২৪ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সরকারী হাসপাতালে সেবার মান

সারাদেশে কমিউনিটি ক্লিনিক চালুসহ মাতৃ ও শিশুমৃত্যু হ্রাসে আশাব্যঞ্জক সাফল্য অর্জিত হয়েছে। বাংলাদেশের এই অর্জন প্রশংসিত হয়েছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও। গত ক’বছরে স্বাস্থ্যখাতে অবকাঠামো উন্নয়নসহ জনবল বাড়ানো হলেও সবার জন্য সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা হয়েছে তা বলা যাবে না। বেসরকারী স্বাস্থ্যসেবা সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। কেননা, সেখানে চিকিৎসা ব্যয় অত্যধিক। অন্যদিকে সরকারী হাসপাতালের সুযোগ-সুবিধা সর্বত্র পাওয়া যায় না। বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে সরকারী হাসপাতাল থাকলেও চিকিৎসাসেবা অপ্রতুল ও অপর্যাপ্ত। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, প্রয়োজনীয় ওষুধ-পথ্য, সর্বোপরি রোগ নির্ণয়ের প্রকট অভাব। এর অবশ্য কারণও রয়েছে। প্রকৃতপক্ষে স্বাস্থ্যখাতে সরকারী বরাদ্দ খুব কম। জাতীয় বাজেটে মাত্র ৭ শতাংশ বরাদ্দ করা হয় স্বাস্থ্যখাতে, যা জিডিপির মাত্র ১ শতাংশ। বর্তমানে সরকারী খাতে স্বাস্থ্যসেবায় ব্যয়ের পরিমাণ মাথাপিছু মাত্র ৫ ডলার। অথচ বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী উন্নয়নশীল দেশগুলোতে স্বাস্থ্যসেবায় মাথাপিছু ৩৪ ডলার ব্যয় করা বাঞ্ছনীয়।

সত্য বটে, গত কয়েক বছরে দেশে মাথাপিছু আয় বেড়েছে। নিম্ন মধ্যম আয়ের থেকে বাংলাদেশ এখন মধ্যম আয়ের দিকে অগ্রসরমান। তবে এও সত্য যে, ধনবৈষম্যও বাড়ছে। গ্রামগঞ্জ ও শহরতলিতে গরিব মানুষ আর আগের মতো নেই। খাদ্যাভাবও কমেছে অনেকটাই। তবে পুষ্টি সমস্যা রয়ে গেছে তৃণমূল পর্যায়ে। সচরাচর অপুষ্টিতে আক্রান্ত হয় অভাবী গরিব মানুষ, যাদের একটা বড় অংশ শিশু ও নারী। তারাই নানা রোগ-ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে থাকে। পেটের পীড়া, কলেরা, আমাশয়, সাধারণ জ্বর-সর্দিকাশিতে আক্রান্ত হলেই কেবল তারা শরণাপন্ন হয়ে থাকে চিকিৎসককের। কমিউনিটি হেলথ ক্লিনিকের মাধ্যমে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সারাদেশে সুবিস্তৃত হওয়ার ফলে গরিব মানুষ এ থেকে সবিশেষ উপকৃত হয়। এসব চিকিৎসা কেন্দ্রে সারাক্ষণ না হলেও ডাক্তার ও নার্সের সন্ধান মেলে এবং সাধারণ কিছু ওষুধপত্র পাওয়া যায়। তবে এ নিয়ে অনিয়ম ও অভিযোগ যে নেই তা বলা যাবে না। মূল সমস্যা শুরু হয় অন্যত্র। অসুখটি যদি কিছু জটিল হয় তাহলে রোগ নির্ণয়ে সমস্যা দেখা দেয়। উপজেলা পর্যায়ে এক্সরেসহ প্রয়োজনীয় ল্যাবরেটরির প্রকট অভাব। অপ্রিয় সত্য হলো বাংলাদেশে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় মোটামুটি মান অর্জন সম্ভব হলেও সেকেন্ডারি ও টারশিয়ারি লেবেলে চিকিৎসাসেবা প্রায়ই পাওয়া যায় না। ফলে রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার জন্য একজন রোগীকে চলে আসতে হয় ঢাকায়। এর ফলে রোগী ও তার পরিবারের ওপর অনৈতিক চাপ সৃষ্টি হয়। অন্যদিকে রোগীর চাপ সামলাতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয় রাজধানীর সরকারী হাসপাতালগুলোকে।

অথচ খুব সহজেই এহেন সমস্যার সুষ্ঠু ও সমন্বিত মীমাংসা করা সম্ভব। প্রথমত স্বাস্থ্যসেবার বিকেন্দ্রীকরণ। রাজধানীকেন্দ্রিক বড় ও বিশেষায়িত হাসপাতাল গড়ে না তুলে বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে পর্যায়ক্রমে মানসম্মত জেনারেল হাসপাতাল স্থাপন। এসব হাসপাতালে অবশ্যই থাকতে হবে সেকেন্ডারি ও টারশিয়ারি রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসার সব রকম সুযোগ-সুবিধা। রাজধানীর বাইরে কর্মস্থলে ডাক্তারদের অনুপস্থিতির একটি অভিযোগ প্রায়ই শোনা যায়। তবে বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে সন্তানদের লেখাপড়াসহ সবরকম সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে এই অভিযোগ আর থাকবে না। হাসপাতালগুলোতে জনস্বাস্থ্য সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার জন্য একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার অবশ্যই থাকতে হবে। এর পাশাপাশি আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি ও ওষুধপত্র থাকা বাঞ্ছনীয়, যাতে রোগীকে আর কোন অবস্থাতেই ঢাকাগামী হতে না হয়।