২৩ মে ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ইনিংস ব্যবধানে জয় অস্ট্রেলিয়ার

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ ওয়েলিংটনের বেসিন রিজার্ভ যেন অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় হোম ভেন্যু। ১৯৮৯-১৯৯০ সালের পর এখানে কোন ম্যাচ হারেনি সফরকারীরা। এবারও অব্যাহত থাকল সেই ধারা। ইনিংস ও ৫২ রানের বড় জয়ে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ১-০তে এগিয়ে গেল স্টিভেন স্মিথের দল। অন্যদিকে অধিনায়ক ব্রেন্ডন ম্যাককুলামের বিদায়ী আয়োজনের প্রথম লড়াইয়ে লজ্জায় ডুবল স্বাগতিক কিউইরা। ১৯৯৭ সালের পর এই প্রথম ঘরের মাটিতে ব্ল্যাক-ক্যাপসরা হারল ইনিংস ব্যবধানে! অস্ট্রেলিয়ার ৫৬২ রানের জবাবে প্রথম ইনিংসে ১৮৩ রানে অলআউট স্বাগতিকরা কাল চতুর্থ দিনে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে গুটিয়ে যায় ৩২৭ রানে। ২৩৯ রানের ম্যারাথন ইনিংস উপহার দিয়ে অসিদের জয়ের ‘নায়ক’ এ্যাডাম ভোজেস। ক্রাইস্টচার্চে শনিবার শুরু দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট, সিরিজ বাঁচাতে ম্যাককুলামের ‘ফেয়ারওয়েল’ ম্যাচটাতে জিততেই হবে কিউইদের।

বেসিন রিজার্ভ যেমন অতিথি অস্ট্রেলিয়ার জন্য পয়মন্ত, তেমনি স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের জন্য হতাশার নাম! কাকতালীয়, ১৯৯৭ সালে এই মাঠেই ঘরের মাটিতে সর্বশেষ ইনিংস ব্যবধানে হেরেছিল কিউইরা। ১৯ বছর পর একই লজ্জা নিয়ে হাজির সেই ওয়েলিংটন, সেই বেসিন রিজার্ভ। দু-দলের প্রথম ইনিংস শেষেই মূলত টেস্টের গতিপথ নির্ধারিত হয়ে যায়। অস্ট্রেলীয় বোলারদের তোপের মুখে ৪৮ ওভারে ১৮৩ রানে অলআউট হয় নিউজিল্যান্ড। সর্বোচ্চ ৪১* রান করেন নয় নম্বরে নামা মার্ক ক্রেইগ। এছাড়া কোরি এ্যান্ডারসনের ৩৮ ও শেষ ব্যাটসম্যান ট্রেন্ট বোল্টের ২৪ উল্লেখ্য। অভিষেক থেকে টানা শততম টেস্টের বিরল রেকর্ড গড়ে মাঠে নামা ম্যাককুলাম রানের খাতা খোলার আগেই সাজঘরে ফেরেন। অধিনায়ক হিসেবে শততম টেস্ট খেলতে নেমে ‘শূন্য’ রানে আউট হওয়া মাত্র ষষ্ঠ ক্রিকেটার ম্যাককুলাম! অতিথদের হয়ে পেসার জস হ্যাজলউড ৪, পিটার সিডল ৩ ও স্পিনার নাথান লেয়ন নেন ৩টি করে উইকেট।

অস্ট্রেলিয়া প্রথম ইনিংসে ৫৬২ রান তুলে ফেলার পরই চাপে পড়ে কিউইরা। ৩৭৯ রানে পিছিয়ে থেকে ম্যাচ বাঁচাতে হলে দ্বিতীয় ইনিংসে দারুণ কিছু করার দরকার ছিল স্বাগতিকদের। সেখানে সোমবার চতুর্থ দিনের দ্বিতীয় সেশনেই ৩২৭ রানে অলআউট হয় ম্যাককুলামের দল। তৃতীয় দিন শেষে টম লাথামের ৬৩ আর মার্টিন গাপটিলের ৪৫ রানে ভার করে ৪ উইকেটে ১৭৮ রান তুলেছিল নিউজিল্যান্ড। ৩১ রানে অপরাজিত থাকা হেনরি নিকোলস নিজের ইনিংসটা ৫৯ রানের বেশি দীর্ঘ করতে পারেননি। কাল চতুর্থ দিনে ১৪৯ রান যোগ করতেই শেষ কিউইদের ইনিংস। নাথান লেয়ন চমৎকার বোলিং করেন। প্রথম ইনিংসের ৩ শিকারি অভিজ্ঞ এই স্পিনার দ্বিতীয় ইনংিসে নিয়েছেন আরও ৪ উইকেট। পাশাপাশি মিচেল মার্শও ছিলেন দারুণ। ৭৩ রানে তিনি তুলে নিয়েছেন ৩ উইকেট। এছাড়া জশ হ্যাজেলউড ২টি আর জ্যাকসন বার্ড নিয়েছেন ১টি করে। স্বাগতিকদের হয়ে সর্বোচ্চ ৬৩ রান ওপেনার টম লাথামের। হাফসেঞ্চুরি পেয়েছেন হেনরি নিকোলস (৫৯), গাপটিল করেন ৪৫ রান। শেষদিকে সাউদির ৪৮ হারের ব্যবধানই কমিয়েছে।

২০১৪-২০১৬ মৌসুমে অধিনায়ক হিসেবে ১০ টেস্টে অপরাজিত স্টিভেন স্মিথ, জয় ৬ ও ড্র ৪টিতে। নেতৃত্বে শুরুতেই দেশটির হয়ে এমন অর্জন আছে কেবল ওয়ারউইক আর্মস্ট্রংয়ের (৮ জয়, ২ ড্র; ১৯২০-২-১৯২১)। নিউজিল্যান্ডের মাটিতে অস্ট্রেলিয়ার এটি তৃতীয়বারের মতো ইনিংস ব্যবধানে জয়। বেসিন রিজার্ভে ১০ টেস্টের একটিতেই মাত্র হেরেছে অসিরা। মজার বিষয়, যে ওয়েলিংটনে কিউইদের এই ভরাডুবি হলো এই ম্যাচের আগে সেখানে ৬ টেস্টে অপাজিত ছিল ম্যাককুলামের দল!