১১ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

যুব বিশ্বকাপের সেরা ক্রিকেটার মিরাজ

যুব বিশ্বকাপের সেরা ক্রিকেটার মিরাজ
  • ভবিষ্যতে হতে চান বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার

মোঃ মামুন রশীদ ॥ শুধু ব্যাট-বল হাতেই দুরন্ত বিষয়টি এমন নয়। অনুর্ধ ১৯ বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে দলকে টানা দুই আসরে নেতৃত্ব দিয়েছেন। এবার তিনি দলকে দারুণ নেতৃত্ব যেমন দিয়েছেন, ব্যক্তিগত নৈপুণ্যেও দলকে জিতিয়েছেন তিন ম্যাচ। তিনি যে আগামীর আন্তর্জাতিক তারকা এতেও কোন সন্দেহের অবকাশ নেই। সে কারণেই মেহেদী হাসান মিরাজ এবার বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত অনুর্ধ ১৯ বিশ্বকাপের প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে হয়েছেন টুর্নামেন্ট সেরা। বল হাতে ৬ ম্যাচে ১২ উইকেট এবং ব্যাট হাতে ২৪২ রান করা এবং দলকে নেতৃত্ব দিয়ে তৃতীয় স্থান পাইয়ে দেয়ার সুবাদে বড় পুরস্কারটাই পেয়েছেন। বাংলাদেশের ক্রিকেটকে করেছেন গর্বিত। তবে এখানেই থামতে চান না তিনি। জাতীয় দলের হয়ে খেলে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার হতে চান বলে এক প্রতিক্রিয়ায় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন মিরাজ। টুর্নামেন্টের ব্যাট-বলের নৈপুণ্যে আশ্চর্যজনকভাবে দুই ফাইনালিস্ট ভারত কিংবা ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিকেটারদের অবস্থান শীর্ষে নেই। ব্যাট হাতে সর্বাধিক রান করেছেন ইংল্যান্ড যুব ক্রিকেট দলের ব্যাটসম্যান জ্যাক বার্নহ্যাম। তিনি ৪২০ রান করেছেন ৮৪ গড়ে তিন শতক হাঁকিয়ে। আর বল হাতে নামিবিয়া অনুর্ধ ১৯ দলের বাঁহাতি পেসার ফ্রিৎজ কোয়েটজি ১৫ উইকেট নিয়ে হয়েছেন সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি।

মিরাজের দল ছিল এবার অন্যতম ফেবারিট। টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই শিরোপা জেতার মতো নৈপুণ্যই দেখিয়েছে তার দল বাংলাদেশ। এবার বিশ্বকাপে দলকে নেতৃত্ব দেয়ার মাধ্যমেই এক অনন্য ইতিহাস সৃষ্টি করেন ১৮ বছর বয়সী এ তরুণ। কারণ এর আগে আর কোন ক্রিকেটার দুইবার যুব বিশ্বকাপে দলের অধিনায়কত্ব করেননি। দীর্ঘ তিন বছর ধরে বাংলাদেশ যুব ক্রিকেট দলের হয়ে খেলছেন। এ ক্রিকেটার ব্যাটে-বলে ধারাবাহিক নৈপুণ্য দেখিয়ে যাওয়ার কারণে অনেকেই তাকে পরবর্তী প্রজন্মেও ‘সাকিব’ বলেও অভিহিত করতে শুরু করে দিয়েছেন। বর্তমানে বিশ্বের সেরা ওয়ানডে ও টি২০ অলরাউন্ডার বাংলাদেশ জাতীয় দলের অপরিহার্য ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানও খুলনা অঞ্চলের (মাগুড়া) ক্রিকেটার। জাতীয় দলের হয়ে সাকিবের যে অবদান, একই অবদান মিরাজের যুবাদের হয়ে। সেটা এবার বিশ্বকাপেও প্রমাণ দিয়েছেন তিনি। ব্যাটে-বলে দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখিয়ে এবার তিনি বাংলাদেশ যুবাদের তিন ম্যাচ জিতিয়ে হয়েছেন ম্যাচসেরা। সবমিলিয়ে ৬ ম্যাচের ৫ ইনিংস ব্যাট করে চার অর্ধশতকসহ করেছেন ৬০.৫০ গড়ে ২৪২ রান। আর বল হাতে ৫৬.৩ ওভার বোলিং করে ৯ মেডেনসহ ১২ উইকেট শিকার করেছেন ১৭.৬৬ গড় ও মাত্র ৩.৭৫ ইকোনমি রেটে ১২ উইকেট। টুর্নামেন্টের বোলিং নৈপুণ্যে তার অবস্থান ৭ নম্বরে। আর ব্যাটিংয়ে ১২ নম্বর। সাকিবের সঙ্গে আপাতত একটিই পার্থক্য মিরাজের। সাকিব বাঁহাতি স্পিনার আর মিরাজ ডানহাতি অফস্পিনার। টুর্নামেন্ট জুড়ে এমন অসাধারণ নৈপুণ্যেও কল্যাণেই তিনি সেরা খেলোয়াড় হয়েছেন। যা এর আগে কোন বাংলাদেশী ক্রিকেটার করতে পারেননি। এছাড়াও প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ দলকে সেমিফাইনালে তুলেছেন নেতৃত্ব দিয়ে, বিশ্বকাপের ইতিহাসে সেরা সাফল্য হিসেবে বাংলাদেশ হয়েছে তৃতীয়। সবমিলিয়ে তাই দারুণ উচ্ছ্বসিত এ তরুণ। পুরস্কার হাতে নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি সত্যিই খুব উদ্বেলিত। আমার লক্ষ্যটা অনেক বড় ছিল। আমি সেরা অলরাউন্ডার হতে চেয়েছিলাম। পরবর্তী লক্ষ্য হচ্ছে পরের বিশ্বকাপ জেতা। ভবিষ্যত পরিকল্পনা জাতীয় দলের হয়ে খেলা এবং এক নম্বর অলরাউন্ডার হওয়া। আশা করছি আমি আমার সর্বোচ্চ দিয়েই সে চেষ্টা করব।’

টুর্নামেন্টের ব্যাট-বলের নৈপুণ্যে অবশ্য সেরা তিন দলের ক্রিকেটারদের তেমন আধিক্য নেই। ব্যাটিংয়ে সেরা ইংল্যান্ডের বার্নহ্যাম। রানার্সআপ ভারতের মিডলঅর্ডার সরফরাজ খান অবশ্য ৩৫৫ রান করে দ্বিতীয়। চ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে সেরা ব্যাটিং নৈপুণ্য দেখিয়েছেন সামার স্প্রিঙ্গার। তিনি ৫৭ গড়ে ২৮৫ রান করে ৫ নম্বরে। বাংলাদেশের পক্ষে সেরা ব্যাটিং দেখিয়েছেন নাজমুল হোসেন শান্ত। তিনি ৬৪.৭৫ গড়ে করেছেন ২৫৯ রান। একটি করে সেঞ্চুরি ও হাফসেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন তিনি। আর বোলিংয়ে চমক দেখিয়েছেন নামিবিয়ার পেসার কোয়েটজি। ১৫ উইকেট নিয়ে তিনিই সবার ওপরে। এ তালিকায় সেরা পাঁচে নেই রানার্সআপ ভারতের কোন বোলার। তবে চ্যাম্পিয়ন ক্যারিবীয় দলের পেসার আলজারি জোসেফ ১৩ উইকেট নিয়ে আছেন সেরা পাঁচের মধ্যেই (তিন নম্বর)।