২৩ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

তামা জিততেও ঘাম ঝরাল বাংলাদেশ!

  • এসএ গেমস পুরুষ ফুটবল, বাংলাদেশ ২ (৫) : ২ (৪) মালদ্বীপ

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ কষ্ট করিলে নাকি কেষ্ট মেলে। বাংলাদেশ অলিম্পিক ফুটবল দলও অনেক কষ্ট করেছে, অনেক ঘাম ঝরিয়েছে। কেষ্টও পেয়েছে। তবে সে কেষ্টর নাম সোনা নয়, রুপা নয়, একেবারে নিখাদ তামা! মান-মর্যাদা আগেই গেছে সেমিতে ভারতের কাছে এক হালি কম এক গোল মানে তিন গোলে হেরে। যেটুকু বাকি ছিল, তা কিছুটা হলেও বেঁচেছে সোমবার। এসএ গেমসে গুয়াহাটির ইন্ধিরা গান্ধী এ্যাথলেটিক স্টেডিয়ামে এদিন বাংলাদেশ দল মালদ্বীপের বিপক্ষে কষ্টার্জিত জয় কুড়িয়ে নেয় টাইব্রেকারে ৫-৪ গোলে জিতে। নির্ধারিত ১২০ মিনিটে খেলা ২-২ গোলে ড্র ছিল। এ জয়ে তারা জিতল তাম্রপদক। অনুসরণ করল বাংলাদেশ মহিলা ফুটবল দলের পদাঙ্ক। সর্বশেষ ২০১০ এসএ গেমসে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল বাংলাদেশ।

খেলায় ৯ মিনিটে ফরোয়ার্ড নাবিব নেওয়াজ জীবনের পেনাল্টি গোলে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ (১-০)। তবে ৩৮ মিনিটে আলি ফাসিরের গোলে সমতায় ফেরে মালদ্বীপ (১-১)। দ্বিতীয়ার্ধে এই ফাসিরের গোলেই ৬৫ মিনিটে উল্টো লিড নেয় মালদ্বীপ (২-১)। অবশ্য এই লিড বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারেনি তারা। ৪ মিনিট পরেই সমতা আনে বাংলাদেশ। এবারের গোলদাতা সোহেল রানা (২-২)। ৯০ মিনিটেও দুই দল আর কোন গোল করতে না পারায় খেলা গড়ায় টাইব্রেকারে। বাকি ৩০ মিনিটেও পল একই থাকে। ফলে খেলা গড়ায় টাইব্রেকারে। তাতে প্রথম পাঁচ শটের সবই লক্ষ্যভেদ করে বাংলাদেশ। তবে মালদ্বীপ চার গোল করলেও একটি গোল মিস করে আর তাতেই নিশ্চিত হয় বাংলাদেশের তামা জয়। প্রথম সেমিফাইনালে প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে মালদ্বীপ ৪-৩ গোলে হেরে যায় নেপালের কাছে। আর দ্বিতীয় সেমিতে ভারতের কাছে ৩-০ গোলে শোচনীয়ভাবে হেরেছিল বাংলাদেশ। হেড টু হেড পরিসংখ্যান মালদ্বীপের চেয়ে এগিয়ে রইল বাংলাদেশ। ৩ ম্যাচের প্রতিটিতেই জিতেছে তারা। সর্বশেষ ২০১০ এসএ গেমসে বাংলাদেশ গ্রুপ পর্যায়ের ম্যাচে ১-০ গোলে হারিয়েছিল মালদ্বীপকে।

বাংলাদেশ দলের সম্প্রতি বার্জে ফর্ম কোন নিশ্চয়তাই দিতে পারেনি না তারা তাম্রপদক জিততে পারবে কি না। সম্প্রতিক বিভিন্ন টুর্নামেন্টের পারফর্মেন্স বিচার করে বলা যায়- নেপাল, ভুটান, ভারত .... সবাই অনেক এগিয়ে গেছে ছেলেদের ফুটবলে। অবনতিটা হয়েছে শুধু বাংলাদেশের। সাফ-বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ-এসএ গেমস। এই তিন আসরে বাংলাদেশ জাতীয় দল এবং অনুর্ধ ২৩ দলের পারফর্মেন্সই তার প্রমাণ। সমস্যা উত্তরণে ইতোমধ্যে জাতীয় দলকে ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা নিয়েছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। কিন্তু একটি দেশের মূল জাতীয় দলের পরবর্তী দলটিই হলো অনুর্ধ ২৩ দল। জাতীয় দলের মূল পাইপলাইনই এটি। এই দলেরই যদি এ রকম অবস্থা হয়, তাহলে দেশের ফুটবলের ভবিষ্যত কোথায়!

নির্বাচিত সংবাদ