২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

নাটকে দর্শক ফেরাতে সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন ॥ কায়সার আহমেদ

নাটকে দর্শক ফেরাতে সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন ॥ কায়সার আহমেদ

দেশের জনপ্রিয় নাট্য ও চলচ্চিত্র পরিচালক কায়সার আহমেদ। তিনিই একমাত্র নির্মাতা যিনি গত প্রায় ২০ বছর ধরে নাটক ও চলচ্চিত্র পরিচালনা করে আসছেন। নির্মাতা হিসেবে একের পর এক সফলতা পেয়েছেন। দেশের নন্দিত এ পরিচালক খ- ও ধারাবাহিক মিলে এ পর্যন্ত আট শতাধিক নাটক নির্মাণ করেছেন। নির্মাতা হিসেবে বেশ কিছু পুরস্কারও পেয়েছেন। জনপ্রিয় গুণী এই নাট্যকার ও পরিচালকের সাম্প্রতিক ব্যস্ততা ও সমসাময়িক বিষয় নিয়ে তার সঙ্গে কথা হয়।

আপনার সাম্প্রতিক ব্যস্ততা নিয়ে জানতে চাই?

কায়সার আহমেদ : এশিয়ান টিভির ‘ইয়েস ম্যাডাম নো স্যার’ ধারাবাহিক নাটকের কাজ নিয়ে ব্যস্ত আছি। এ ছাড়া এ মাসেই নতুন চ্যানেল এটিভির একটি ধারাবাহিক এবং সামনের মাসে আরও দুটি ধারাবাহিক নাটক নির্মাণ করব। এই নিয়ে ব্যস্ত আছি।

নতুন নাটকগুলোর মেসেজ কি ধরনের?

কায়সার আহমেদ : আমি সব সময় মেসেজধর্মী নাটক নির্মাণ করি। আমার কাজগুলো যদি আপনি দেখে থাকেন তবে লক্ষ্য করবেন বিনোদনের পাশাপাশি আমার নাটকে একটি সোশ্যাল মেসেজ দেয়ার চেষ্টা করি। নাটক বা চলচ্চিত্রের মাধ্যমে সমাজ আমার কাছে কি পেল বা কি শিখলো সেটাকে আমি গুরুত্ব দেই। আমার নতুন কাজগুলোতেও তেমনি মেসেজ থাকবে আশা করি।

নাটকের দর্শক সঙ্কট নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে আপনার মন্তব্য জানতে চাই?

কায়সার আহমেদ : এ বিষয়ে আমাদের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। এক সময় দেশে বিটিভিসহ কয়েকটি চ্যানেল ছিল। নাটকের সংখ্যা তখন কম ছিল। শিল্পীরা কাজের জন্য আগে তৈরি হতো। নাটকের প্রতি তাদের ভালবাসা ছিল। এখনও ভালবাসা আছে। তবে সেই সময় একটা গল্পের প্রতি বা কাহিনীর প্রতি যে ভালবাসা ছিল তা এখন আর নেই। আগে আমরা যখন নাটক করার আগে রিহার্সেল করতাম। কিন্তু এখন সেটা হয়না, শিল্পীরাও আর সময় দিতে পারে না, ডিরেক্টররাও সময় বের করতে পারে না। আর তাছাড়া বাজেটেরও একটা ব্যাপার আছে। আমার যতদূর মনে পড়ে আজ থেকে ১৮-২০ বছর আগে আমার একটা সিঙ্গেল নাটকের বাজেট ছিল ৬ লাখ টাকা। আজকে এই সময়ে এসে আমার একটি সিঙ্গেল নাটকের জন্য বাজেট পাচ্ছি সর্বোচ্চ দুই লাখ বা দুই লাখ বিশ হাজার। সেই সময়ের চেয়ে বর্তমানে আর্টিস্টের পারিশ্রমিক বেড়েছে। আবার উল্টো বাজেট কমেছে। ফলে আগের তুলনায় অনেক কৌশলী হয়ে, মেধা খাটিয়ে আমাদের নাটক নির্মাণ করতে হচ্ছে। চিন্তাভাবনা করে নির্মাণ করতে হয় এই বাজেটের মধ্যে। আগে একটি খ- নাটক ছয় দিন বা ৪ দিন শূটিং করতাম। আর এখন দুইদিনের মধ্যে আমাদের কাজ শেষ করতে হয়। সুতরাং স্বল্প বাজেট স্বল্প সময়ে নাটক নির্মাণ করা অনেকটাই চ্যালেঞ্জ। সে দিকে দর্শক সেভাবে নাটকে দর্শক টানছেনা। তবে এর মধ্যেও কিন্তু ভাল ভাল কাজ হচ্ছে।

শিল্পীদের দক্ষতার প্রসঙ্গে আপনার মন্তব্য?

কায়সার আহমেদ : আমি মনে করি এই সময়ের শিল্পীদের প্রশিক্ষণ নিয়ে কাজ করা উচিত। সেটা একজন ডিরেক্টর হোক আর ক্যামেরাম্যান হোক বা অভিনেতা অভিনেত্রী বা শিল্পীই হোক। শিল্পীদের কাজের প্রতি ভালবাসা থাকা উচিত, ভালবেসে কাজ করা উচিত। সব ভালবাসার সমন্বয়ে তৈরি একটি প্রোডাক্ট ভাল হতে বাধ্য। এ কারণে তাকে আগে তৈরি করে নিতে হবে। কিন্ত সে সময় কোথায়?

এত কিছুর পরেও দর্শক নাটক দেখছে না কেন?

কায়সার আহমেদ : আমাদের দুর্বলতার কারণে দর্শক অন্য চ্যানেল তথা বিদেশী চ্যানেলে ডাইভার্ট হয়ে যাচ্ছে। এখন নাটক বলেন, যাই বলেন, তুমুল প্রতিযোগিতার সময় চলে এসেছে। কথায় কথায় রিমোটের মাধ্যমে দর্শকরা চ্যানেল পরিবর্তন করতে পারছে। আগে আমরা বিটিভি দেখতাম, এটিএন বাংলা, চ্যানেল আই, এনটিভি বা আরটিভি দেখতাম। আর এখন ৩০টিরও অধিক চ্যানেল। এর বাইরে আমি বিদেশী চ্যানেলগুলোতে যেতে পারছি। আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জটা বেশি। এ জন্য নাটকের গল্প, নির্মাণ, অভিনয়, ক্যামেরার কাজ বা চিত্রগ্রহণ যাই বলেন না কেন আমাকে সব কিছুতেই সমান গুরুত্ব দিতে হবে। নাটক নির্মাণের ক্ষেত্রে আরও অনেক বেশি যতœশীল হতে হবে। সবার সমন্বয়ে সমষ্টিগতভাবে আমাদের ভাল কাজ করতে হবে। সংকট নিরসনে সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

শিল্পী সঙ্কট নিরসনে ডিরেক্টর বা চ্যানেলগুলোর কোন ভূমিকা রাখতে পারে কি না?

কায়সার আহমেদ : হ্যাঁ আপনি ঠিকই বলেছেন। এ বিষয়ে ডিরেক্টরদের পাশাপাশি চ্যানেলগুলোরও সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। যারা কাজ করবে তারা নতুনদের নিয়ে এক বা একাধিক ওয়ার্কশপ করে নিতে পারে। অভিনয়, ক্যামেরা এক্সপ্রেশন নিয়ে অভিজ্ঞতা অর্জন করতে শিল্পীদের সহযোগিতা করতে হবে। আমি বলব ভাল কাজের জন্য শুধু শিল্পী নয় বরং ডিরেক্টর এবং সংশ্লিষ্টদেরও ওয়ার্কশপ বা এ জাতীয় প্রশিক্ষণ নিয়ে কাজে আসা উচিত।

অনেকেই চলচ্চিত্র নির্মাণ করে চ্যানেলে মুক্তি দিচ্ছেন এ বিষয়ে আপনার মন্তব্য কি?

কায়সার আহমেদ : চলচ্চিত্র হচ্ছে ওয়াইড মিডিয়া, টিভি কমপ্যাক্ট মিডিয়া। দুটোর কাজের ধরন ও দর্শক আলাদা। সুতরাং দুটো ভিন্ন জিনিসকে গুলিয়ে ফেললে হবে না। দুটোর গুরুত্ব বুঝে কাজ করতে হবে।

অনেকেই তো নাটকের পরে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন। আপনার এ ধরনের পরিকল্পনা আছে কি?

কায়সার আহমেদ : আমি মূলত চলচ্চিত্র থেকেই টিভি নাটকে এসেছি। আগে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছি তারপর নাটকে এসেছি। সব মিলে ৩০-৩৫টি চলচ্চিত্রের পরিচালকের সঙ্গে কাজ করেছি। এরপর দুটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছি। এর মধ্যে ‘দোলন চাপা’ ১৯৯৭ সালে এবং ‘সুজন মাঝি’ ২০০০ সালে নির্মাণ করি। তবে এই সময়ে আপাতত চলচ্চিত্র নির্মাণের পরিকল্পনা নেই। অদূর ভবিষ্যতে হয়তো চলচ্চিত্র নির্মাণ করতেও পারি।

মিডিয়ায় দীর্ঘদিনের কাজের প্রাপ্তি অপ্রাপ্তি কি?

কায়সার আহমেদ : আমার নির্মাণ ক্যারিয়ারে দর্শকদের ভালবাসা অনেক পেয়েছি। আরও পেতে চাই। সে জন্যই যতদিন এ লাইনে আছি দর্শকদের ভালবাসার জন্যই কাজ করে যাব। দর্শকরাই আমার কাজের প্রেরণা। আমার কাজের মাধ্যমে দর্শকদের দেশের মানুষের যদি সামান্যতম উপকারে আসতে পারি সেই আমার অর্জন এবং প্রাপ্তি। এই প্রাপ্তির জন্যই কাজ করছি ,করে যাব। এ জন্য দর্শক ও সংশ্লিষ্টদের ভালবাসা ও সমর্থন চাই।

-সাজু আহমেদ