১২ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মেসি-সুয়ারেজের শতাব্দী সেরা পেনাল্টি!

মেসি-সুয়ারেজের শতাব্দী সেরা পেনাল্টি!

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ দু’পায়ের কারুকাজ দিয়ে ইতোমধ্যে জয় করে নিয়েছেন শত্রু-মিত্র সবার মন। ধারাবাহিক জাদুকরী পারফর্মেন্স প্রদর্শন করা লিওনেল মেসি বর্তমানেও বিশ্বসেরা ফুটবলার। ফুটবল মাঠে যিনি হরহামেশাই এমন সব কীর্তি করেন, যার বর্ণনা দিতে গিয়ে বিশেষণ হারিয়ে ফেলেন ধারাভাষ্যকার থেকে শুরু করে সবাই।

রবিবার রাতে স্প্যানিশ লা লিগার ম্যাচে সেল্টা ডি ভিগোর বিপক্ষে এমন আরেকটি মহান কাজ করেছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। যার প্রশংসায় মুখর এখন ফুটবলবিশ্ব। ম্যাচের ৮১ মিনিটে বার্সিলোনা পেনাল্টি পায়। ওই সময় ৩-১ গোলে এগিয়ে থাকায় জয় প্রায় নিশ্চিতই হয়ে গিয়েছিল কাতালানদের। পেনাল্টি শট নিতে আসেন মেসি। এই গোলটি করতে পারলেই লা লিগায় ৩০০ গোল করার অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করতে পারতেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। কিন্তু সবাইকে অবাক করে দিয়ে অদ্ভুত এক কা- ঘটান বর্তমান ফিফা সেরা তারকা।

গোলপোস্ট লক্ষ্য করে জোরালো শট নেয়ার বদলে মেসি আলত করে টোকা দেন বলে। পেছন থেকে দৌড়ে এসে শট নিয়ে বল জালে জড়ান লুইস সুয়ারেজ। এই গোল করেই হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন উরুগুয়ের স্ট্রাইকার। ফুটবলে এমন অদ্ভুত পেনাল্টি খুব কমই দেখা গেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম তাই মেসি-সুয়ারেজের এই পেনাল্টিকে ঘোষণা দিয়েছে ‘শতাব্দীর সেরা পেনাল্টি’ হিসেবে। অনেকেই ভাবতে পারেন, আচমকা এমন অদ্ভুত পেনাল্টি কেন নেবেন মেসি ও সুয়াজে। তবে এমন একটা পেনাল্টি নেয়া হবে, সেটি অনুশীলনেই না কি ঠিক করা ছিল বলে জানিয়েছেন নেইমার। তবে সেটি মেসি-সুয়ারেজ নয়, মেসি-নেইমার যুগলবন্দীতেই না কি হওয়ার কথা ছিল।

এ প্রসঙ্গে নেইমার বলেন, এটা আমার জন্যই পরিকল্পনা করা ছিল। আমরা এটা অনুশীলনও করেছি। কিন্তু লুইস বলের কাছে আগে চলে গেছে। যা-ই হোক, ব্যাপার না। ও গোল ?করেছে, পরিকল্পনাটা তাই কাজেই লেগেছে। ক্যারিয়ারে ৮৩ পেনাল্টির ১৭টি মিস করা মেসি?র পেনাল্টি নিয়ে আলোচনা এই প্রথম নয়। তবে এবারেরটি যেন ছাপিয়ে গেল বাকি সবকিছুকেই। নেইমার অবাক না হলেও মেসির এই কা-ে তার বার্সা সতীর্থদের অনেকেই অবাক হয়েছেন বলে জানিয়েছেন জর্ডি এ্যালবা। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, লিও সব সময়ই নতুন নতুন জিনিস করার চেষ্টা করেন। আমরা এমন কিছু অনুশীলনেও দেখিনি। তিনি যে এমন কিছু করবেন, সেটা আমরাও জানতাম না। ক্রুইফের সেই গোলের স্মৃতিচারণ করেন বার্সিলোনা কোচ লুইস এনরিকে। তিনি বলেন, আমরা সবাই ক্রুইফের গোল মনে রেখেছি। আমি এ রকম করার সাহস করতাম না। তিনি আরও বলেন, কেউ এটা পছন্দ করবে, কেউ করবে না। কিন্তু বার্সিলোনার খেলোয়াড় এবং সদস্য হিসেবে শিরোপা জেতা ছাড়াও দুর্দান্ত কিছু করে আমরা আমাদের খেলাটা উপভোগের চেষ্টা করি।

এর আগে ইতিহাসে পেনাল্টি থেকে এমন গোল হয়েছে আরও তিনবার। সর্বপ্রথম ১৯৫৭ সালে বেলজিয়াম ও আইসল্যান্ডের মধ্যকার ম্যাচে। বেলজিয়ান ফুটবলার রিক কোপেনস ও আন্দ্রে পিটেরসের ওয়ান টু ওয়ান ছোট পাসে শেষ পর্র্যন্ত কোপেনস গোলটি করেন। পেনাল্টিতে শটটি প্রথমে নিয়েছিলেন কোপেনসই। ১৯৬৪ সালে ঘটে দ্বিতীয় ঘটনাটি। ইংলিশ এফ কাপে ম্যানচেস্টার সিটি ও প্লেমাউথের ম্যাচে মাইক ট্রিইব্লিকক ও জন ইউম্যানের মাঝে হওয়া এ পেনাল্টিতে গোল করেন ট্রিইব্লিকক। তৃতীয় অদ্ভুত পেনাল্টি শটটি সাবেক বার্সা কিংবদন্তি ইয়োহান ক্রুইফের। ১৯৮২ সালে আয়াক্সের হয়ে এমন একটি পেনাল্টি নিয়েছিলেন তিনি। হেলমন্ড স্পোর্টের বিপক্ষে ওই ম্যাচটিতে পেনাল্টি থেকে সরাসরি গোলে শট না নিয়ে সতীর্থ জেসপার ওলসেনের সঙ্গে ওয়ান-টু খেলেন। এরপর ফিরতি পাস থেকে ক্রুইফের গোল।

সর্বশেষ ২০০৫ সালে ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে এমন শট নিতে দেখা গিয়েছিল আর্সেনালের স্ট্রাইকার থিয়েরি অঁরিকে। কিন্তু সতীর্থ রবার্ট পিরেসের সঙ্গে ঠিকমতো বোঝাবুঝি না হওয়ায় গোলবঞ্চিত হন এ ফরাসী তারকা। মেসি-সুয়ারেজের অদ্ভুত পেনাল্টি দেখার পর অনেকের চোখ ছানাবড়া হয়েছে। অনেকেই মনে করেছেন এভাবে গোল হয় না! কিন্তু সবকিছু নিয়ম মেনে হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন ম্যাচ অফিসিয়ালরা। গোলটিতে তাই আপত্তি নেই সেল্টা ভিগো কোচ এডুয়ার্ডো বেরিস্সের। তিনি বলেন, পেনাল্টিটা ভিন্ন উপায়ে নেয়া হয়েছিল, আর কিছু নয়। বার্সিলোনার ফরোয়ার্ডরা আক্রমণের সময় খুব ক্ষুধার্ত। কিন্তু তারা প্রতিপক্ষের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।