১৮ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

একটি সুন্দর অভ্যাস

বই পড়া নিঃসন্দেহে ভাল অভ্যাস। বই পড়া কি শুধুই নিয়মিত পাঠ্যাভ্যাস? না। আমি মনে করি যখন সেখানে যে পাঠ সামগ্রী পাওয়া গেল তা পড়ে নেয়াই বই পড়া। একটা পছন্দের বই হাতে পেয়ে নাওয়া-খাওয়া ভুলে পড়ে শেষ করার মধ্যেই বই পড়ার প্রকৃত আনন্দ! সময়-সুযোগ মতো বই পড়ার আনন্দটা অনেকটা মরা কটালের মতো। বই এবং একমাত্র বই-ই পারে মনের দুয়ার খুলে পাঠককে এমন এক জগতে নিয়ে যেতে যেখানে যাওয়ার ‘সাধ’ তার ছিল অবচেতনে।

বই পড়ার অভ্যাসটা আসে অন্তরের তাগিদ থেকে। অন্যের বই পড়া দেখে বা অন্য কারণে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে ওঠা সম্ভব নয়। অন্তরের ষোলআনা চাহিদাই কেবল পারে বই পড়াকে সহজ, মধুর আর আনন্দ করতে। সে বই পড়ে কেবল সেই জানে চোখের সামনে বইয়ের ছোট কালো অক্ষরগুলো কি প্রাণময় আবেশ নিয়ে পাঠককে এগিয়ে নিয়ে যায় পাতা থেকে পাতায়। পঠিত বইয়ের বিষয়ের একজন হয়ে, একাত্ম হয়ে চলে যাওয়া যায় ঘটনাক্রমে।

যারা বই পড়ে, তাদের থাকে এই আন্তরিক তাগিদ। যা তাকে সব পরিবেশে সব জায়গায় বই খুঁজে পেতে সাহায্য করে। আর সময়! বই হাতে পেয়ে গেলে পাঠককে সময় খুঁজে বেড়াতে হয় না।

বই না পড়াটাও ‘বই পড়ার’ মতই অভ্যাসের বিষয়। বই পড়ার অভ্যাস যার নেই, হাতের কাছের বইটি তার নিকট নিতান্তই একটি বস্তু! এই যে আবেদন, এর যে রূপময়তা, এর বাকপটুতা সর্বোপরি এর প্রাণসৌন্দর্য তার কাছে অনুপস্থিত। এমনজনকে যদি কখনও কোন প্রয়োজনে সময় কাটাতে একখানি বই হাতে ধরিয়ে দেয়া হয় তবে তার সময় হয়ত কাটবে কিন্তু বই তার প্রাণ পাবে বলে মনে হয় না। বই থেকে সে যেমন কিছু পাবে না, বই-ও তাকে কিছু দিতে পারবে না।

এক সময় বইয়ের অবয়ব এখনকার বইয়ের তুলনায় অনেক বড় ছিল। রবীন্দ্রনাথের ‘গীতাঞ্জলি’ থেকে বিমল মিত্রের ‘কড়ি দিয়ে কিনলাম’-এর কথা বলা যায়। এমন বড় আকারের বইগুলোর পাঠকের কিন্তু অভাব হয়নি। এগুলোর একাধিক সংস্করণ তার প্রমাণ। বর্তমানের বইগুলোর অধিকাংশই অবয়বের দিক থেকে অবশ্যই দরিদ্র, তথাপি পাঠক ক্রমহ্রাসমান। তার অন্যতম কারণ বিনোদনের সহজলভ্যতা রিমোট ঘুরালেই অনেক চ্যানেল! মোবাইল টিপলেই অগুনতি বিনোদনের হাতছানি। ‘বোকা’ ছাড়া কে চায়-পিঠে বালিশ চেপে চোখের কাছে বই মেলে ধরে তা আবার পড়ে পড়ে বিনোদন খুঁজতে!

এই পাঠাভ্যাসটি গড়তে আমাদের অবশ্যই যতœশীল হতে হবে। শিক্ষার প্রাথমিক স্তর থেকে উচ্চ মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত সহপাঠ্যক্রমিক বিষয়ে ‘বইপড়া’ অন্তর্ভুক্ত করা যায়। কিছু নির্বাচিত বই ছাত্রছাত্রীদের দিয়ে দেয়া যায়। তারা বইগুলো পড়ে নিজেদের ভাবনা, অনুভূতি ব্যক্ত করতে পারে। সহপাঠ্য ক্রমিক কার্যক্রম থেকে আমরা যেমন গায়ক অভিনয়শিল্পী, আবৃত্তিকার, খেলোয়াড় পাচ্ছি, তেমনি সমঝদার পাঠক শ্রেণী পাওয়াও অসম্ভব নয়। পাড়ায় পাড়ায় ফুটবল, ক্রিকেট টুর্নামেন্টের পাশাপাশি বইপড়া প্রতিযোগিতা করা যায়, সরকারী গণগ্রন্থাগারের বাইরেও বইপড়া প্রতিযোগিতা ছড়িয়ে দেয়া যায়। আর এরাই হতে পারে জ্ঞানভিত্তিক সমাজ নির্মাণের এক একটা ইট।

নাসরীন আকতার

আনন্দমোহন কলেজ, ময়মনসিংহ