১৫ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

জাতীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে বিএনপি ঘুরে দাঁড়াবে ॥ ফখরুল

স্টাফ রিপোর্টার ॥ জাতীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে বিএনপি সাময়িক বিপর্যয় কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ষষ্ঠ কাউন্সিল সামনে রেখে নয়া পল্টন ও গুলশান কার্যালয়ে নেতা, কর্মী ও সমর্থকদের ভিড় বেড়ে গেছে। সাব কমিটিগুলো কাজ শুরু করেছে। তবে ১৯ মার্চ দলের জাতীয় কাউন্সিল করতে তিনটি ভেন্যুর জন্য সংশ্লিষ্ট দফতরে আবেদন করলেও এখন পর্যন্ত কোন ভেন্যু পাওয়া যায়নি। এর মধ্যে বসুন্ধরা কনভেশন সেন্টারের জন্য আবেদন করা হলেও তাদের কর্তৃপক্ষ তা নাকচ করে দিয়েছে। রবিবার দুপুরে নয়াপল্টন বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। ফখরুল বলেন, বিএনপির কাউন্সিল অধিবেশনের ৩ হাজার কাউন্সিলরের জন্য বড় হলরুম প্রয়োজন। এ জন্য বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুমতি পেলে ভাল হয়। আশা করছি কর্তৃপক্ষ আমাদের সেখানে জাতীয় কাউন্সিল করার অনুমতি দেবে। এ ছাড়া সর্বশেষ রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনকে টার্গেটে রেখেছি আশা করি অনুমতি পাব। মির্জা ফখরুল বলেন, সরকারের দীর্ঘদিনের দমন-পীড়নে বিএনপি যে বিপর্যস্ত অবস্থায় পড়েছিল কাউন্সিলের মাধ্যমে সে অবস্থা কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হবে। তিনি বলেন, আমরা এক প্রতিকূল অবস্থার মধ্য দিয়ে কাউন্সিলের প্রস্তুতি কাজ করছি। তার পরও আমরা আশা করি জাতীয় কাউন্সিল সফল করতে পারব।

২০১৯ সালের আগে জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে নাÑ ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের এমন বক্তব্য প্রসঙ্গে ফখরুল বলেন, আমরা ‘ইমিডিয়েট’ জাতীয় নির্বাচন চাই। তিনি বলেন, ইউপি নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না জেনেও বিএনপি অংশ নিচ্ছে। তবে দলীয় প্রতীকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন গণতেন্ত্রর জন্য সহায়ক ভূমিকা রাখবে না। তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচনের জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের সংলাপের বিষয়টিকে আমরা স্বাগত জানাই। তবে আমরা তো আলাপ-আলোচনা করতে চাই কিন্তু সরকারই আগ্রহ দেখাচ্ছে না। তিনি বলেন, গণতন্ত্র ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। আশা করি সরকারের শুভবুদ্ধির উদয় হবে এবং বিরোধী দলের সঙ্গে আলাপ আলোচনায় বসবে।

বিএনপির জেলা সম্মেলনগুলোতে বাধা দেয়ার অভিযোগ করে ফখরুল বলেন, জাতীয় কাউন্সিলের আগে আমরা বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা সম্মেলন শুরু করেছি। আশা করি আসন্ন কাউন্সিলের আগে আমরা অধিকাংশ জেলা সম্মেলন শেষ করতে পারব। এ জন্য বেশ কয়েকটি কমিটি করে দেয়া হয়েছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত দলের সিনিয়র নেতারা জেলাগুলো সফর করছেন। কিন্তু জেলা সম্মেলনেও আমাদের হল ভাড়া দেয়া হচ্ছে না। নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্যেই আমরা কাজগুলো শেষ করছি। তিনি বলেন, দেশকে বিরাজনীতিকরণ করতে একটি কুচক্রী মহল বিএনপি ভাঙ্গার ষড়যন্ত্র করছে। তবে কোন ষড়যন্ত্রই সফল হবে না। ফখরুল বলেন, কাউন্সিল ও জেলা সম্মেলনের মাধ্যমে আমাদের সাংগঠনিক তৎপরতা বেড়েছে, নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। বিএনপি চেয়ারপার্সনের কার্যালয়ে ও নয়াপল্টন কার্যালয়েও নেতাকর্মীদের ভিড় বেড়েছে। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশন গঠন করে দেয়া হয়েছে। সব কমিটিই পুরোদমে কাজ শুরু করেছে। জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠানে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক পরিবেশ ভাল করতে হলে দেশের একটি বড় রাজনৈতিক দলের কাউন্সিল সুষ্ঠুভাবে হতে হবে।

এ সময় মির্জা ফখরুলের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, অর্থ বিষয়ক সম্পাদক আবদুস সালাম প্রমুখ।

দেশে গণতন্ত্র নিরাপদ নয়-শাহ মোয়াজ্জেম ॥ বর্তমান সরকারের হাতে গণতন্ত্র নিরাপদ নয় বলে মন্তব্য করে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন অভিযোগ করেন এ সরকার চলছে বিদেশী প্রভুদের ইঙ্গিতে। রবিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘আশির দশকের ১০১ ছাত্রনেতা’ আয়োজিত ‘স্বাধীনতা ও রুগ্ণ গণতন্ত্র’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ অভিযোগ করেন ।

শাহ মোয়াজ্জেম বলেন, দেশে বিরোধী মতের দলকে কথা বলতে দেয়া হয় না। সরকারের বিরুদ্ধে কথা বললেই জেল-জুলুম নেমে আসে। দেশ চলছে শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থায়। ২ বছর আগে ভোটারবিহীন নির্বাচন হয়েছে। বিদেশীরাও বলেছেন মানুষ ভোট দিতে পারেনি বা ভোটকেন্দ্রে যায়নি। এটাকে নির্বাচন বলা যায় না। তাই অবিলম্বে সবার অংশগ্রহণে গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের দাবি জানাচ্ছি। নিজের মৃত্যু কামনা করে তিনি বলেন, ‘আমি এমন দেশে বাঁচতে চাই না, যে দেশে ইসলাম ধর্মের আলোচনা করতেও পুলিশের প্রয়োজন হয়।’ তিনি বলেন, দেশের গণতন্ত্র এখন ইনটেনসিভ কেয়ারে আছে।

শাহ মোয়াজ্জেম বলেন, যেভাবেই হোক, যত কষ্টই হোক বিএনপির কাউন্সিল হবেই। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ মামলা বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে নয়, মামলা হওয়া উচিত ছিল যারা বিডিআর হত্যার মতো জঘন্য হত্যাকা-ে সরাসরি জড়িত ছিল তাদের বিরুদ্ধে। তিনি বলেন, যে আইনজীবী খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা করেছে তিনি সঠিকভাবে রাষ্ট্রদ্রোহ লিখতে পারবে না।

নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করে শাহ মোয়াজ্জেম বলেন, এদের দিয়ে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। কার নির্দেশে এরা দলীয় প্রতীকে স্থানীয় সরকার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে? এতে দেশে গৃহযুদ্ধ, হানাহানি লেগে যেতে পারে।

সাবেক ছাত্রদল নেতা সরওয়ার আজম খানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন রফিকুল ইসলাম, ড. নজরুল হক, আবু তাহের তালুকদার, সাইফুদ্দিন খান, আশরাফ উদ্দীন বকুল প্রমুখ।

বিএনপি ইউপি নির্বাচনে অংশ নেয়ার কথা জানিয়েছে ইসিকে ॥ বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, আমরা জানি পৌরসভা নির্বাচনের মতো ইউনিয়ন পরিষদেও (ইউপি) একতরফা নির্বাচন হবে, তার পরও গণতন্ত্রের স্বাথে এ নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রবিবার বিকেলে নির্বাচন কশিন সচিবালয়ে ইউপি নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে অবহিত করে সিইসি বরাবর দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত একটি চিঠি প্রদান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। তিনি জানান, সিইসির দেখা না পেয়ে ইসি সচিব সিরাজুল ইসলামের হাতে চিঠিটি তুলে দেন। রিজভী বলেন, আমরা আজকে ইউপি নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে জানাতে এসেছি। দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ও সুশীল সমাজ মনে করে দলীয়ভাবে ইউপি নির্বাচন হলে সামাজিক সংস্কৃতিতে বিরূপ প্রতিক্রিয়া পড়বে। কারণ ইউপিতে প্রার্থীরা ব্যক্তি পরিচয়ে পরিচিত, রাজনৈতিক পরিচয় কাজ করে না। বিএনপি মনে করে ইউপিসহ যে কোন স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয়ভাবে হলে সামাজিক বন্ধন বিনষ্ট হবে। তার পরও গণতন্ত্রের স্বার্থে, গণতন্ত্রকে সম্প্রসারিত করতে আমরা ইউপি নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতে ক্ষুদ্র পরিসরে নেতাকর্মীরা গণতন্ত্রের চর্চা করতে পারবে। ডাকাতি এখন স্থায়ী রূপ নিয়েছে। তার পরও নির্বাচনে অংশগ্রহণকে আমরা আন্দোলন হিসেবে নিয়েছি।