১৫ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ভাষার প্রতি প্রজন্মের আগ্রহ -আবু সুফিয়ান কবির

বাংলা ভাষার জন্য প্রাণ দেয়ার ঘটনা ইতিহাসের এক অনন্য নজির। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ভাষার জন্য প্রাণ দিয়েছিল বাংলা মায়ের দামাল ছেলেরা। ভাষা শহীদের স্মরণ করতে আমরা ছুটে যাই শহীদ মিনারে। ২০০০ সালের আগে থেকে শুধুমাত্রই আমরা এই ভাষা শহীদ দিবস পালন করেছি। তারপর থেকে ২১ ফেব্রুয়ারি পালিত হয়ে আসছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে। বিষয়টি আমাদের বাঙালী জাাতির জন্য গর্বের বিষয়।

আজকাল আমরা প্রায় লক্ষ্য করে থাকি আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিষ্ঠার প্রয়াসে অনেকে বাংলা ভাষার প্রতি অনীহা প্রকাশ করছে। এর ফলে আমাদের আজকের আধুনিক প্রজন্ম জানতে বা অনুভব করতে পারছে না যে আমাদের ভাষার মহত্ত্ব, এর ভিতরের শাণিত চেতনা, দেশপ্রেম ও স্বাধীকারের বিষয়গুলো। মনে রাখতে হবে এ অঙ্গনে বাংলা ভাষা প্রতিষ্ঠা হয়েছিল বলেই আমরা একসময় স্বাধীন দেশ পেয়েছিলাম। আর স্বাধীন দেশ পেয়েছিলাম বলেই আমরা বিশ্বে আজ একটি প্রতিষ্ঠিত জাতি হিসেবে পরিচিত লাভ করতে যাচ্ছি। দেশের প্রতিটি অভিভাবকদের মনে রাখতে হবে আপনি আপনার সন্তানের জানতে দিন বাংলা ভাষায় কথা বলার ইতিহাস ও দেশের স্বধীনতার প্রেক্ষাপট। তবেই শিশুদের মধ্যে দেশপ্রেম গড়ে উঠবে, তারা দেশকে ভাল বাসতে শিখবে। তারা অনুভব করতে পারবে ভাষার জন্য নিঃস্বার্থ ভালভাসার কথা। আর এসব যখন একটি শিশুর মনে গেঁথে যাবে তখন সে সত্য ইতিহাস জানায় আগ্রহী হবে। আর ভাষার মহত্ত্ব ও বাঙালী জাতির উন্নয়নের চরম শিখরে পৌঁছাতে আপনার প্রয়োজন আপনার শিশুকে শহীদ মিনারের সঙ্গে পরিচয় ঘটানো।

সম্প্রতি কয়েক বছর আগে জাতিসংঘের সমীক্ষায় জানানো হয় বাংলা ভাষা হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে মধুরতম ভাষা। বেইজিং অলেম্পিকে যখন ১৯০টি দেশে জাতীয় সঙ্গীত বাজানো হয়ছিল তখন শ্রেষ্ঠত্বের বিচারে আমার সোনার বাংলার স্থান হয়ছিল ২য় স্থানে। সেখানে বলা হয়ছিল এই সঙ্গীতটার কোন হামবড়া ভাব নেই, আছে নিজের দেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কাব্যময় বর্ণনা, আর আছে তাকে ভালবাসার কথা। আজ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তৈরি হচ্ছে শহীদ মিনার। আর শহীদ মিনারে যাওয়া মানেই বাংলা ভাষাকে শ্রদ্ধা জানানো, বাংলাদেশকে জানা। তাই আমাদের জাতীয় জীবনে শহীদ মিনারের গুরুত্ব অসিম।

১৯৫২ সালে ভাষা শহীদের স্মরণে নির্মাণ করা হয় শহীদ মিনার। এই মিনার আমাদের জাতীয় জীবনের এরকম এক প্রতীক যার আবেদন কখনও অতিক্রম করা যাবে না। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের পর ২২ ফেব্রুয়ারি রাত থেকে শহীদ মিনার তৈরির পরিকল্পনা নেয়া হয়। ২৩ ফেব্রুয়ারিতে শহীদ মিনারের কাজ শুরু হয়। শহীদ শফিউর রহমানের পিতাকে এনে ২৪ ফেব্রুয়ারি মিনারটি উদ্বোধন করা হয়েছিল। ২৬ তারিখ আবুল কাশেম শামসুদ্দিন উদ্বোধন করেন। প্রথম শহীদ মিনারের নকশা করেছিলেন মেডিক্যাল ছাত্র সাঈদ হায়দার।

১৯৫৬ সালে দ্বিতীয় শহীদ মিনার নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেন তৎকালীন সরকার। এই মিনারটির পরিকল্পনা ছিল অসাধারণ। নানা ঘাত প্রতিঘাত অতিক্রম করে হামিদুর রহমানের নকশায় শহীদ মিনার নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ১৯৫৮ সালে আইয়ুব খান সরকার মার্শাল ল জারি করলে শহীদ মিনার নির্মাণ কাজ ব্যাহত হয়। ১৯৭১ সালে ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী মিনারটি সম্পূর্ণ গুঁড়িয়ে দেয়। দেশ স্বাধীনতার প্রায় চল্লিশ বছর অতিবাহিত হয়েছে কেন হামিদুর রাহমানের নকশায় পূর্ণাঙ্গ শহীদ মিনার নির্মাণ হয়নি সেটা একটি প্রশ্ন। শহীদ মিনার আমাদের সর্বশ্রেষ্ঠ মর্যাদার প্রতীক হওয়ার পরও কেন আজও তা পূর্ণাঙ্গ রূপ লাভ করেনি।

ছবি : সাকিব মোজাম্মেল

মডেল : রানা, শাকিলা, কনা, নাজিমন তুষার

স্নিগ্ধা ও তাসনিম

পোশাক : নিত্য উপহার ও কাপড়-ই-বাংলা