২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কুর্দি মিলিশিয়াদের ওপর তুরস্কের গোলাবর্ষণ

  • সিরিয়ায় আইএসের বিরুদ্ধে স্থল অভিযানে সৈন্য ও বিমান পাঠাচ্ছে সৌদি আরব

তুরস্ক সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে কুর্দি মিলিশিয়াদের ওপর গোলাবর্ষণ করেছে এবং দাবি করেছে, মিলিশিয়ারা যে এলাকা দখল করেছে সেখান থেকে তাদের পিছু হটতে হবে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী আহমেত দাভুতোগলু। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, তারা সৌদি আরবের সঙ্গে সিরিয়ায় ইসলামিক স্টেটের (আইএস) জঙ্গীদের বিরুদ্ধে স্থল হামলা চালানোর বিষয়টি ভেবে দেখছেন। তিনি বলেছেন, রিয়াদ তুরস্কের সামরিক বিমানঘাঁটি ইনসিরলিকে সৈন্য ও জঙ্গী বিমান পাঠাচ্ছে। খবর বিবিসি ও ইন্ডিপেনডেন্ট অনলাইনের।

ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র কুর্দি মিলিশিয়াদের ওপর গোলাবষর্ষণ বন্ধের জন্য তুরস্কের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে এবং আইএসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে জোর দিতে বলেছে। বিশ্ব শক্তিগুলো এক সপ্তাহের মধ্যে সিরিয়ায় বৈরিতা অবসানে উদোগ গ্রহণের জন্য একমত হয়েছে। তুরস্ক যে সব লক্ষ্যস্থলে গোলাবর্ষণ করেছে সেগুলোর মধ্যে মেনাঘ বিমানঘাঁটি রয়েছে। ওয়াইপিজি হিসেবে পরিচিত কুর্দি মিলিশিয়া গ্রুপ বৃহস্পতিবার সিরীয় ইসলামপন্থী বিদ্রোহীদের কাছ থেকে দখল করে নেয়। দাভুতোগলু তুর্কি টিভিতে এক ভাষণে সতর্কতা উচ্চারণ করে বলেন, ওয়াইপিজি বিমানঘাঁটি ছেড়ে না গেলে তুরস্ক তার প্রতিশোধ নেবে। এ বিমানবন্দরে অবস্থান আজাজ শহরের দক্ষিণে এবং তুর্কি সীমান্তের কাছে। কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টির (পিকেকে) কুর্দি গেরিলাদের সঙ্গে ওয়াইপিজির সম্পর্ক রয়েছে বলে তুরস্ক মনে করে। পিকেকে কয়েক দশক ধরে নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। জাতিগত আরব ও তুর্কমেনদের ওপর হামলার জন্য কুর্দি মিলিশিয়াদের অভিযুক্ত করেন দাভুতোগলু। এ হামলাকে যুদ্ধাপরাধ বলে মনে করে তুরস্ক। মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র জন কিরবিও নতুন এলাকা দখল করে গোলমেলে পরিস্থিতি সৃষ্টির সুযোগ গ্রহণ না করার জন্য ওয়াইপিজির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। কিরবি বলেছেন, তুরস্ক ও ওয়াইপিজিÑ উভয়ের কাছে হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে আইএস। আইএস যোদ্ধাদের অবস্থান আজাজ শহরের পূর্বদিকে।

যুক্তরাষ্ট্র এ পর্যন্ত সিরিয়ায় স্থল হামলার বিষয়টি বিবেচনায় আনেনি। মস্কো এ ধরনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সতর্কতা উচ্চারণ করে বলেছে, তা এক বিশ্বযুদ্ধে গড়াতে পারে। অন্যদিকে, সিরীয় প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ শুক্রবার বলেছেন, বিদ্রোহীদের কাছ থেকে পুরো নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তার। রাশিয়া বিমান হামলার সহায়তায় সিরীয় সরকারী বাহিনী উত্তরাঞ্চলীয় আলেপ্পো শহরের কিছু অংশ প্রায় ঘিরে ফেলেছে। তার পরও সিরিয়ায় বেসামরিক লোক নিহত হওয়ার কারণে পাশ্চাত্য দেশগুলোর চাপের মুখে রয়েছে রশিয়া।

এক পর্যবেক্ষক গ্রুপ বলেছে, রুশ বিমান হামলায় এ পর্যন্ত অন্তত ১ হাজার ১৫ জন বেসামরিক লোক নিহত হয়েছে। সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে আলাউইত নেতৃত্বাধীন আসাদ সরকারের প্রতি সমর্থন দিচ্ছে ইরান, রাশিয়া ও লেবাননের হিজবুল্লাহ আন্দোলন। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের সঙ্গে তুরস্ক, সৌদি আরব এবং কাতার সমর্থন দিচ্ছে সুন্নি আধিপত্যাধীন বিরোধী পক্ষ।

নির্বাচিত সংবাদ