১৭ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আজ পর্দা নামছে এসএ গেমসের

রুমেল খান ॥ গত ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ভারতের ভারতের অসম ও মেঘালয় রাজ্যের গুয়াহাটি এবং শিলংয়ে পর্দা উঠেছিল ‘দক্ষিণ এশিয়ার অলিম্পিক গেমস’ খ্যাত সাউথ এশিয়ান (এসএ) গেমসের দ্বাদশ আসরের। গেমসের পর্দা নামছে আজ মঙ্গলবার।

এই বর্ণাঢ্য ক্রীড়া আসরে প্রত্যাশার সঙ্গে প্রাপ্তির সেভাবে সমন্বয় ঘটাতে পারেনি বাংলাদেশ। ২০১০ ঢাকা এসএ গেমসে বাংলাদেশ ১৮ স্বর্ণ, ২৪ রৌপ্য ও ৫৫ তাম্রপদক পেয়েছিল। কিন্তু এবার তারা গতবারের ১৮ স্বর্ণের অর্ধেকও জেতেনি! অথচ গেমসে অংশ নিতে ভারত যাওয়ার আগে দলের কর্মকর্তারা বড় মুখ করে অনেক পদক জয়ের আশাবাদ ব্যক্ত করে গিয়েছিলেন। পদক বাংলাদেশ পেয়েছে ঠিকই, তবে সেগুলোর বেশির ভাগই তামা! কিছু পদক রুপার। আর যৎসামান্য সোনার।

রবিবার পর্যন্ত বাংলাদেশের অর্জন ছিল মাত্র ৪ সোনা। আর এই সোনার ৩টিই জিতেছেন নারী ক্রীড়াবিদরা। ভারোত্তোলনে মাবিয়া আক্তার সিমান্ত জেতেন প্রথম স্বর্ণটি। তারপর জলকন্যা মাহফুজা আক্তার শিলা সাঁতারে একাই জেতেন ২ স্বর্ণ। আর পুরুষদের মধ্যে একমাত্র স্বর্ণজয় করেন পিস্তল শূটিংয়ে শাকিল আহমেদ। এ্যাথলেটিক্স, কাবাডি, ফুটবল ... এই তিন ডিসিপ্লিন থেকে একটি সোনাও জেতেনি বাংলাদেশ। অথচ এই তিন খেলা নিয়ে বাংলাদেশী ক্রীড়াপ্রেমীদের আগ্রহ ছিল বেশি। বিশেষ করে ফুটবলে স্বর্ণ না পেলেও অন্তত রৌপ্য জেতা উচিত ছিল বলে মনে করেন অনেকেই। মহিলা ও পুরুষ উভয় দলই তামা জিতেছে। উভয় দলই হারে ভারতের কাছে। মহিলা দলের হার ছিল বেশি হতাশার। কেননা তারা ওই ম্যাচে ড্র করলেই ভারতকে টপকে ফাইনালে উঠতে পারত। কিন্তু ম্যাচে তারা হেরে যায় বড় ব্যবধানে। আর পুরুষ দল তো দুর্বল ভুটানের সঙ্গে শুরুতেই ড্র করে সমালোচিত হয়। পড়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে কোনমতে সেমিতে উঠলেও বাজে খেলে ভারতের কাছে হেরে বিদায় নেয়। গত আসরে বাংলাদেশের ১৮ স্বর্ণপদকের মধ্যে কারাতে ডিসিপ্লিনে চার, গলফে দুই ও ক্রিকেটে একটিসহ মোট ৭টি স্বর্ণপদক এসেছিল। এবারের আসরে ওই ইভেন্টগুলো না থাকায় পদক সম্ভাবনার দিক থেকে অনেক পিছিয়ে পড়ে বাংলাদেশ।

এসএ গেমসকে সামনে রেখে গত বছরের আগস্ট থেকে বাংলাদেশ অলিম্পিক এ্যাসোসিয়েশনের (বিওএ) উদ্যোগে বিভিন্ন ফেডারেশন তাদের প্রস্তুতিপর্ব শুরু করে। এবারের আসরে আরচারি, এ্যাথলেটিক্স, বক্সিং, ব্যাডমিন্টন, টেবিল টেনিস, কাবাডি শূটিং, সুইমিং, ভলিবল, তায়কোয়ানদো, ভারোত্তোলন, কুস্তি, সাইক্লিং, বাস্কেটবল, হ্যান্ডবল, ফুটবল, জুডো, টেনিস, হকি, খো খো, উশু ও স্কোয়াশসহ ২২ ডিসিপ্লিনে অংশ নেয় বাংলাদেশ। যদিও প্রাথমিকভাবে ১৯ ডিসিপ্লিন এসএ গেমসে অংশগ্রহণের জন্য নির্বাচিত করা হয়। পরবর্তীতে আরও ৩ নতুন ডিসিপ্লিন (খো-খো, স্কোয়াশ এবং টেনিস) অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় মোট ২২ ডিসিপ্লিনে বাংলাদেশ দল অংশগ্রহণ করে। বাংলাদেশ শুধু ট্রায়াথলন ডিসিপ্লিনে অংশ নেয়নি। এ প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের ২২৩ পুরুষ এবং ১৪৭ মহিলা খেলোয়াড়, ৬০ কোচ, ৩৯ ম্যানেজার এবং অন্য কর্মকর্তাসহ মোট ৪৬৯ সদস্যের দল অংশগ্রহণ করে। এই কন্টিনজেন্টের সঙ্গে বিভিন্ন ডিসিপ্লিনে ১১ বিদেশী প্রশিক্ষকও ছিলেন। তাছাড়া বাংলাদেশ অলিম্পিক এ্যাসোসিয়েশন, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, হেড কোয়ার্টার্স অফিসিয়াল এবং টিম ডাক্তারসহ সর্বমোট ৫২০ সদস্যবিশিষ্ট বাংলাদেশ দল গঠন করা হয়। তবে দল ভারি হলেও পদকের ঝোলা কিন্তু ততটা ভারি হয়নি! যা বাংলাদেশের জন্য লজ্জার, হতাশার।

নেপালের কাঠমান্ডুতে ১৯৮৪ সাল থেকে অনুষ্ঠিত হয় প্রথম এসএ গেমস। কখনও এক, কখনও দুই, চার ও পাঁচ বছরের বিরতি দিয়ে অনিয়মিতভাবে হয়ে এসেছে এই ক্রীড়া আসরটি। ভারত বরাবরই এ আসরে আধিপত্য বিস্তার করে এসেছে। এবারও তার ব্যত্যয় হয়নি। মোট পদকের বেশিরভাগই গেছে তাদের অধিকারে। গত আসরে শ্রীলঙ্কা ছিল চতুর্থ আর বাংলাদেশ ছিল তৃতীয় স্থানে। এবার বাংলাদেশকে টপকে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে লঙ্কানরা। কোন সন্দেহ নেই, অবিশ্বাস্য উত্থান! উত্থান ঘটেছে আফগানিস্তানেরও। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটি সোমবার পদক তালিকায় সোনাজয়ের দিক থেকে পেছনে ফেলে দিয়েছে বাংলাদেশকে। তারা এখন চার নম্বরে। বাংলাদেশ আছে পাঁচ নম্বরে।

পদক তালিকার সর্বনিম্ন স্থানে থাকা মালদ্বীপ ও ভুটান এখনও কোন স্বর্ণপদক করায়ত্ত করতে পারেনি। শেষ দিনে তারা প্রথম স্বর্ণপদক পাবে কি না, এ নিয়ে অনেকেরই উৎসুক দৃষ্টি থাকবে।

নির্বাচিত সংবাদ