২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সক্রিয় দুর্বৃত্ত চক্র

সক্রিয় দুর্বৃত্ত চক্র
  • সম্প্রতি ঘটেছে কিছু জালিয়াতি ;###;বাংলাদেশ ব্যাংকের দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ- এ্যান্টি স্কিমিং ডিভাইস বসাতে হবে ;###;এটিএম গ্রাহক কার্ড ৯৫ লাখ

রহিম শেখ ॥ দেশে সোয়া ৪ কোটি ব্যাংক হিসাব গ্রাহকের মধ্যে প্রায় ৯৫ লাখ এটিএম কার্ড ব্যবহারকারী রয়েছেন। গত এক দশক ধরে ক্রমান্বয়ে বাড়ছে সব ধরনের ক্রেডিট ও ডেবিট কার্ডধারীর সংখ্যা। ব্যাংকিং চ্যানেলের এই পরিসংখ্যানেই বলছে দেশে এই মুহূর্তে অনলাইন ব্যাংকিং কতটা জনপ্রিয়। কিন্তু সম্প্রতি জালিয়াতির ঘটনায় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে অনলাইন ব্যাংকিং সেবা। ব্যাংকের তথ্যভা-ার হ্যাকিং এবং মোবাইল ব্যাংকিংয়ে সিম ডুপ্লিকেট, ক্লোনিং, ব্লক, কল ডাইভার্ট করে অর্থ আত্মসাৎ করা হচ্ছে। সর্বশেষ জালিয়াত চক্র এটিএম বুথে ‘স্কিমিং ডিভাইস’ বসিয়ে গ্রাহকের অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে। এসব ঘটনায় বিভিন্ন সময়ে দেশীয় চক্র জড়িত থাকলেও এবার অপরাধীরা ‘বিদেশী’ বলে গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে। অনলাইন ব্যাংকিংয়ে সব ধরনের ঝুঁকি মোকাবেলায় বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা থাকলেও যথাযথ পরিপালন করে না দেশে কার্যরত সরকারী-বেসরকারী ও বিদেশী ব্যাংকগুলো।

জানা গেছে, তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে ইন্টারনেটের মাধ্যমে ব্যাংকের তথ্যভা-ার হ্যাকিং, পরিচিতি চুরি, গোপন নম্বর চুরি, ইলেকট্রনিক লেনদেনের বিভিন্ন প্ল্যাটফরম ব্যবহার করে বিভিন্ন গ্রাহকের অর্থ আত্মসাত করা হচ্ছে। এ ছাড়া মোবাইল ব্যাংকিংয়ে সিম ডুপ্লিকেট, ক্লোনিং, ব্লক, কল ডাইভার্ট করে এসব জালিয়াতি করা হচ্ছে। এসব ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক তথ্য সংগ্রহ করতে পারলেও মোবাইল ফোন অপারেটর, ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার এগুলোর নিয়ন্ত্রক সংস্থা ভিন্ন হওয়ায় আইনগত বাধ্যবাধকতার কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিদর্শক দল ওইসব প্রতিষ্ঠান থেকে যথাযথ তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হচ্ছে। বিশেষ করে কললিস্ট, কল লগ, গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেমস, নেটওয়ার্ক টাওয়ার অনুসরণ করে কোন সিমের অবস্থান শনাক্তকরণ, কোন সিমের কল ডাইভার্ট, ক্লোন, ডুপ্লিকেট, ব্লক করা হয়েছে কি-না, জালিয়াতির ঘটনায় ব্যবহৃত আইপি ঠিকানা, ম্যাক ঠিকানা, ব্রাউজিং ইতিহাস, ব্যবহৃত মডেমের অবস্থান, নেটওয়ার্ক টাওয়ারের ব্যবহার এসব তথ্য সংগ্রহ করতে পারে না। ফলে তথ্যপ্রযুক্তির আশ্রয় নিয়ে সংঘটিত জালিয়াতির ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা যাচ্ছে না। বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেম বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক শুভঙ্কর সাহা বলেন, মোবাইল ও ইন্টারনেটের মাধ্যমে জালিয়াতির কিছু ঘটনা ঘটেছে। প্রতিরোধে বাংলাদেশ ব্যাংক কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, অটোমেটিক চেক ক্লিয়ারিং ক্ষেত্রে করপোরেট গ্রাহকের এক লাখ টাকা এবং ব্যক্তি ক্ষেত্রে ৫ লাখ টাকার বেশি চেক হলে তা পেমেন্ট করতে সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে জানাতে হবে। মোবাইল ব্যাংকিং নিরাপদ করতে কেন্দ্রীয়ভাবে যান্ত্রিক পদ্ধতিতে প্রতিদিনের লেনদেন মনিটরিং করা যায় কি না তা নিয়ে কাজ চলছে। বর্তমানে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক এটি করতে পারছে। তিনি বলেন, ডিজিটাল ব্যবস্থায় অনিয়ম হলে পেমেন্ট সিস্টেম বিভাগের অপ্রতুল জনবলের কারণে ব্যাংক পরিদর্শন বিভাগকে দিয়ে তদন্ত করা হয়। এখন এ পরিদর্শন জোরদার করতে পেমেন্ট সিস্টেম বিভাগে আলাদা সুপারভিশন বিভাগ চালু করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

‘স্কিমিং ডিভাইস’ বসিয়ে তথ্য চুরি

ও অর্থ আত্মসাত ॥ গত শুক্র ও শনিবার বেসরকারী খাতের তিনটি ব্যাংকের ছয়টি বুথে ‘স্কিমিং ডিভাইস’ বসিয়ে দুই শতাধিক গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্য চুরির পর কার্ড ক্লোন করে টাকা হাতিয়ে নিয়েছে একটি বিদেশী চক্র। এটিএম বুথের নিরাপত্তা প্রহরীকে মিথ্যা পরিচয় দিয়ে যান্ত্রিক ত্রুটি সারানোর নাম করে জালিয়াত চক্র বুথে ‘স্কিমিং ডিভাইস’ বসায় বলে অভিযোগ করেছে জালিয়াতির শিকার ব্যাংকগুলো। আর এ ডিভাইসের মাধ্যমেই চুরি করা হয়েছে গ্রাহকদের সব তথ্য। বুথের সিসি ক্যামেরায় চক্রের সদস্যদের চিহ্নিত করা গেছে বলেও দাবি করেছে কর্তৃপক্ষ। অপরাধীরা ‘বিদেশী’ বলে তাদের মনে হয়েছে। গ্রাহকের তথ্য চুরি করে ক্লোন কার্ড বানিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়া চক্রে ‘বিদেশীদের’ যোগসাজশ রয়েছে বলে সন্দেহের কথা পুলিশকে আগেই জানিয়েছিল ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি) কর্তৃপক্ষ। বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্তেও মিলেছে বিদেশী চক্রের সম্পৃক্ততা। বুথে স্থাপিত গোপন ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিও চিত্র থেকে এসব তথ্য মিলেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে এসব তথ্য-প্রমাণ রয়েছে, যার ভিত্তিতে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে সিটি ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্তকারী একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত যেসব ভিডিওচিত্র সংগ্রহ করা হয়েছে তা পর্যালোচনা করে একাধিক বিদেশীর সংশ্লিøষ্টতা পাওয়া গেছে। একেক বুথে একেকজন বিদেশীর সঙ্গে দেশীয় চক্রের লোকজনও রয়েছে। তাই এটি সংঘবদ্ধ একটি চক্রের কাজ বলে মনে করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত রবিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্তকারীরা তিনটি ব্যাংকের যেসব এটিএম বুথে বিশেষ যন্ত্র বসানো হয়েছিল, সেইসব বুথ পরিদর্শন করেন। পাশাপাশি এ ধরনের ঘটনার যেন পুনরাবৃত্তি না হয় সে জন্য ব্যাংকগুলোকে বেশ কিছু নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে।

এদিকে শুক্রবার জালিয়াতির ঘটনার পর রবিবার লিখিত ব্যাখ্যা দিয়েছে ইস্টার্ন ব্যাংক। ব্যাংকটির ২১ জন গ্রাহকের হিসাব থেকে টাকা তুলে নেয়ার ঘটনা ঘটে। তবে এ ক্ষেত্রে ইস্টার্ন ব্যাংকের কোন বুথ থেকে টাকা তোলার ঘটনা ঘটেনি। এই ঘটনায় শুক্রবার রাতে বনানী থানায় মামলা করেছে ইউসিবিএল। মামলার এজাহারেও ওই ব্যাংকটি বলেছে, তাদের বনানী এলাকার এটিএম বুথে ৭ ফেব্রুয়ারি বেলা আনুমানিক পৌনে ১১টায় স্কিমিং ডিভাইস বসিয়ে গ্রাহকের কার্ডের তথ্য চুরি করা হয়। পরবর্তী সময়ে ১১ ফেব্রুয়ারিসহ একাধিক দিন ওই সব চুরি করা তথ্যের ভিত্তিতে কার্ড ক্লোন করে অন্য ব্যাংকের এটিএম থেকে টাকা তোলা হয়। ইউসিবির ওই ঘটনার সঙ্গেও একজন বিদেশী জড়িত থাকার প্রমাণ রয়েছে ভিডিওচিত্রে। মামলার এজাহারেও সেই বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। ইউসিবির করা মামলার এজাহারের সঙ্গে একটি এটিএম বুথের সিসি ক্যামেরায় ধারণ করা ছবিও তারা জমা দিয়েছে, যাতে একজন ‘বিদেশীর মুখাবয়ব’ ধরা পড়েছে বলে তাদের দাবি। ওই বিদেশীর বাংলাদেশ থেকে পালানো ঠেকাতে পুলিশকে বিমান, নৌ ও স্থলবন্দরগুলোতে নজরদারি চালাতে ব্যাংকটির পক্ষ থেকে পুলিশকে অনুরোধ করা হয়েছে। শুক্রবার রাতে ইউসিবি কর্তৃপক্ষ মামলা করে।

এটিএম বুথে কারসাজির ঘটনা তদন্তে ডিবি ॥ সম্প্রতি কয়েকটি ব্যাংকের এটিএম বুথে জালিয়াতির মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ ও অপরাধ তথ্য বিভাগ (ডিবি)। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে সোমবার দুপুরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার মোঃ মনিরুল ইসলাম। মনিরুল ইসলাম বলেন, বনানীতে এ সংক্রান্ত একটি মামলা হয়েছে। তবে ডিবির কাছে ভুক্তভোগী ও সংশ্লিষ্ট ব্যাংক আমাদের কাছে কোন অভিযোগ করেনি। আমরা ব্যাপারটি শুধু মিডিয়ার মাধ্যমে জানতে পেরেছি। যেহেতু আমাদের কাছে সরাসরি কেউ অভিযোগ করেননি তাই বিষয়টিকে ডিবি তদন্ত শুরু করেছি। এটিএম বুথের জালিয়াতিতে বিদেশী জড়িত থাকার বিষয় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাদের দেশে সাধারণত আফ্রিকান দেশের নাগরিকরা বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ পেয়েছি। অনেককে দেশে ফেরত পাঠানো হলেও আইনগত কারণে অনেককে দেশে ফেরত পাঠানো যায় না। পরে তারা আবার জামিনে বের হয়ে বিভিন্ন ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। এটিএম বুথের কারসাজিতে কোন বিদেশী জড়িত থাকলে বিষয়টি বেরিয়ে আসবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এটিএমে ‘এন্টি স্কিমিং ডিভাইস’ এক মাসের মধ্যে ॥ গ্রাহকের তথ্য চুরি করে ক্লোন কার্ড বানিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার ঘটনার পর প্রতিটি এটিএম বুথে জালিয়াতি প্রতিরোধের ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করাসহ ছয় দফা নির্দেশনা জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এই নির্দেশনায় বলা হয়েছে, জালিয়াতি রোধে ও লেনদেন ঝুঁকিমুক্ত করতে সব এটিএম বুথে এক মাসের মধ্যে ‘এন্টি স্কিমিং ও পিন শিল্ড ডিভাইস’ বসাতে হবে। নতুন কোন বুথ খুলতে গেলেও তাতে অবশ্যই এসব ব্যবস্থা রাখতে হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস বিভাগ সোমবার এই সার্কুলারে বলেছে, আগের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিটি বুথে বসানো ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরার ফুটেজ নিয়মিত পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি এন্টি স্কিমিং ডিভাইস বসানো হলে এই জালিয়াতি প্রতিরোধ করা যেত।

নির্দেশনায় বলা হয়, এখন থেকে নতুনভাবে স্থাপিত এটিএম বুথসমূহে বাধ্যতামূলকভাবে এন্টি স্কিমিং ও পিন শিল্ড ডিভাইস থাকতে হবে। আগে স্থাপিত বুথগুলোতে এক মাসের মধ্যে এন্টি স্কিমিং ও পিন শিল্ড ডিভাইস স্থাপন করতে হবে। প্রতিদিন এটিএম বুথে সংঘটিত লেনদেনসমূহের ভিডিও ফুটেজ যথাযথভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে এবং তাতে কোন সন্দেহজনক বিষয় দৃষ্ট হলে কার্যকরী ব্যবস্থা নিতে করতে হবে। ইতোমধ্যে গ্রাহকের কার্ডের তথ্য ও পিন নম্বর কোনক্রমে পাচার হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট সময়ে এটিএম বুথে ব্যবহৃত কার্ডসমূহ চিহ্নিত করে নিজ ব্যাংকের কার্ডসমূহের ক্ষেত্রে গ্রাহককে অবহিত করে কার্ডটি বাতিল এবং যথাশীঘ্র গ্রাহককে নতুন কার্ড প্রদান করতে হবে। গ্রাহক অন্য ব্যাংকের হলে সংশ্লিষ্ট কার্ড প্রদানকারী ব্যাংককে তাৎক্ষণিকভাবে অবহিত করে একই ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করতে হবে। উক্ত ভিডিও ফুটেজ আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাকে অবহিতকরণপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য অনুরোধ করতে হবে। নিয়মিতভাবে (জধহফড়স ইধংরং) ভিত্তিতে ব্যাংক কর্তৃক নিজস্ব এটিএম বুথসমূহ নিরীক্ষা করে মাসিক ভিত্তিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগে প্রতিবেদন পাঠাতে হবে। এটিএম বুথগুলোতে নিয়োজিত গার্ডদের জাল/জালিয়াতি প্রতিরোধে করণীয় সম্পর্কে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দিতে হবে। এছাড়া টুপি, সানগ্লাস পরিধানকারী ও ব্যাগ বহনকারী গ্রাহকদের ক্ষেত্রে গার্ড সতর্ক থাকবে। এছাড়া এটিএম বুথগুলো থেকে টাকা উত্তোলনের সঙ্গে সঙ্গে স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রাহককে মোবাইলে এলার্ট প্রদানের মাধ্যমে লেনদেন সংক্রান্ত তথ্য প্রেরণ করতে হবে। এ প্রসঙ্গে বিআইবিএর সহযোগী অধ্যাপক মোঃ শিহাব উদ্দিন খান জনকণ্ঠকে বলেন, ব্যাংকগুলোর এটিএম কার্ড হিসেবে ‘প্লাস্টিক ম্যাগনেটিক স্ট্রিফ’ কার্ড ব্যবহার করছে। এটি থেকে তথ্য চুরি করা যায়। এ কারণে এটি বাদ দিয়ে ‘চীফ বেইসড কার্ড’ ব্যবহার করতে বলা হলেও অধিকাংশ ব্যাংক এটি করতে পারেনি। তিনি বলেন, ক্রেডিট কার্ডের অনলাইনে ‘নট প্রেজেন্ট কার্ড’ লেনদেনের জন্য টু ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন সিস্টেম এবং লেনদেনের পর এসএমএস দেয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কার্ডভিত্তিক লেনদেনকে আরও নিরাপদ করতে বিশ্বমানের পিসিআইবিএসএস প্রযুক্তি ও সিস্টেম ব্যবহার করতে হবে।

সম্প্রতি এটিএম কার্ডের লেনদেন সমস্যা, জালজালিয়াতি ও প্রতিরোধ নিয়ে ‘ইন্ট্রাডাকশন অব দ্য বায়োমেট্রিক এটিএম কার্ড ইন দ্য ব্যাংকিং সেক্টর অব বাংলাদেশ : এ্যা ডিজিটাল ওয়ে টু রিডিউস দ্য ডিজিটাল ক্রাইম’ শীর্ষক এক গবেষণা প্রতিবেদনেও জালিয়াতির তথ্য উঠে এসেছে। এতে বলা হয়, এটিএম কার্ডের লেনদেনেও কার্ড ও পিনকোড চুরি করে টাকা উত্তোলনের ঘটনা ঘটছে। বিভিন্ন তথ্যভা-ার থেকে গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্য ও বুথে গোপন ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিও থেকে পিনকোড চুরি করা হচ্ছে। প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম)। জরিপভিত্তিক গবেষণাটি করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এ্যাকাউন্টিং এ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের প্রভাষক তাসলিমা আখতার ও আরিফিন ইসলাম। ব্যাংকার, ডাক্তার, গবেষক, শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন পেশাজীবী ১৮০ জন এটিএম কার্ড ব্যবহারকারীর কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে এটি তৈরি করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ডিজিটাল চোরেরা ৪৩ জন গ্রাহকের কার্ড ব্যবহার করে টাকা উত্তোলন করে নিয়েছে। এ সংখ্যা জরিপে অংশগ্রহণকারীর ২৪ শতাংশ। এটিএম কার্ডে জালিয়াতির ঘটনা শুনেছেন ২৮ গ্রাহক, যা ১৫ দশমিক ৬ শতাংশ। সব মিলিয়ে ডিজিটাল চোরের খপ্পরে পড়ার অভিজ্ঞতা হয়েছে ৪০ শতাংশ গ্রাহকের। এ বিষয়ে জরিপকারী প্রভাষক তাসলিমা আখতার ও আরিফিন ইসলাম জনকণ্ঠকে বলেন, আমরা প্রশ্ন পদ্ধতির মাধ্যমে সমস্যাগুলো জানতে পেরেছি। যে প্রক্রিয়ায় পিনকোড চুরি এবং লেনদেন হচ্ছে এটি দুষ্কৃতদের পক্ষে খুব বেশি কষ্টসাধ্য নয়। তাই আমরা মনে করছি, উন্নত প্রযুক্তির বায়োমেট্রিক কার্ড ব্যবহার করলে চুরি ও জালজালিয়াতি রোধ করা সম্ভব হবে।

নির্বাচিত সংবাদ