২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

লালমনিরহাট সীমান্তে বিএসএফের ক্যাম্প নির্মাণের উদ্যোগ

  • দুই দেশের চরাঞ্চলের ৩০ হাজার গ্রামবাসীর অবরুদ্ধ হওয়ার আশঙ্কা

জাহাঙ্গীর আলম শাহীন, লালমনিরহাট থেকে ॥ লালমনিরহাট জেলা সদরের অদূরে মোগলহাট ও দুর্গাপুর ইউনিয়নে ভারতীয় সীমান্তে বিএসএফ অতিরিক্ত ক্যাম্প নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। এতে করে দুই দেশের সীমান্তে নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী হবে। বিএসএফের ক্যাম্প নির্মাণের ঘটনায় উভয় পাশের গ্রামের অধিবাসীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশের কয়েকশ’ বিঘা জমি বেহাত হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রায় দুই যুগ আগে ধরলা নদীতে বাংলাদেশ ও ভারতীয় সীমান্ত ঘেঁষে কয়েকটি চর জেগে উঠে। সেখানে উভয় দেশের নদী ভাঙ্গনের শিকার হয়ে নিঃস্ব হওয়া কয়েকটি পরিবার আশ্রয় নেয়। কালের বিবর্তনে এখন এসব চরে বাংলাদেশ ও ভারতের প্রায় ৩০ হাজার মানুষ বংশপরমপরায় বসবাস করে আসছে। বিএসএফ ক্যাম্প স্থাপন করে সার্বক্ষণিক পাহাড়া বসানোর ব্যবস্থা করছে। এতে করে বাংলাদেশের প্রায় কয়েকশ’ বিঘা কৃষি জমি বাংলাদেশীদের ভোগ দখল হতে হাতছাড়া হয়ে যাবে। এই কয়েকশ’ বিঘা জমি বাংলাদেশের মূল ভূখ-।

ভারতীরা এই কয়েকশ’ বিঘা জমি দখলে নিতে সুদূরপ্রসারি পরিকল্পনা করে। দুই বছর পূর্বে তারা স্থানীয় প্রশাসন, বিএসএফের সহায়তায় বাংলাদেশের দুর্গাপুর সীমান্তে ঢিলছুঁড়া দূরত্বে ভারতীয় গিদারী নদীতে বাঁধ দেয়। প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট নদীটির মূল স্রোতধারা বন্ধ করে দেয়, যা আন্তর্জাতিকভাবে নদী শাসন আইনের পরিপন্থী। দুই বছর ধরে নদীর পানি অন্যদিকে এক তরফাভাবে প্রত্যাহার করে নিয়ে যায় ভারত সরকার।

গিদারী নদীটি ভারত হতে দুর্গাপুরে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। নদীটির ডান তীরে বাংলাদেশ ও বাম তীরে ভারত। গিদারী নদী বাংলাদেশের প্রবেশ মুখ হতে প্রায় ২৫ কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবাহিত হয়। পরে জেলা সদরের মোগলহাটের কর্ণপুরে এসে ধরলা নদীতে মিলিত হয়। এখানে ধরলা নদী ভারত হতে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। দুই নদীর মূল স্রোতধারা একত্রিত হয়ে নদীটি বিশাল আকার ধারণ করে। তবে মোগলহাটে ধরলা নদীটি ব্রিটিশ সরকার ১৮৮২ সালে নদী শাসনের আওতায় এসে রেল যোগাযোগ স্থাপনে বিশাল একটি রেলওয়ে সেতু নির্মাণ করে। সেতুটি এখন রয়েছ। দীর্ঘ সংস্কারের অভাবে ধরলা সেতুর দুইধার ভেঙ্গে যায়। সেতুটি নদীর মাঝখানে কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

ধরলা নদী এখানে আন্তর্জাতিক সীমান্ত রেখা বরাবর প্রবাহমান। নদী ভাঙ্গন ও নদী খননের অভাবে ধরলা নদীর বুকে বিশাল বিশাল কয়েকটি চর জেগে উঠে। ফলে ধরলা নদী এখন শুষ্ক মৌসুমে তিনটি ধারায় প্রবাহিত মান। এসব জেগে ওঠা চরে বংশপরমপরায় উভয় দেশের প্রায় ৩০ হাজার মানুষ ঘরবাড়ি নির্মাণ করে বসবাস করছে। অনেকে দ্বৈতনাগরিকত্ব গ্রহণ করেছে। ভৌগোলিক অবস্থান এখানে দুর্গম। শুষ্ক মৌসুমে বালুময় চর। বর্ষায় বিশাল নদী অথৈই জলে থই থই করে। হয়ে উঠে হিংস্র। কিন্তু শুষ্ক মৌসুমে বুঝার উপায় নেই এটা একটি বিশাল নদী। নদীর ডান তীরে বাংলাদেশের লালমনিরহাট সদর উপজেলার মোগলহাট ইউনিয়নের কর্ণপুর গ্রাম। বামতীরে ভারতের জারি ধরলা গ্রাম। আবার কর্ণপুর মাঠের পাড় দিয়ে নদী পাড় হলে বাংলাদেশের গ্রাম ফলিমারীর চর। এক সময় পানে খাওয়া খয়ের বাগানের জন্য বিখ্যাত ছিল।

গত বর্ষা মৌসুমে বাংলাদেশের ছোট বড় প্রায় অর্ধশতাধিক সেতু কালভার্ট ও প্রায় ২৫-৩০ কিলোমিটার রাস্তা নিচিহ্ন হয়ে যায়। এখন বিএসএফ বাংলাদেশের ৯২৭ মেইন পিলার ও ৯২৭(৪) পিলারের পাশে অতিরিক্ত কয়েকটি বিএসএস ক্যাম্প স্থাপন করার উদ্যোগ নিয়েছে। এই উদ্যোগে সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটবে। তবে বাংলাদেশ ও ভারতীয় কয়েকটি গ্রামের প্রায় ৩০ হাজার মানুষ বিএসএফ বাহিনীর নিরাপত্তা বেষ্টুনীর মধ্যে পড়ে গিয়ে অবরুদ্ধ জীবনযাপনে বাধ্য করার হবে। বাংলাদেশের কৃষকের ও বাংলাদেশের মূল ভূখ-ের প্রায় দুশ’ বিঘা জমির নিয়ন্ত্রণ চলে যাবে ভারতীয়দের হাতে। তখন নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে বাংলাদেশীদের বাংলাদেশে আসতে বাধা দিবে বিএসএফ ও বাংলাদেশের মূল ভূখ- হতে সীমান্তের জমি চাষ করতে গেলে বিএসএফ ক্যাম্পের পাশ দিয়ে যেতে হবে। তখন বিএসএফ কোন অবস্থায় সেখানে বাংলাদেশী কৃষকদের যেতে দিবে না। এখানে এমন নয় যে, ছিটমহলের মতো। ভারতীয় জমির ওপর দিয়ে বাংলাদেশের জমিতে যেতে হবে। বাংলাদেশের জমির ওপর দিয়ে সীমান্তের বাংলাদেশের অধীনে থাকা জমিতে যাওয়া যায়। বাংলাদেশের জমি ও গ্রামগুলো ভারতের সীমান্তের খুব কাছে। জমির অবস্থান কিছুটা কলস আকৃতির। কিছুটা ত্রিভূজ আকৃতির।

মোগলহাট বিজিবির বিওপি কমান্ডার নায়েক সুবেদার মোঃ আব্দুল কাদের জানান, ভারতীয় বিএসএফ আন্তর্জাতিক সীমানা আইন মেনে অতিরিক্ত বিএসএফ ক্যাম্প করতে পারে। তবে বাংলাদেশের সীমানা ঘেঁষে কোন বিএসএফ ক্যাম্প করতে পারবে না। তিনি জানান, দুর্গাপুর ও মোগলহাট বিজিবির ক্যাম্পের বিপরীতে ভারতের সীমানায় প্রায় ৪০টি বিওপি আছে। এটা স্বীকার করে নিতে হবে। বাংলাদেশের এক বিওপি হতে অন্য বিওপি যেতে ভাল যোগাযোগ ব্যবস্থা এখন গড়ে উঠেনি। সেদিক দিয়ে ভারত সরকার অনেক এগিয়ে।

এই মাত্রা পাওয়া