১৮ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

জিকা ভাইরাস

বর্তমানে সারাবিশ্বে একটি বহুল আলোচিত নাম জিকা ভাইরাস। সর্বপ্রথম ব্রাজিল ও লাতিন আমেরিকায় ছড়িয়ে পড়ে জিকা ভাইরাস। পরে অচিরেই তা ছড়িয়ে পড়ে আফ্রিকা ও অন্যত্র। ইউরোপ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও শনাক্ত হয়েছে ভাইরাসটি। বাংলাদেশসহ উপমহাদেশে জিকা ভাইরাসবাহিত রোগী সুনির্দিষ্টভাবে শনাক্ত না হলেও বিশ্বায়নের যুগে যে কোন মুহূর্তে তা সম্ভব হতে পারে। তদুপরি জিকা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে এডিস মশার মাধ্যমে, যে প্রজাতির মশাটি এ দেশেও সহজলভ্য।

উল্লেখ্য, এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু ও এনসেফালাইটিস প্রায়ই ছড়িয়ে পড়ে বাংলাদেশ, পশ্চিমবঙ্গ, অসম ও ত্রিপুরায়, বিশেষ করে বর্ষার শুরুতে ও শেষে। তবে আশার কথা এই যে, ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে কার্যকর টিকা অদ্যাবধি না পাওয়া গেলেও সময়োপযোগী সুচিকিৎসার মাধ্যমে ডেঙ্গু রোগ নিয়ন্ত্রণে আনা অনেকটাই সম্ভব হয়েছে। কিন্তু জিকা ভাইরাসের বিরুদ্ধে মানুষের প্রতিরোধ এখনও অনায়ত্ত। আর তাই আশঙ্কাও ক্রমবর্ধমান।

বিজ্ঞানী ও গবেষকরা জিকা ভাইরাস প্রথম শনাক্ত করেন ১৯৪৭ সালে। আফ্রিকার দেশ উগান্ডার একটি বনের নাম জিকা। সে বনের বানর থেকে প্রথম এ ভাইরাস শনাক্ত করা সম্ভব হয়। এডিস মশার মাধ্যমে পরে ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ে প্রায় সর্বত্র। তবে জিকা ভাইরাস আক্রান্ত ব্যক্তির মাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। এমনকি যৌন সংসর্গের মাধ্যমেও রোগটি ছড়িয়ে পড়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে।

উল্লেখ্য, বর্তমান বিশ্বের এক নম্বর ঘাতক মারণব্যাধি এইচআইভি এইডসও প্রথম শনাক্ত হয়েছিল আফ্রিকার বানর ও শিম্পাঞ্জির মধ্যে এবং অচিরেই তা ছড়িয়ে পড়ে মানুষের মাধ্যমে। জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর লক্ষণ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীর মতোই। তীব্র জ্বর, প্রবল শরীর ব্যথা, হাড় ব্যথা, পেট ব্যথা ইত্যাদি। দুর্ভাগ্য হলো, জিকায় আক্রান্ত রোগের বিরুদ্ধে কার্যকর কোন প্রতিষেধক নেই। প্রচলিত কোন এ্যান্টিবায়োটিকও কাজ করে না এর বিরুদ্ধে। তদুপরি যেসব গর্ভবতী মা জিকায় আক্রান্ত হয়ে সন্তান প্রসব করেন তাদের সন্তান হয় অপরিণত, মাথা বড়, শরীর ছোট, সর্বোপরি বুদ্ধি প্রতিবন্ধী। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আশঙ্কা, এ ভাইরাসের কারণে দুটি জন্মগত রোগÑ মাইক্রোসেফালি ও গুলেনবারি সিনড্রম নিয়ে জন্মগ্রহণ করে থাকে অপরিণত মস্তিষ্কের শিশু। সেজন্য ভাইরাসটি প্রতিরোধে ইতোমধ্যেই জরুরী অবস্থা ঘোষণা করেছে হু। ব্রাজিল জিকার বিরুদ্ধে সংগ্রামে দুই লাখ সেনা মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছে। কোন কোন দেশে আগামী দু’বছর মহিলাদের গর্ভধারণ না করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। এ অবস্থায় বাংলাদেশেও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম বাড়ানো অত্যাবশ্যক। কেননা, এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু, চিকনবুনিয়া প্রায়ই এখানে হামলা করে থাকে।

বর্তমান বিশ্ব একটি অস্থির পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে সময় অতিবাহিত করছে। যুদ্ধবিগ্রহ, হানাহানি, মারামারি, রক্তারক্তি বিশ্বের কোথাও না কোথাও লেগেই আছে। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত খরা, অনাবৃষ্টি, অতিবৃষ্টি, ভূমিকম্পসহ অপুষ্টি ও অনাহারও কম নয়। এর পাশাপাশি বাড়তি উপদ্রব নিত্যনতুন রোগব্যাধি, ডেঙ্গু, চিকনবুনিয়া, এইচআইভি এইডস, সোয়াইন ফ্লু, বার্ড ফ্লু, এ্যানথ্রাক্স, ইবোলা ভাইরাস, জিকা ভাইরাস ইত্যাদি। পুরনো ওষুধবিষুধ, এ্যান্টিবায়োটিক ও প্রতিষেধক বাতিল হয়ে যাচ্ছে। সে অবস্থায় নতুন রোগব্যাধির বিরুদ্ধে নতুন প্রতিষেধক আবিষ্কার এখন সময়ের দাবি।