১৭ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ঠাকুরগাঁওয়ে সাংসদের নির্দেশে শিক্ষকদের বেতন-ভাতা স্থগিত॥ কলেজে তালা

ঠাকুরগাঁওয়ে সাংসদের নির্দেশে শিক্ষকদের বেতন-ভাতা স্থগিত॥ কলেজে তালা

নিজস্ব সংবাদদাতা, ঠাকুরগাঁও ॥ ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সাংসদ দবিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে হরিপুর উপজেলার কাঁঠালডাঙ্গী কেবি ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ ও এক শিক্ষকের বেতন-ভাতা স্থগিত করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সোমবারেও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয় লোকজন। এ ছাড়া এর প্রতিবাদে গত বৃহস্পতিবার থেকে কর্মবিরতি পালন করছেন শিক্ষক-কর্মচারীরা।

কাঁঠালডাঙ্গী কেবি ডিগ্রি কলেজ সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার শিক্ষক-কর্মচারীদের জানুয়ারি মাসের বেতন-ভাতার বিল তৈরি করে কলেজের অফিস সহকারী মো. আমিরুল ইসলাম ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি সোহরাব হোসেন প্রধানের কাছে স্বাক্ষরের জন্য নিয়ে যান। বিলে সোহরাব হোসেন স্বাক্ষরের আগে তালিকা থেকে কলেজের অধ্যক্ষ জালাল উদ্দিন প্রধান ও সহকারী অধ্যাপক জিয়াউল হাসানের নাম কেটে দেন। আমিরুল পরে বিষয়টি অধ্যক্ষকে জানান। অধ্যক্ষসহ আরেক শিক্ষকের বেতন-ভাতা স্থগিত রাখায় কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। এর প্রতিবাদে শিক্ষক-কর্মচারীরা গত বৃহস্পতিবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস বর্জনসহ কর্মবিরতি শুরু করেন।

ওই খবর ছড়িয়ে পড়লে সোমবারেও কলেজ চত্বরে বিক্ষোভ করেন স্থানীয় লোকজন। পরে তাঁরা কলেজে ফটকে তালা লাগিয়ে দেন। এতে কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীরা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন।

এ বিষয়ে হরিপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সহকারী অধ্যাপক জিয়াউল হাসান বলেন, ‘রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের কারণে মামলা দিয়ে হয়রানি করেও দমাতে না পেরে এখন সাংসদ কলেজের শিক্ষকতা চাকরির ওপর হস্তক্ষেপ করছেন। এ কারণে কোনো ধরনের অনিয়ম না থাকলেও কলেজ কমিটির সভাপতির ওপর চাপ দিয়ে আমার বেতন-ভাতা স্থগিত করার অপচেষ্টা করছেন। এ সিদ্ধান্তে স্থানীয় লোকজনের মনে ক্ষোভ দেখা দেওয়ায় তাঁরা বিক্ষোভ করেছেন।’

কলেজের অধ্যক্ষ জালাল উদ্দিন প্রধান বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আলোচনার জন্য তিনি কলেজের জমিদাতা এক সদস্যকে ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতির কাছে পাঠান। এ সময় কমিটির সভাপতি তাঁকে (জমিদাতা সদস্য) জানান, স্থানীয় সাংসদ দবিরুল ইসলাম ওই দুজনের বেতন-ভাতা স্থগিত করতে পরামর্শ দিয়েছেন।

কলেজের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি সোহরাব হোসেন প্রধান বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের কারণেই তাঁদের বেতন-ভাতা স্থগিত করা হয়েছে। বেতন-ভাতা স্থগিত করার আগে তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, লিখিতভাবে নয়, মৌখিকভাবে কয়েক দফা বলা হয়েছে। তবে এ সিদ্ধান্তের পেছনে সাংসদের হাত রয়েছে বলে যে অভিযোগ, তা তিনি অস্বীকার করেন। সাংসদ মো. দবিরুল ইসলামও শিক্ষকদের বেতন-ভাতার ওপর হস্তক্ষেপ করার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।