১৫ নভেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

এটিএম লেনদেন বন্ধ করার নির্দেশ দেয়নি বাংলাদেশ ব্যাংক

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ এটিএম বুথ থেকে টাকা চুরির ঘটনায় লেনদেন বন্ধ করার কোন নিদের্শনা দেয়া হয়নি বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। রবিবার দুপুরে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক শুভঙ্কর সাহা এ কথা বলেন।

তিনি জানিয়েছেন, পূর্বের মতোই সর্বক্ষণিকভাবে এটিএম বুথ ও অন্যান্য সুবিধা চালু রাখতে হবে। কেউ যদি বন্ধ করে স্বেচ্ছায় তবে তা খতিয়ে দেখা হবে।

গত শুক্রবার ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেডের (ইবিএল) এক গ্রাহকের এ্যাকাউন্ট থেকে অন্য ব্যাংকের এটিএম ব্যবহার করে কৌশলে টাকা তুলে নেয় দুর্বৃত্তরা। পরে আরও জানা যায়, অন্তত ২১ জন গ্রাহকের এ্যাকাউন্ট থেকে একইভাবে আনুমানিক ১০ লাখ টাকা তুলে নেয়া হয়। বিষয়টি জানাজানি হওয়ায় ইবিএলসহ একাধিক ব্যাংক এটিএম সেবা বন্ধ রাখে। অনেক ব্যাংক টাকা উত্তোলন কমিয়ে আনে। এতে এটিএম থেকে টাকা উত্তোলনে ভোগান্তিতে পড়তে হয় সাধারণ গ্রাহকদের। এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র শুভংকর সাহা বলেন, ‘এটিএম বুথ বন্ধ রাখতে আমরা এখন পর্যন্ত কোন নির্দেশনা দেইনি। ইবিএলের ঘটনা তদন্ত করে আমরা জানতে পেরেছি, ৩ ব্যাংকের ৬টি এটিএম বুথে স্কিমিং মেশিন লাগিয়ে বেশ কিছু কার্ডের ডাটা সংগ্রহ করা হয়েছে। এরপর ওই ডাটা দিয়ে কার্ড ক্লোনিং করা হয়েছে। এজন্য ৮৫ লাখ কার্ড ব্যবহারকারীকে ভোগান্তিতে ফেলা যাবে না। পূর্বের মতোই এটিএম ও অন্যান্য লেনদেন সর্বক্ষণিক চালু রাখতে হবে। কেউ যদি বন্ধ করে তবে তা আমরা খতিয়ে দেখব।’ তিনি আরও বলেন, ‘ওই ছয় বুথে স্কিমিং মেশিন লাগানো অবস্থায় যেসব কার্ড ব্যবহার হয়েছিল সেগুলোর গ্রাহককে জানিয়ে ডি-এ্যাক্টিভেট করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের নতুন কার্ড সংগ্রহ করতে বলা হয়েছে। শুভঙ্কর সাহা জানান, কার্ড ক্লোনিং করে টাকা চুরির ঘটনা তদন্তে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একটি টিম কাজ শুরু করেছে। এ তদন্তের পরই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এক্ষেত্রে যে ব্যাংকের কারণে টাকা খোয়া গেছে সে ব্যাংকই গ্রাহককে ক্ষতিপূরণ দেবে।

ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ ঠেকাতে কি পদক্ষেপ নেয়া হতে পারে, জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা চাই প্রত্যেকটা ব্যাংক যেন তাদের বুথগুলোর সিসিটিভি থেকে দিনে অন্তত একবার পরীক্ষা করে। কেউ সেখানে স্কিমিং মেশিন লাগালে সেটা জানা যাবে। পাশাপাশি এন্টি স্কিমিং ডিভাইস বাজারে পাওয়া যায় কিনা সেটাও আমরা খোঁজখবর করছি। আবার যারা এ ধরনের চুরির কাজ করে তারা বুথে প্রবেশের সময় সাধারণত মাথায় এমন ক্যাপ ব্যবহার করে, যাতে ক্যামেরায় তার মুখ দেখা না যায়। আবার বুথের সামনে যে ক্যামেরা লাগানো থাকে তাও তারা চুইংগাম জাতীয় কিছু দিয়ে বন্ধ করে দেয়। আমরা চিন্তা করছি কেউ যখন কোন ক্যামেরা ব্লক করার চেষ্টা করবে তখনই যাতে এলার্ম বেজে ওঠে। তবে এ ব্যাপারে এখনও কোন সিদ্ধান্ত হয়নি।