২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

যশোরে হুমকির মুখে বাড়ি ছাড়ল ৪০ পরিবার

স্টাফ রিপোর্টার, যশোর অফিস ॥ ‘তিনদিনের মধ্যে জায়গা খালি করে না দিলে বাড়িঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়ার হুমকি দিয়েছে পুলিশ। এর আগে মিথ্যা মামলায় অনেককে আসামি করেছে। আর প্রতিনিয়ত পুলিশ এসে হুমকি ধমকি দিচ্ছে। এ অবস্থায় চলে যাওয়া ছাড়া আর উপায় কী?’ বললেন গাড়িখানা এলাকা থেকে উচ্ছেদের শিকার পরিবারের সদস্যরা। এভাবেই যশোর শহরের গাড়িখানা এলাকায় ১শ’ বছর ধরে সরকারীভাবে বরাদ্দ নিয়ে বসবাসকারী ৪০টি পরিবারকে উচ্ছেদ করল পুলিশ। এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হয়ে যশোরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আসাদুল হক জানান, তারা সরকারী ওই সম্পত্তির কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করছেন। কাগজপত্র দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর অভিযোগ, সরকারী ওই জমি বরাদ্দ নিয়ে শত বছর ধরে তারা বসবাস করে আসছেন। হঠাৎ করে পুলিশ ‘গায়ের জোরে’ কোন ধরনের নোটিস ছাড়াই তাদের উচ্ছেদ করে দিয়েছে। এখন সেখানে পুলিশ ক্লাব বানানো হচ্ছে।

গাড়িখানা রোড এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সরকারী জমিতে বসবাসকারী ওই পরিবারগুলো তাদের ঘরবাড়ি ভেঙ্গে ফেলছে। আসবাবপত্রসহ বাড়ির জিনিসপত্র নিয়ে চলে যাচ্ছে। এর পেছনের অংশে পুলিশী প্রহরায় চলছে দেয়াল নির্মাণের কাজ।

উচ্ছেদের শিকার হালিমা খাতুন জানালেন, ১শ’ বছর ধরে তার পূর্বপুরুষরা এই জমি বরাদ্দ নিয়ে বসবাস করে আসছেন। হঠাৎ করে পুলিশ এই জমি তাদের দাবি করে হুমকি ধমকি দিয়ে চলে যেতে বলেছে। তারা সব জায়গায় দেনদরবার করেছেন, সময় চেয়েছেন। কিন্তু কোন কাজ হয়নি। তাই বাধ্য হয়ে বাড়িঘর ছেড়ে চলে যাচ্ছেন।

অশ্রুসিক্ত আরেক গৃহবধূ সালমা বেগম জানালেন, ভয়-আতঙ্কে গত তিনদিন ধরে তাদের কোন খাওয়া নেই। সকাল বিকেল পুলিশ এসে হুমকি দিয়ে জায়গা খালি করতে বলছে। তাই তারা চলে যাচ্ছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন জানালেন, গত বুধবার রাতে ট্রাফিক অফিসের সামনে বোমাবাজির ঘটনায় এই জমির বাসিন্দাদের নামে মামলা করা হয়েছে। এখন হুমকি দেয়া হচ্ছে জায়গা খালি না করলে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। আর উল্টো মামলা করা হবে। এমন হুমকি ধমকিতে তারা আতঙ্কিত। আর এই অত্যাচারের ঘটনায় তাদের পাশে যারা দাঁড়াচ্ছে পুলিশ তাদেরও হুমকি দিচ্ছে। তাই বাধ্য হয়ে তারা বাড়িঘর ছাড়ছেন।

ক্ষতিগ্রস্তরা জানান, ১৯১০ সালে শহরের গাড়িখানা রোড এলাকার সরকারী জমি বরাদ্দ নিয়ে গোপীনাথ রায় চৌধুরী, মাসুদ আলম, আসাদুজ্জামান শিপলুসহ বেশ কয়েকজন বংশানুক্রমে ভোগদখল করে আসছেন। কিন্তু জেলা প্রশাসন থেকে বরাদ্দ দেয়া জমিটি নিজেদের দাবি করে পুলিশ।