১৫ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পাকিস্তানের অপকর্ম ঢাকতেই মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করেছেন খালেদা জিয়া ॥ হানিফ

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানের করা অপকর্ম আড়াল করতেই বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ।

রবিবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এ্যাভিনিউ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভায় তিনি এ অভিযোগ করেন। আজ সোমবার রাজধানী ঢাকায় ১৪ দল আয়োজিত মানববন্ধন সফল করার লক্ষ্যে এ বিশেষ বর্ধিত সভার আয়োজন করা হয়।

সভায় হানিফ বলেন, একাত্তরে পাকিস্তানের অপকর্মকে আড়াল করা ও নতুন করে জাতির মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে দেশের মধ্যে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করে সার্বভৌমত্বকে হুমকির মুখে ফেলা। এই দুই লক্ষ্যে খালেদা জিয়া দেশের স্বাধীনতা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করছেন। কিন্তু তিনি যতই ষড়যন্ত্র করুন না কেন দেশের জনগণ তা সফল হতে দেবে না। মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, আজকের মানববন্ধন হবে বিএনপি এবং পাকিস্তানের অন্যায় ও স্বাধীনতার বিরুদ্ধে অবস্থানের বিরুদ্ধে। এটা আওয়ামী লীগ কিংবা ১৪ দলের নয়। এটা গোটা দেশের স্বাধীনতাকামী মানুষের যারা দেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে তাদের প্রত্যেকের এ মানববন্ধনে উপস্থিত হওয়া উচিত। তিনি বলেন, বিএনপি কখনোই বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও এর আদর্শে বিশ্বাসী ছিল না। তারা পাকিস্তানের আদর্শ ধারণ ও লালন করেছে সবসময়। পাকিস্তানের আদর্শে আদর্শিত হয়েই তাদের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করার জন্য দেশের জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে বিএনপি। সে কারণে খালেদা জিয়া স্বাধীনতার ৪৪ বছর পরে স্বাধীনতার মীমাংসিত বিষয় নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছেন।

আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, একাত্তরের পরাজিত শক্তি পাকিস্তান আমাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করতেই পারে। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য স্বাধীন বাংলাদেশে মুক্তিযোদ্ধার দল হিসেবে দাবিদার মুক্তিযুদ্ধের বিশ্বাসঘাতক জিয়াউর রহমান ও তার স্ত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি আজ দেশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে পাকিস্তানের পক্ষ নিয়েছে।

ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেন, পাকিস্তান আমাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র বন্ধ না করলে তাদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে হবে। প্রয়োজনে আমাদের পাকিস্তানের পণ্য বর্জন করতে হবে। তিনি বলেন, আজ দেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হচ্ছে এবং তাদের শাস্তি হচ্ছে। তাদের মতো খালেদা জিয়ার অপরাধও কম নয়। তাই তাকে গ্রেফতার করে শাস্তি দেয়ার আহ্বান জানাচ্ছি সরকারের কাছে।

যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম বলেন, পাকিস্তানের আচরণ ও খালেদা জিয়ার আচরণ একই। তাই তাদের বক্তব্যকে পার্থক্য করার সুযোগ নেই। পাকিস্তানের মতো খালেদা জিয়াও দেশের মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করেছেন। তাই আমাদের এ অপশক্তির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি কামাল আহমেদ মজুমদার এমপির সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন সহ-সভাপতি মুকুল চৌধুরী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাজী মোহাম্মদ সেলিম এমপি, আওলাদ হোসেন প্রমুখ।