১৩ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সব স্কুলে ডিজিটাল ক্লাসরুম প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে আসুন

সব স্কুলে ডিজিটাল ক্লাসরুম প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে আসুন
  • ইন্টার-এ্যাকটিভ মাল্টিমিডিয়া ডিজিটাল কনটেন্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী

বিডিনিউজ ॥ দেশের প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ডিজিটাল শ্রেণীকক্ষ প্রতিষ্ঠায় সমাজের প্রতিষ্ঠিত ও বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রবিবার ইন্টার-এ্যাকটিভ মাল্টিমিডিয়া ডিজিটাল কনটেন্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘যারা বিত্তবান এবং সমাজে একটু প্রতিষ্ঠিত, তাদের কাছে আমার এই অনুরোধ থাকল- যার যার এলাকায়, যারা যেখানে পড়াশোনা করে এসেছেন, আপনারা সেই স্কুলে একটা করে উপহার দেবেন।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৬ কোটি মানুষের দেশে ৬৩ হাজার ৬০১টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একটি করে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম করা খুব কঠিন হবে বলে তিনি মনে করেন না। ‘আমরা সরকারের পক্ষ থেকে যা করার করছি। তবে নিজেদের পক্ষ থেকে কিছু উদ্যোগ নেয়া জরুরী।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দেশে কোন কিছু করলেই সকলে বলে, এটা সরকার করবে। কেন শুধু সরকার করবে?’ নিজ কার্যালয়ে এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষার্থীদের জন্য মাল্টিমিডিয়া কনটেন্ট তৈরির কাজের উদ্বোধন করেন। প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের বাংলা, ইংরেজী, গণিত, বিজ্ঞান এবং বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় বিষয়ক ১৭টি বইয়ের ইন্টার-এ্যাকটিভ মাল্টিমিডিয়া কনটেন্ট তৈরি করা হচ্ছে এ কার্যক্রমের আওতায়। বাংলা, গণিত, বিজ্ঞান এবং বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়ের ১২টি বইয়ের কনটেন্ট তৈরিতে ব্র্যাক এবং সেভ দি চিলড্রেন ইংরেজী পাঁচটিতে কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ভবিষ্যত প্রজন্মকে তৈরি হতে হবে দেশকে নেতৃত্ব দেয়ার জন্য। তাদের শিক্ষার ভিত্তিকে আরও মজবুত করে গড়ে তুলতে চাই।’ মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম হয়ে গেলে শিক্ষার্থীদের আরও বেশি জানার, বোঝার ও পড়ার সুযোগ হবে এবং তাদের আগ্রহও বাড়বে বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘আমরা পারি, আমরা পারব- এই আত্মবিশ্বাসটা সকলের মাঝে থাকতে হবে।’ সরকার এখন পর্যন্ত পনের শ’ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম প্রতিষ্ঠা করেছে এবং পাঁচ হাজার বিদ্যালয়ে ল্যাপটপ দিয়েছে বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়।

প্রতিষ্ঠিত যারা, তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের সবাই তো কোন না কোন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন, ছাত্রী ছিলেন। যারা সেই বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী ছিলেন, তারা অনেকেই এখন সমাজের অনেক গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় অধিষ্ঠিত। তারা অনেকেই অনেক সাফল্য এনেছেন। কেউ সরকারী চাকরিতে আছেন, কেউ প্রাইভেট সেক্টরে চাকরিতে আছেন, কেউ ব্যবসায় আছেন, কেউ ব্যাংকে আছেন।

‘প্রত্যেকে একটা উদ্যোগ নেন না, ওই ছোটবেলার স্কুল, যেখানে খেলার অনেক স্মৃতি রেখে এসেছেন। সেই স্কুলগুলোতে কেউ একটা মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর দিলেন। কেউ একটা ল্যাপটপ দিলেন এভাবে একটা উপহার আপনার স্কুলকে দিলেন।’

প্রধানমন্ত্রী নিজেও তার এলাকায় বেশ কয়েকটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কিছু ল্যাপটপ ও প্রজেক্টর উপহার দিয়েছেন বলে অনুষ্ঠানে জানান। ‘আর যেখানে একটু বাকি আছে.. সব জায়গায় আমরা দিয়ে দেব,’ বলেন তিনি।

এ অনুষ্ঠানে ফরমরঃধষপড়হঃবহঃ.রপঃফ.মড়া.নফ নামে একটি ওয়েবসাইটেরও উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। ইন্টার-এ্যাকটিভ মাল্টিমিডিয়া ডিজিটাল কনটেন্টের ওপর গুরুত্বারোপ করে শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘বই পড়ে শেখা, আর চোখে দেখে শেখার মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘প্রাথমিক শিক্ষাই শিক্ষার মূল ভিত্তি। এজন্য আমরা প্রাথমিক শিক্ষাকে গুরুত্ব দেই। বাচ্চাদের কাছ থেকে বেশি শেখা যায়; বাচ্চারা বেশি মেধাবী। ‘তাদের কাছে পৃথিবীটা অনেক উন্মুক্ত হয়ে গেছে।’

প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশের সুযোগ করে দেয়ার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই যুগের বাচ্চাদের কাছে বিশ্বটা অনেক উন্মুক্ত। ‘মা-বাবাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘কার বাচ্চা কত ভাল করল- এই চাপ দেয়া বন্ধ করতে হবে। ‘পড়াটাকে আনন্দমুখর করতে হবে। স্কুলেও সে পরিবেশটা রাখতে হবে।’

নিজ পরিবারের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা আমাদের ছেলেমেয়ের পরীক্ষা এলে আগের দিন বলেছি, এতো পড়াশোনা করে লাভ নেই; এখন একটু ঘুমাও। সারা রাত পড়ে শেষে কিছুই লিখতে পারবা না। ঘুমাও না হয়, অন্য কাজ কর। যেটুকু পড়া আছে, সেটুকুর ওপর পরীক্ষা দেবে। ‘সত্যি কথা বলতে কি.. কেউ তো খারাপ রেজাল্ট করে নাই।’

অন্যদের মধ্যে ব্র্যাকের চেয়ারম্যান ফজলে হাসান আবেদ, প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, সেভ দি চিলড্রেনের মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়া বিভাগের ভারপ্রাপ্ত আঞ্চলিক পরিচালক মাইকেল ম্যাকগ্রা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব হুমায়ুন খালিদ এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব শ্যাম সুন্দর শিকদার অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।