১৩ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ন্যাটো ধ্বংস করতে চান পুতিন

  • সিরিয়া যুদ্ধ কি এই সুযোগ করে দিচ্ছে?

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন ন্যাটো ধ্বংস করে দিতে চান। আর সিরীয় যুদ্ধ হয়ত তাকে এ সুযোগই দিচ্ছে। ন্যাটোর সঙ্গে রাশিয়ার মধ্যকার সংঘর্ষের ঝুঁকিসহ সিরীয় শহর আলেপ্পো এখন ইউরোপীয় নিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকি হয়ে দেখা দিয়েছে। এদিকে জার্মানির মিউনিখে অনুষ্ঠিত শান্তি আলোচনা ও আলেপ্পোর বর্তমান অবস্থা গত সপ্তাহে দুটি বিষয় পরিষ্কার করে দিয়েছে- এক. রাশিয়ার শক্তি প্রদর্শনী চালিয়ে যাওয়া এবং দুই. সিরীয় সরকার বিরোধীদের যুক্তরাষ্ট্রের পরিত্যক্ত মনে করা। খবর টেলিগ্রাফ ও গার্ডিয়ানের।

অস্ত্রবিরতি কখন অস্ত্রবিরতি নয়? সম্ভবত যখন এটি একটি রক্তপিপাসু স্বৈরাচারী শাসককে তার বিদ্রোহী জনগণের উপর ব্যারেল বোমার মতো ব্যাপক ধবংসাত্মক অস্ত্র ব্যবহার অব্যাহত রাখার অনুমতি দেয়। এ কারণেই সিরিয়ার জন্য করা দেশজুড়ে অস্ত্রবিরতি বিশেষভাবে অকার্যকর হবে। সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের রুশ বন্ধুরা নিশ্চিত করেছেন যে, মিউনিখে স্বাক্ষরিত অস্ত্র চুক্তি কাউকেই সন্ত্রাসীদের ওপর হামলা চালানো থেকে বিরত রাখতে পারবে না। যেসব সিরীয় দেশটির প্রেসিডেন্টের বিরোধিতা করেছেন তাদের সন্ত্রাসী বলে অভিহিত করেছেন আসাদ। সুতরাং যুক্তি অনিবার্য যে, সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হবে। যেহেতু আসাদের শত্রুরা সন্ত্রাসী তাই সরকার স্বাভাবিকভাবেই তাদের ওপর হামলা চালাবে। রাশিয়ার বিমান হামলা ও ইরানের স্থলসৈন্যর সহায়তায় আসাদ এখন আলেপ্পো ঘেরাও সম্পন্ন করছেন এবং অ-ইসলামপন্থী বিদ্রোহীদের দখলকৃত সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলের শেষ এলাকাটুকুও দখল করবেন তিনি। এরপরও এখনও তিনি চুক্তির শর্তাবলী মেনে চলছেন। সিরিয়ার বর্তমান অবস্থা এখন আরও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। আলেপ্পোকে ঘিরে যে নতুন ট্যাজেডি সৃষ্টি হয়েছে, তা ইউরোপের নিরাপত্তার প্রতি হুমকি হয়ে উঠেছে এবং সন্ত্রাসবাদের বিপদ দেখা দিয়েছে। এতে ন্যাটোর সঙ্গে রাশিয়ার সরাসরি দ্বন্দ্বের ঝুঁকি বাড়ছে। এর ফলে আমরা দেখতে পাচ্ছি যে, ন্যাটোর সবচেয়ে প্রকাশ্য ইউরোপীয় সদস্য দেশগুলোকে বিপদে ফেলেছে এবং এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে যে, পুতিন বাল্টিক দেশগুলো দখল করে নিতে পারে। কিন্তু ভুলে গেলে চলবে না যে, তুরস্কও ন্যাটোর সদস্য।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইপ এরদোগান ইতোমধ্যেই দুটি উদ্দেশ্যে সিরীয় সীমান্তে সৈন্য পাঠানোর হুমকি দিয়েছেন। একটি হলো সিরিয়ায় তার বিদ্রোহী মিত্রদের পরাজয় রোখা, অপরটি হলো সীমান্ত বরাবর বাফার জোন তৈরি করা। এরদোগান যদি সিরিয়া সীমান্তে সৈন্য মোতায়েন করে তাহলে সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে তুর্কি বাহিনীর ওপর বিমান হামলার মাধ্যমে রাশিয়ার প্রতিক্রিয়া। এর পরের দৃশ্যপট কী হতে পারে? সিরিয়ার ভেতরে তুর্কি বাহিনীর ওপর রুশ হামলার পর এরদোগান তার স্থল ইউনিটকে রক্ষার জন্য বিমানবাহিনী মোতায়েন করবেন এবং তারা তিনটি রুশ মিগ ভূপাতিত করবে। তখন রাশিয়া অবিলম্বে প্রতিশোধ নিতে তুরস্কের ভেতরে বিমান ঘাঁটিতে বোমা হামলা করবে। ক্রেমলিনের বোমায় তার বিমানবাহিনীর একটি ঘাঁটি ধ্বংস হলে এরদোগান তখন ঘোষণা করবেন, রাশিয়ার আগ্রাসনের শিকার হয়েছে তুরস্ক। তখন তিনি নর্থ আটলান্টিক ট্রিটি ন্যাটোর ‘ভি’ ধারা অনুযায়ী তার মিত্র দেশগুলোর সহায়তা দাবি করবেন। এ ধারা অনুযায়ী, ন্যাটো সদস্যভূুক্ত একটি দেশে সশস্ত্র হামলা সব দেশের ওপর হামলা বলে বিবেচিত হবে। এদিকে বিশ্ব বাজারে তেলের দাম কমে গেলে, রাশিয়ার অর্থনীতিতে ধস নামতে পারে। তবে সিরিয়া যুদ্ধ নিয়ে এক সপ্তাহ ধরে সামরিক ও কূটনৈতিক বিশৃঙ্খলার পর পুতিন প্রমাণ করেছেন যে, তার বৈশ্বিক প্রভাব ও উচ্চাশা অর্থনৈতিক অস্থিরতা আরও বাড়িয়ে দিয়েছেন। এখন ধারণা করা হচ্ছে তিনি সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেবেন। আলেপ্পোর ধ্বংসস্তূপের মধ্যে হাজার হাজার বেসামরিক নাগরিক অবরুদ্ধ অবস্থার মুখোমুখি। এ অবস্থায় ইউরোপও আশঙ্কার মধ্যে রয়েছে যে, আবার নতুন করে ইউরোপমুখী শরণার্থী ঢল শুরু হতে পারে।