২১ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

চট্টগ্রামে এবার বিলবোর্ড রেখে রেলের জমি দখল

  • কক্সবাজারে সরানোর কেউ নেই

মাকসুদ আহমদ, চট্টগ্রাম অফিস ॥ সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) উচ্ছেদ করা অবৈধ বিলবোর্ডের ভাগাড়ে বেদখল হয়েছে রেলের জায়গা। কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে রাতের আঁধারে গত প্রায় দু’মাস ধরে চলছে অবৈধ বিলবোর্ড উচ্ছেদ অভিযান। জেলা প্রশাসন ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে এ উচ্ছেদ অভিযান চললেও অবৈধ বিলবোর্ড কোথায় সংরক্ষণ হচ্ছে, তা নিয়ে মাথা ব্যথা নেই জেলা প্রশাসন ও সিটি কর্পোরেশনের। তবে পুলিশকে ম্যানেজ করে অবৈধরা আবারও সরকারী জায়গা লোপাটের মতো অপরাধে নেমেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ রয়েছে, অবৈধ এসব বিলবোর্ড খ-বিখ- করে রাখা হচ্ছে রেলের খালি জায়গায়। রেলওয়ে সেন্ট্রাল বিল্ডিং (সিআরবি) সংযোগ সড়ক থেকে শুরু করে পাহাড়তলী পুলিশ বিট পর্যন্ত প্রায় ৫ একর জায়গা অবৈধ দখলে চলে গেছে। অবৈধ বিলবোর্ডের এসব মালিক একদিকে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও অন্যদিকে ভবিষ্যত লাভের আশায় দখল করে নিচ্ছে রেলের জায়গা। শুধু তাই নয়, নগরীর প্রধান প্রধান সড়কগুলোর ফুটপাথ, আইল্যান্ড, রোড ডিভাইডার এমনকি রাস্তার পাশে ছোটখাটো জায়গাও বেদখল হয়ে যাচ্ছে। পূর্বাঞ্চলীয় রেলের বিভাগীয় এস্টেট বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, কর্পোরেশন বা জেলা প্রশাসন সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় উচ্ছেদ হচ্ছে অবৈধ বিলবোর্ড। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এসব বিলবোর্ড রাখা হচ্ছে রেলের জায়গায়। টাইগারপাস মোড়ের পাশেই সিআরবি সড়কে রাখা হয়েছে বেশকিছু বিলবোর্ডের কাটা অংশ।

এদিকে টাইগারপাস থেকে পুলিশ বিট সড়কের ইঞ্জিনিয়ারিং কলোনির খেলার মাঠেই প্রায় এক একর জায়গা দখল করে রাখা হয়েছে ১০-১৫টি বিলবোর্ডের কাটা অংশ। আমবাগান লোহারপুল এলাকায় নতুন ব্রিজের উপরেই রাখা হয়েছে কয়েকটি বিলবোর্ডের কাটা অংশ। পাহাড়তলী নিউস্টোর ডিপোর দেয়াল ঘেঁষে রাখা হয়েছে শতাধিক বিলবোর্ডের অংশবিশেষ। আমবাগান অফিসার্স কলোনির সামনের সড়কের পাশেই রাখা হয়েছে কয়েকটি বিলবোর্ডের কাটা অংশ। এস্টেট বিভাগ সূত্রে অভিযোগ, আবাসিক এলাকার দেয়াল ঘেঁষে এমনকি নিউস্টোর ডিপোর দেয়াল ঘেঁষে বিলবোর্ডের যে সব অংশ রাখা হয়েছে, তাতে যে কোন মুহূর্তে ধসে পড়তে পারে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে রেল কর্তৃপক্ষ। কারণ কয়েক শ’ কোটি টাকা মূল্যের রেলের স্পেয়ার পার্টস মজুদ রয়েছে নিউ স্টোর ডিপোতে। এ ব্যাপারে রেলের বিভাগীয় ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা (সদর) আবদুল বারী জনকণ্ঠকে বলেন, কর্পোরেশনের উচ্ছেদ বিলবোর্ড রেলের জায়গায় রাতের আঁধারে জমাট করা হচ্ছে। এতে রেলের জায়গা অবৈধ দখলদারদের হাতে যেমন চলে যাচ্ছে, তেমনি আবাসিক এলাকায় নিরাপত্তায় বিঘœও ঘটছে। অপরদিকে রেলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দফতরের দেয়াল ঘেঁষে এসব ভারি বিলবোর্ডের অংশ রাখার ফলে যে কোন মুহূর্তে বিপর্যয় ঘটতে পারে।

এইচএম এরশাদ কক্সবাজার থেকে জানান, দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে বড় আকারে নিজেদের ছবি দিয়ে অতি উৎসাহী কিছু নেতাকর্মী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও জয়ের ছোট ছোট ছবি সংবলিত ব্যানার, পোস্টার ও ফেস্টুনে ছেয়ে ফেলেছে কক্সবাজারের প্রধান সড়কের পার্শ্ববর্তী এলাকা। বিভিন্ন নেতাকে অভিনন্দন, শুভেচ্ছা স্বাগতম জানিয়ে স্বাস্থ্যকর স্থান বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার শহর ও শহরতলীতে সহস্রাধিক পোস্টার, ব্যানার, বিলবোর্ড ও ফেস্টুন লাগানো হয়েছে। অথচ এতবড় ছবি দিয়ে ব্যানার পোস্টার না লাগানোর জন্য নেতাকর্মীদের কাছে কিছুদিন পূর্বে দলীয় হাইকমান্ড থেকে নির্দেশনা আসে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মুক্তিযোদ্ধা বলেন, নিজেদের জাহির করতে হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতিসাপেক্ষে যতবড়ই ব্যানার বা ফেস্টুন ঝোলাতে পারে অতি উৎসাহী নেতাকর্মীরা। তবে তাদের ওসব ব্যানার-ফেস্টুনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও প্রধানমন্ত্রী পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের ছোট ছোট ছবি লাগানোটা স¤পূর্ণ বেমানান। তিনি আরও বলেন, ব্যানারে বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবির আকারও বড় করলে ওসব ব্যানার ফেস্টুনের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পাবে। এদিকে দীর্ঘ ১০ মাস থেকে এক বছর আগে লাগানো ব্যানার, পোস্টার, বিলবোর্ড ও ফেস্টুন শহর ও বিভিন্ন উপজেলা সদরে দৃশ্যমান হলেও এগুলো সরানোর কেউ নেই।