১৮ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

দুই নাটক নিয়ে ভারত যাচ্ছে পদাতিক

দুই নাটক নিয়ে ভারত যাচ্ছে পদাতিক

স্টাফ রিপোর্টার ॥ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে দুই নাটক মঞ্চায়ন করতে ভারত যাচ্ছে নন্দিত নাট্য সংগঠন পদাতিক নাট্য সংসদ। দল সূত্রে জানা গেছে ভারতের দক্ষিণ ত্রিপুরার বিলুনিয়া প্রেসক্লাবের আমন্ত্রনে আগামী ২১ ফেব্রুয়ারি ‘ম্যাকবেথ’ ও ২২ ফেব্রুয়ারি ‘জনমাংক’ নাটকের মঞ্চায়ন করবে পদাতিক। এ উপলক্ষে পদাতিক নাট্য সংসদের সদ্যস্যরা আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি রাতে ভারতের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হবেন। নাটক মঞ্চায়ন শেষে আগামী ২৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় ফিরবেন তারা।

পদাতিক নাট্য সংসদ প্রযোজিত দুটি নাটকের মধ্যে অন্যতম উইলিয়াম শেক্সপিয়রের ‘ম্যাকবেথ’। নাটকটি অনুবাদ করেছেন সৈয়দ শামসুল হক। নির্দেশনা দিয়েছেন সূদীপ চক্রবর্তী। নাটকের বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেন শাখাওয়াত হেসেন শিমুল, শামছি আরা সায়েকা, হামিদুর রহমান পাপ্পু, ইকরাম, শুভ, জনি, রাসেল, ওয়ালিদ, জুয়েল, কামরুল, তন্ময়, লিমন ও মশিউর রহমান। নাটকের পোশাক পরিকল্পনা ওয়াহিদা মল্লিক জলি, সঙ্গীত শিশির রহমান, আলো অতিকুল ইসলাম জয় এবং মঞ্চ পরিকল্পনায় সূদীপ চক্রবর্তী।

‘ম্যাকবেথ’ নাটকের কাহিনীতে দেখা যায় স্কটিশ সেনাপতি ম্যাকবেথ যুদ্ধ জয় করে ফিরে আসার পথে একদল রহস্যময় শক্তি তাদের পথ রোধ করে ভবিষ্যৎবাণী উচ্চারণ করে বলেছিল, ম্যাকবেথ হবে কডোর প্রধান ও পরে রাজা এবং ব্যাংকো হবে রাজার আদি পিতা। ম্যাকবেথের চিঠি পেয়ে লেডি ম্যাকবেথ জানতে পারে বিস্তারিত, উচ্চাকাঙ্খা জন্ম নেয়। ম্যাকবেথকে প্ররোচিত করে রাজা ডানকানকে হত্যার। নিজ বাড়িতে রাজাকে হত্যা করে সিংহাসনে বসেন ম্যাকবেথ। রাজ হত্যার দায় কৌশলে এড়াতে একে একে হত্যা করেন ডানকানের দেহরক্ষীদ্বয়, ব্যাংকো, ম্যাকডাফের স্ত্রী-সন্তানরা। রহস্যময় শক্তিদের ভ্রন্তিতে ম্যাকবেথ ভুলে যায় যে ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়। লেডি ম্যাকবেথ অনুতাপে দগ্ধ ও অসুস্থ হয়ে আত্মহননের পথ বেছে নেন। ইংল্যাংডের রাজার সহায়তায় নিজ রাজ্য পুনরুদ্ধারে ডানকান পুত্রদ্বয় ম্যালকম ও ডোনালবেইন ম্যাকবেথ বাহিনীকে পরাজিত করে এবং ম্যাকডাফের অস্ত্রের আঘাতে সমাপ্তি ঘটে ক্ষমতা আঁকড়ে ধরে থাকা এক স্বেচ্ছাচারী ম্যাকবেথের।

অন্যদিকে ‘জনমাংক’ নাটকটি রচনা করেছেন নাসরীন মুস্তাফা। নির্দেশনা দিয়েছেন মীর মেহেবুব আলম নাহিদ । নাটকে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেন মসিউর রহমান, শাখাওয়াত হেসেন শিমুল, ওয়ালিদ, জিনিয়া, কামরুল, রাসেল, ইকরাম, শুভ, সুমন, চমক, লিমন, শরিফ, ইমরান। নাটকের আলোক পরিকল্পনা ফয়েজ জহির, মঞ্চ, পোশাক ও দ্রব্য আলী আহমেদ মুকুল, আবহ পরিকল্পনা তপন কুমার সরকার, কোরিওগ্রাফি ফাহমিদা আলম পাখি, আবহ পরিচালনা হামিদুর রহমান পাপ্পু, পরিচালনা সহযোগী লিমন, ইমরান। ‘জনমাংক’ নাটকের কাহিনীতে তুলে ধরা হয়ে মানুষের পরিচয় ও আত্মজিজ্ঞাসা মানুষ কে? নাটকে বলা হয়েছে মানুষের সংজ্ঞা নির্ধারণই আজকের বিশ্বের প্রধানতম চ্যালেঞ্জ। পুরুষ কি একাই মানুষের ধ্বজাবাহী? নারী কি শুধুই পুরুষের প্রয়োজন মেটানোর হাতিয়ার? এই পুরুষ শাসিত সমাজে প্রয়োজন মিটে গেলেই নারীর বেঁচে থাকাটাও কি হয়ে যায় না অপ্রয়োজনীয়? পেশিশক্তির দাপটে স্বার্থপরতার চাদরে ঢাকা পড়ে মানবিকতার শুভ্র আবেগ। নিজেদের ক্ষুদ্র শক্তিকেও মানুষ খ-িত করে ফেলে নারী-পুরুষের বিভাজনে। আর তখন প্রবল পরাক্রমশালী প্রতিপক্ষের চ্যালেঞ্জ ঠেকিয়ে বেঁচে থাকাই যেন অসম্ভব হয়ে পড়ে খ-িত শক্তির জন্য।

নাট্যকাহিনীতে সমুদ্রবেষ্টিত এক জনপদের পুরুষ নামধারী তথাকথিত মানুষের বেঁচে থাকার স্বার্থপরতা আমাদের আহত করে। মানবতার অপমান ক্ষুব্ধ করে আমাদের। প্রকৃতির রুদ্র রোষে ভীত মানুষ নারী আর পুরুষে বিভক্ত হলে পেশিশক্তির দাপটে বেঁচে থাকার অধিকার প্রতিষ্ঠিত করে পুরুষেরাই। নারীদের ঠেলে ফেলা হয় ক্ষুব্ধ সাগরের বুকে। আপাতদৃষ্টিতে সবল পক্ষটি প্রাণে বেঁচে গেলেও তাদের জীবনের ছন্দপতন ঘটে। নারী ছাড়া পুরুষের জীবন কতখানি শুষ্ক আর নিরানন্দের হতে পারে, টের পায় পুরুষেরা। নারী আর পুরুষের যৌথ অবস্থানই যে মানুষের জীবনের সার্থকতা এনে দেয়, প্রতিষ্ঠিত করে মানবতার জয়গান, সময়ের আবর্তনে বুঝে ওঠে পুরুষেরা। অন্যের অধিকার হরণ করে বেঁচে থাকা নয়, বিসর্জনে প্রস্তুত ‘মানুষ’ অবশেষে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয় প্রবল প্রতিপক্ষ সাগর দেবতার। এভাবে একটি জনগোষ্ঠীর মানবিক হয়ে ওঠার প্রয়াস স্পষ্ট হয়ে ওঠে এ নাট্যকাহিনীতে।