২০ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য জঙ্গী দমনে একযোগে কাজ করবে

কূটনৈতিক রিপোর্টার ॥ বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ তরুণ-তরুণীদের মধ্যপ্রাচ্যের জঙ্গী সংগঠন ইসলামিক স্টেটে (আইএস) যোগদান ঠেকাতে বাংলাদেশের সহযোগিতা চেয়েছে যুক্তরাজ্য। এসব তরুণ-তরুণীদের সঙ্গে বাংলাদেশেও কোন কোন ব্যক্তির যোগসাজশ থাকতে পারে বলে জানিয়েছে দেশটি। তবে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এখানে কোন আইএসের অস্তিত্ব নেই। বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্য জঙ্গী দমনে একযোগে কাজ করবে।

রবিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী ও পররাষ্ট্র সচিব এম শহীদুল হকের সঙ্গে ঢাকায় ব্রিটেনের সফররত অভিবাসন বিষয়কমন্ত্রী জেমস ব্রোকেনশায়ার পৃথক বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠকে সন্ত্রাস ও জঙ্গী গোষ্ঠীকে প্রতিরোধ, ব্রিটেনে বাংলাদেশী অভিবাসী, অপরাধ দমন ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠক সূত্র জানায়, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী ও পররাষ্ট্র সচিব এম শহীদুল হকের সঙ্গে পৃথকভাবে ব্রিটেনের অভিবাসনমন্ত্রী বৈঠক করেন। বৈঠকে ব্রিটিশ-বাংলাদেশী তরুণ-তরুণীদের আইএস যোগদানের বিষয়টি উঠে আসে। সে সময় ব্রিটিশমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশী ব্রিটিশ অনেক তরুণ-তরুণী ইতোমধ্যেই আইএসে যোগ দিয়েছে। তাদের সঙ্গে বাংলাদেশের একই মতাদর্শের অনুসারী ব্যক্তিদের যোগাযোগ থাকতে পারে। এ বিষয়ে নজর দেয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রতি অনুরোধ জানান ব্রিটিশমন্ত্রী।

এ সময় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ দমনে বাংলাদেশ এখন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। কোন ধরনের সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদকে প্রশয় দেয় না বাংলাদেশ। এছাড়া এখানে আইএসের কোন অস্তিত্ব নেই। ব্রিটিশ বাংলাদেশী তরুণরা ব্রিটেন থেকে আইএসে যোগ দিলে সেটা ব্রিটেন থেকেই প্রতিরোধ করা জরুরী। তবে ব্রিটিশ বাংলাদেশীদের সঙ্গে বাংলাদেশের কোন জঙ্গী তৎপরতা রয়েছে কি-না সেটা খতিয়ে দেখা হবে। এ বিষয়ে ব্রিটিশ সরকারকে সব ধরনের সহযোগিতা করবে বাংলাদেশ।

বৈঠকে ব্রিটিশ বাংলাদেশী তরুণদের জঙ্গীবিরোধী কার্যক্রমে উৎসাহিত করতে সচেতনতামূলক কর্মসূচী নেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশ জঙ্গীবিরোধী কার্যক্রমে উৎসাহিত করতে যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে, সেসবও তুলে ধরা হয়।

সূত্র জানায়, মধ্যপ্রাচ্যে আইএস জঙ্গী গোষ্ঠীর উত্থানের পর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে মুসলিম তরুণ-তরুণীরা সেখানে যোগ দিয়েছে। ব্রিটেন থেকেও মুসলিম তরুণরা আইএসে যোগ দিয়েছে। এদের মধ্যে বাংলাদেশী ব্রিটিশ তরুণ-তরুণীরাও রয়েছে। আইএসে যোগদানের পর ইতোমধ্যেই কয়েকজন ব্রিটিশ বাংলাদেশী নিহতও হয়েছেন। ব্রিটেন থেকে আইএসে যোগ দেয়ার পরে ডেভিড ক্যামেরন সরকার এ বিষয়ে চিন্তিত। আইএসে যোগদান ঠেকাতে ব্রিটিশ সরকারের পক্ষ থেকে নানা ধরনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বৈঠকের পর ব্রিটেনের অভিবাসন বিষয়কমন্ত্রী জেমস ব্রোকেনশায়ার উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এর মধ্যে জঙ্গী ও সন্ত্রাস দমন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সন্ত্রাস ও জঙ্গী দমনে বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্য একযোগে কাজ করবে বলেও তিনি জানান।

তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে শক্তিশালী ও গভীর সম্পর্ক গড়তে চাই। এছাড়া দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রাখতে চাই আমরা। দুই দেশের মধ্যে যে সম্পর্ক রয়েছে, সে বিষয়ে আমরা সত্যিই অভিভূত। ব্রিটিশমন্ত্রী বলেন, সংগঠিত অপরাধ দমন ও অভিবাসনের বিভিন্ন দিক নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

এদিকে ব্রিটিশ অভিবাসন বিষয়কমন্ত্রী জেমস ব্রোকেনশায়ারের ঢাকা সফরের বিষয়ে রবিবার ব্রিটিশ হাইকমিশনের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ব্রিটিশ অভিবাসন মন্ত্রী জেমস ব্রোকেনশায়ার দুদিনের সফরে ঢাকায় এসেছেন। সফরকালে সরকারের মন্ত্রী, কর্মকর্তা ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক হবে। তিনি ব্রিটেন সরকারের অবৈধ অভিবাসন, সংগঠিত অপরাধ ও জঙ্গীবাদ প্রতিরোধ বিষয়ে কাজ করে থাকেন।

ঢাকায় আসার অনুভূতি ব্যক্ত করে জেমস ব্রোকেনশায়ার জানিয়েছেন, এটাই তাঁর প্রথম ঢাকা সফর। বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে দীর্ঘদিনের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। দিন দিন এ সম্পর্ক শক্তিশালী ও গভীর হবে। জঙ্গী ও অবৈধ অভিবাসন এখন বৈশ্বিক হুমকি। এই হুমকি ঠেকাতে বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্য একযোগে কাজ করে যাবে বলে জানান তিনি।