১৮ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কাউকেই তোয়াক্কা করেন না সড়কের রাজারা

কাউকেই তোয়াক্কা করেন না সড়কের রাজারা
  • বেপরোয়া গাড়ি চালনায় নিত্য প্রাণ ঝরছে সড়কপথে ;###;অপ্রাপ্ত বয়স্কদের হাতে তুলে দেয়া হচ্ছে গাড়ির স্টিয়ারিং

রাজন ভট্টাচার্য ॥ গত বছরের ২২ ডিসেম্বর দুপুরে রাজধানীর উত্তরায় জসীমউদ্দীন রোডের মোড়ে অটোরিক্সার চালক ফারুকের সঙ্গে তেঁতুলিয়া পরিবহনের বাসচালক আবদুল মজিদের বাগ্বিত-া হয়। এ সময় ‘তুই সর। নাইলে পিষ্যা ফালামু তোরে’Ñএ কথা বলেই ফারুকের ওপর বাস তুলে দেন চালক মজিদ! মুহূর্তের মধ্যে মৃত্যু হয় তার। এমন খবরে সত্যিই চোখ কপালে উঠে যাবে। সবার চোখের সামনে বাস তুলে দিয়ে ঠা-া মাথায় একজনকে হত্যা? এ কেমন বর্বরতা। বাসটি আধা কিলোমিটারের মতো পেরিয়ে আজমপুর বাসস্ট্যান্ডে গেলে চালক মজিদকে আটক করে উত্তরা পশ্চিম থানায় হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় ফারুকের ভাই মোঃ হারুন একটি হত্যা মামলা করেছেন।

গুলিস্তানে রাস্তা পার হচ্ছিলেন একজন পুলিশ সদস্য। কিন্তু কে জানত এভাবেই তাকে পরপারে চলে যেতে হবে। এ পথচলাই হবে তাঁর শেষ...। তিনি যখন পার হচ্ছিলেন তখন ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করে রাস্তার ওপর বাসগুলো যাত্রী তুলতে রীতিমতো মরিয়া। কার আগে কে যাবে। এমন অবস্থার মধ্যে দুই বাস চালকের অসুস্থ প্রতিযোগিতায় জীবন দিতে হলো পুলিশের সদস্য এম জোলহাসকে। দুই বাসের চাপায় পড়ে অকালে প্রাণ গেল তার। হাজারও মানুষের চোখের সামনে নিস্তেজ হয়ে গেলেন তিনি। ঘটনা গত মঙ্গলবারের। এতে চালকদের কোন ভ্রƒক্ষেপ নেই। ইচ্ছেমতো গাড়ি চালাচ্ছেন। চালক, যাকে জীবন রক্ষক হিসেবে বলা হয়। অথচ গোটা রাজধানীতেই মৃত্যুদূত চালকের কোন অভাব নেই। অপ্রাপ্ত বয়স্ক চালকের হাতে তুলে দেয়া হচ্ছে গাড়ির স্টিয়ারিং। রাজধানীজুড়েই এখন অবৈধ চালকদের ছড়াছড়ি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা বলছেন, লাইসেন্সবিহীন চালকরাই বেশিরভাগ দুর্ঘটনার সঙ্গে যুক্ত। নিহতদের মধ্যে পথচারীর সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি। চালকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়ায় এমন ঘটনার সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। ‘কাউকে তোয়াক্কা নয়, আমরাই সড়কের রাজা’Ñএমন ভাব পরিবহন চালকদের।

বিআরটিএ সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীতে এখন রেজিস্ট্রেশনভুক্ত পরিবহনের সংখ্যা প্রায় ১০ লাখ। বেসরকারী বিভিন্ন পরিসংখ্যান বলছে, রাজধানীতে যান্ত্রিক-অযান্ত্রিক মিলিয়ে প্রায় তিনগুণ পরিবহন চলাচল করছে। এর মধ্যে তিন লাখের বেশি আছে অবৈধ চালক। যদিও সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, রেজিস্ট্রেশনভুক্ত পরিবহনের বিপরীতে চালকের সংখ্যা ১০ লাখ কম। বিআরটিএ সূত্রে জানা গেছে, সর্বশেষ হিসেবে সারাদেশে বৈধ পরিবহনের সংখ্যা ২৪ লাখ চার হাজার। এর মধ্যে লাইসেন্সধারী চালকের সংখ্যা ১৫ লাখ ৪৮ হাজার ৪৬৫টি।

রাজধানীর সড়ক দুর্ঘটনা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিআরটিএ সচিব শওকত আলী জনকণ্ঠকে বলেন, আমরা চেষ্টা করছি যতদূর সম্ভব দুর্ঘটনা কমিয়ে আনতে। চালকদের বেপরোয়া মানসিকতার কারণে সড়ক দুর্ঘটনা হচ্ছেÑ এ কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সবাইকে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। কেউ যেন লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালাতে না পারেন সেজন্য প্রতিদিন মোবাইল কোর্টের অভিযান অব্যাহত। এজন্য তিনি পরিবহন মালিকদের সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি বলেন, মালিকদের এক্ষেত্রে অনেকটাই করণীয় আছে। কোন অবস্থাতেই অদক্ষ ও লাইসেন্সবিহীন চালকের হাতে গাড়ি তুলে দেয়া যাবে না। চালকদের মানবিক হয়ে গাড়ি চালানোরও আহ্বান জানান তিনি।

কিন্তু কোন আহ্বানই কি কাজে আসছে? থামছে কি মৃত্যুর মিছিল? মাত্র ক’দিন আগে রাজধানীর মিরপুরে বাসের ধাক্কায় হান্নান নামের এক যুবকের মৃত্যুর খবরে অনেকেই চোখের জল ফেলেছেন। অথচ এ ঘটনায় বাসের চালক বা হেলপার কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। পুলিশ জানায়, ৫ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ১০টার দিকে ১০ নম্বর গোলচত্বরে এ দুর্ঘটনা ঘটে। মিরপুর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোঃ আনোয়ার বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, রাস্তা পার হওয়ার সময় শ্যামলী থেকে আব্দুল্লাহপুর রুটে চলাচলকারী অভিজাত পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস হান্নানকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

প্রশ্ন হলো মৃত্যু রুখতে সরকারী পদক্ষেপ কি পর্যাপ্ত? এ নিয়ে প্রশ্ন তো আছে অনেক আগে থেকেই। বিআরটিএ সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীতে চলা প্রায় ১০ লাখ পরিবহনের জন্য মাত্র চারটি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। ১ ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত মোবাইল কোর্টের অভিযানে মাত্র ১৫০টি গাড়ি ডাম্পিংয়ে পাঠানো হয়েছে। লাইসেন্স না থাকা ও বেপরোয়া গাড়ি চালানোসহ নানা অপরাধে দেয়া হয়েছে ৬২ চালককে জেল। মামলা হয়েছে ৫২৬ জনের বিরুদ্ধে। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে এ ব্যবস্থাই কি পর্যাপ্ত।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যে কোন মূল্যে শিক্ষিত চালকদের এ পেশায় আনতে হবে। চালক শিক্ষিত হলেই তারা মানবিক হবেন। তাছাড়া পরিবহন চালকসহ শ্রমিকদের নৈরাজ্য রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার পরামর্শ তাদের। এজন্য বিআরটিএকে শক্তিশালী ভূমিকা পালনের পাশাপাশি পুলিশকে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার পরামর্শ তাদের। ব্র্যাকের এক গবেষণা বলছে, আন্তর্জাতিক মানদ- অনুযায়ী রাজধানীর সড়কগুলোতে ২ লাখ ১৬ হাজার যানবাহন চলতে পারে। ঢাকায় চলছে প্রায় পাঁচগুণ বেশি। তাছাড়া দেশে নিবন্ধিত প্রাইভেটকারের ৭৫ শতাংশ চলছে রাজধানীতে। অথচ এসবে যাতায়াত করছে মাত্র ৮ ভাগ যাত্রী। এছাড়া ঢাকা মহানগরীতে ২১৯টি বাস স্টপেজ এবং বিআরটিসি কর্তৃক অনুমোদিত ২০৮টি বাস রুট রয়েছে। কিন্তু নিজেদের ইচ্ছামতো গাড়ি থামানো হচ্ছে। রাজধানীজুড়েই যেন বাসস্টপেজ। এছাড়া বিআরটিসি ও বেসরকারী মিলিয়ে প্রতিদিন ১২ হাজার বাস/মিনিবাস এই রুটগুলোয় যাত্রী পরিবহন করে থাকে। বাসস্টপেজে বাস না থামিয়ে মূল রাস্তার ওপর যাত্রী ওঠা-নামা করানো হয়।

রাজধানীর সড়ক দুর্ঘটনার কারণ ও প্রতিকার প্রসঙ্গে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের এ্যাক্সিডেন্ট রিসার্স ইনস্টিটিউটের (এআরআই) অধ্যাপক মোহাম্মদ মাহাবুব আলম তালুকদার জনকণ্ঠকে বলেন, সঙ্কট সমাধানে সবার আগে একটি টান্সপোর্ট কমিশন গঠন করা জরুরী। তাদের কাজ হবে পরিবহন নিয়ন্ত্রণ করা। গণপরিবহন বাড়ানোর পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, পরিবহনের মান উন্নত হলে মানুষ গাড়িতে চলাচল করবে। পথচারীর সংখ্যা কমবে। পাশাপাশি যানজটও নিয়ন্ত্রণে আসবে। কারণ রাজধানীতে গাড়িচাপায় পথচারী নিহতের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।

স্বাভাবিক গতিতে গাড়ি চলাচল করলে রাজধানীতে আরও বেশি সড়ক দুর্ঘটনা হতোÑ এ কথা উল্লেখ করে এ বিশেষজ্ঞ বলেন, প্রতিটি উন্নত শহরে নির্দিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠান গাড়ি চালায়। আমাদের দেশে এরকম কোন সিস্টেম নেই। ইচ্ছেমতো গাড়ি নামানো হচ্ছে। চালকরা দক্ষ নয়। সবাই সতর্ক হয়ে গাড়ি না চালানোর কারণে দুর্ঘটনা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, আইন প্রয়োগ না হওয়াও সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ। দুর্ঘটনা রোধে চালকদের ওভারটেকিং বন্ধের পরামর্শ দেন তিনি। এছাড়াও দুই সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে ফুটপাথ দখলমুক্ত করার কার্যক্রম সফলভাবে শেষ হলে সড়ক দুর্ঘটনা আরও কমে আসবে বলেও মনে করেন তিনি।

রাজধানীতে দুর্ঘটনা কত ॥ ২০১৫ সালে বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় ৫ হাজার মানুষ মারা গেছে বলে পরিসংখ্যান জানিয়েছে নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা), যা আগের বছরের চেয়ে দেড় হাজার কম। সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে নিসচা’র চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, ২০১৫ সালে সারাদেশে ২ হাজার ৬২৬টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। ২০১৫ সালে ঢাকা জেলায় সবচেয়ে বেশি মানুষ দুর্ঘটনায় নিহত হন।

রাজধানীর পল্টন এলাকায় দুই বাসের মাঝে চাপায় পড়ে আবুল হোসেন মাতুব্বর নামে এক বৃদ্ধের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। গেল ৬ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত আবুল হোসেনের গ্রামেরবাড়ি মাদারীপুরে। চিকিৎসার জন্য ঢাকায় মেয়ের বাসায় এসেছিলেন তিনি। নিহত ব্যক্তির নাতি মাহফুজ মাতুব্বর জানান, রাস্তা পারাপারের সময় দুটি বাসের চাপায় পড়ে গুরুতর আহত হন আবুল হোসেন। পরে এক পথচারী তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে সন্ধ্যায় হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা আবুল হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ট্রাফিক) যুগ্মকমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ বলেন, যানবাহন চালকদের বেশি করে প্রশিক্ষণ ও কর্মশালায় অংশ নেয়া প্রয়োজন। তাহলে তাদের দক্ষতা ও সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে এবং দুর্ঘটনার হার কমে আসবে। গত ১৬ জানুয়ারি মাত্র আট ঘণ্টার ব্যবধানে বাসচাপায় প্রাণ হারায় সাবিহা আক্তার ও খাদিজা আক্তার নামে দুই স্কুলছাত্রী। ওই দিন সকালে রাজধানীর মৎস্য ভবনের সামনে ৮ নম্বর রুটের (গাবতলী-যাত্রাবাড়ী) একটি বাসের চাপায় ২০১৫ সালের জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া সাবিহা মারা যায়। সেগুনবাগিচায় রহিমা আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়ে নবম শ্রেণীর ছাত্রী সাবিহার মৃত্যুর ঘটনায় বাসটি আটক করা হলেও চালককে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। একই দিন প্রাথমিকে জিপিএ-৫ পাওয়া খাদিজা আক্তার ঢাকায় বড় বোন ও ভগ্নিপতির সঙ্গে শিশুপার্কে বেড়াতে এসে বিকেলে শাহবাগ মোড়ে ৭ নম্বর রুটের (গাবতলী-সদরঘাট) একটি বাসের চাপায় প্রাণ হারায়। দুই জায়গার দূরত্ব মাত্র এক কিলোমিটার। খাদিজা নিহত হওয়ার পর ঘটনাস্থল থেকে জনতা বাসচালক শাহিন হোসেনকে ধরে পুলিশে দেয়। কিন্তু বেপরোয়া বাস চালকদের কারণে অকালে ঝরে যাওয়া দুটি তাজা প্রাণের দায় কে নেবে।

দুর্ঘটনার কারণ ॥ পুলিশ, সরকারী-বেসরকারী প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী সড়ক দুর্ঘটনার ১৪টি কারণের মধ্যে রয়েছে, ফুটপাথ দখল, ওভার টেকিং-ওভার স্পিড ও ওভারলোড, হেলপার দিয়ে গাড়ি চালানো, রাস্তার নির্মাণ ত্রুটি, গাড়ির ত্রুটি, যাত্রীদের অসতর্কতা, ট্রাফিক আইন না মানা, সড়কের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে জেব্রা ক্রসিং না থাকা-চালকরা জেব্রা ক্রসিং না মানা, চলন্ত অবস্থায় চালকের মোবাইল বা হেডফোন ব্যবহার, মহাসড়কে স্বল্পগতির যান চলাচল, মাদকাসক্ত অবস্থায় গাড়ি চালানো ও মহাসড়ক ক্রসিংয়ে ফিডার রোডের যানবাহন।

সুপারিশ ॥ সড়ক দুর্ঘটনা রোধে যাত্রী কল্যাণ সমিতির ১০ দফা সুরিশসমূহের মধ্যে রয়েছে, ট্রাফিক আইন ও মোটরযান আইন শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসমূহে প্রচারের ব্যবস্থা, গণমাধ্যমে সড়ক দুর্ঘটনা বিষয়ক প্রচার চালানো, জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশ থেকে হাটবাজার উচ্ছেদ ও ফুটপাথ দখলমুক্ত করা। এছাড়াও রাস্তায় ট্রাফিক চিহ্ন স্থাপন ও জেব্রা ক্রসিং অংকন করা, চালকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা, চালকদের বিশ্রাম ও কর্মবিরতির সুযোগ নিশ্চিত করা, মোটরযান আইন যুগোপযোগী করা এবাং গাড়ির ফিটনেসপ্রদান পদ্ধতি ডিজিটালাইজড করা, সরকারের পক্ষ থেকে স্বজনহারা পরিবারগুলোর দায়ভার নেয়া, জাতীয় মহাসড়কে স্বল্প ও দ্রুত গতির যানবাহন চলাচলের জন্য পৃথক লেনের ব্যবস্থা করা, বিভিন্ন স্থানে স্থাপিত ট্রামা সেন্টারগুলো চালু করা।