিলের প্রস্তুতি কাজ করছি। তারপরও আমরা আশা করি জাতীয় কাউন্সিল সফল করতে পারব।

২০১৯ সালের আগে জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে না -ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের এমন বক্তব্য প্রসঙ্গে ফখরুল বলেন, আমরা ‘ইমিডিয়েট’ জাতীয় নির্বাচন চাই। তিনি বলেন, ইউপি নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না জেনেও বিএনপি অংশ নিচ্ছে। তবে দলীয় প্রতীকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন গণতেন্ত্রর জন্য সহায়ক ভূমিকা রাখবে না। তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচনের জন্য ইরোপীয় ইউনিয়নের সংলাপের বিষয়টিকে আমরা স্বাগত জানাই। তবে আমরা তো আলাপ-আলোচনা করতে চাই কিন্তু সরকারই আগ্রহ দেখাচ্ছে না। তিনি বলেনস, গণতন্ত্র ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। আশা করি সরকারের শুভবুদ্ধির উদয় হবে এবং বিরোধীদলের সঙ্গে আলাপ আলোচনায় বসবে।

বিএনপির জেলা সম্মেলনগুলোতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ করে ফখরুল বলেন, জাতীয় কাউন্সিলের আগে আমরা বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা সম্মেলন শুরু করেছি। আশা করি আসন্ন কাউন্সিলের আগে আমরা অধিকাংশ জেলা সম্মেলন শেষ করতে পারব। এজন্য বেশ কয়েকটি কমিটি করে দেয়া হয়েছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত দলের সিনিয়র নেতারা জেলাগুলো সফর করছেন। কিন্তু জেলা সম্মেলনেও আমাদের হল ভাড়া দেওয়া হচ্ছে না। নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্যেই আমরা কাজগুলো শেষ করছি। তিনি বলেন, দেশকে বিরাজনীতিকরণ করতে একটি কুচক্রীমহল বিএনপি ভাঙ্গার ষড়যন্ত্র করছে। তবে কোনো ষড়যন্ত্রই সফল হবে না।

ফখরুল বলেন, কাউন্সিল ও জেলা সস্মেলনের মাধ্যমে আমাদের সাংগঠনিক তৎপরতা বেড়েছে, নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। বিএনপি চেয়ারপার্সনের কার্যালয়ে ও নয়াপল্টন কার্যালয়েও নেতাকর্মীদের ভীড় বেড়েছে। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশন গঠন করে দেয়া হয়েছে। সব কমিটিগুলোই পুরোদমে কাজ শুরু করেছেন। জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠানে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক পরিবেশ ভালো করতে হলে দেশের একটি বড় রাজনৈতিক দলের কাউন্সিল সুষ্ঠুভাবে হতে হবে।

এসময় মির্জা ফখরুলের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, অর্থ বিষয়ক সমন্পাদক আবদুস সালাম প্রমুখ।