২০ নভেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

নাটক গান কবিতায় ভাষা শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা

  • সংস্কৃতি সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বইছে বসন্তের মৃদুমন্দ বাতাস। ঢলে পড়েছে দুপুরের রোদ, ঘনিয়ে এসেছে স্নিগ্ধ বিকেল। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাদদেশে হাঁটু মুড়ে বসে আছে বেশ কিছু শ্রোতা-দর্শক। ভেসে আসে বায়ান্নর স্মৃতি জাগানিয়া কবিতার উচ্চারণ। ভাষাশহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধায় উচ্চারিত হয়- আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি আমি কি ভুলিতে পারি ... । বাংলা বর্ণমালার জন্য প্রাণ দেয়া শহীদদের স্মরণে আবদুল গাফ্্ফার চৌধুরীর একুশে ফেব্রুয়ারি কবিতাটি ভরাট কণ্ঠে পাঠ করেন হাম্মাদুর রহমান সোহাগ। এভাবেই শহীদ মিনারে বিকেল থেকে রাত অবধি বলা হয় দেশমাতৃকা ও দেশপ্রেমিকদের কথা। গান, কবিতা ও নাটকের পরিবেশনায় জানানো হয় স্বদেশের প্রতি ভালবাসা। এখানে চলছে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট আয়োজিত অমর একুশের অনুষ্ঠানমালা। রাষ্ট্র চলবে বাংলায়, না বলা অন্যায় সেøাগানে চলমান আয়োজনের অষ্টম দিন ছিল সোমবার।

শেষ বিকেলে সুরের আশ্রয়ে বায়ান্নর ভাই হারানোর বেদনা প্রকাশিত হয় শ্রাবণী গুহ রায়ের কণ্ঠে। দরদমাখা গলায় গেয়ে শোনান- আমায় গেঁথে দাও না মাগো একটা পলাশ ফুলের মালা/আমি জনম জনম রাখবো ধরে ভাই হারানোর জ্বালা/আসি বলে আমায় ফেলে সেই যে গেল ভাই/তিন ভুবনের কোথায় গেলে ভাইয়ের দেখা পাই ...। একইসঙ্গে একাত্তরের শহীদদের শ্রদ্ধা ও মাতৃভূমির প্রতি ভালোবাসার কথা ঝরে পড়ে ইরাবতী ম-লের গানে। পরিবেশন করেন- লাখো শহীদের রক্তমাখা/সবুজের বুকে লাল সূর্য আঁকা/আমাদের এই পতাকা, আমাদের এই পতাকা ...। শামসুর রাহমানকে আশ্রয় ‘বর্ণমালা, আমার দুঃখিনী বর্ণমালা’ কবিতাটি পাঠ করেন তাহমিনা আক্তার তমা। হাসান হাফিজুর রহমান ও সৈয়দ শামসুল হকের সৃষ্টির আলোয় ‘একসার থোকা জ্বলন্ত নাম নাম’ শীর্ষক আবৃত্তি প্রযোজনাটি উপস্থাপন করে মুক্তবাক। আবৃত্তি দল কণ্ঠস্বর পরিবেশিত প্রযোজনার শিরোনাম ছিল ‘দ্রোহে একুশ’। জনতার সংগ্রাম চলছেই চলবেই এবং ওরা আমার মুখের ভাষা কাইড়া নিতে চায় গানের সুরে বৃন্দ নাচ করে জাগো আর্ট সেন্টার।

এছাড়া অষ্টম দিনের অনুষ্ঠানমালায় দলীয় সঙ্গীত পরিবেশন করে আওয়ামী শিল্পী গোষ্ঠী। একক কণ্ঠে গান শোনান সালমা চৌধুরী ও বিপ্লব রায়হান। একক কণ্ঠে কবিতা আবৃত্তি করেন রোকেয়া প্রাচী, মলি পারভীন ও অনিমেষ কর। শিশু সংগঠনের পরিবেশনায় অংশ নেয় আজাদ একাডেমি। দলীয় নৃত্য উপস্থাপন করে নন্দন কলা কেন্দ্র। সব শেষে পরিবেশিত হয় থিয়েটার আরামবাগের পথনাটক গ্রহণকাল।

আজ মঙ্গলবার দিনের অনুষ্ঠান শুরু হবে বিকেল সাড়ে চারটায়। চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত। ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত একই সময়ে শহীদ মিনারে চলবে একুশের অনুষ্ঠানমালা। ১৮ থেকে ২১ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠান হবে ধানম-ির রবীন্দ্র সরোবর মঞ্চে।

ঋত্বিক ঘটক রেট্রোস্পেক্টিভ ॥ চলচ্চিত্রম সংসদ সোসাইটি ও জাতীয় জাদুঘরের যৌথ আয়োজনে জাতীয় জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তনে চলছে ছয় দিনব্যাপী ঋত্বিক ঘটক রেট্রোস্পেক্টিভ। উন্মুক্ত এ প্রদর্শনীতে সোমবার চতুর্থ দিন বিকেলে দেখানো হয় ১৯৬১ সালে ঋত্বিক ঘটক নির্মিত পঞ্চম কাহিনী চলচ্চিত্র কোমাল গান্ধার। সাতচল্লিশের দেশভাগের প্রেক্ষাপটে নির্মিত ছবিটিতে উঠে এসেছে দুই বাংলার মিলনের আকাক্সক্ষা। স্বপ্নভঙ্গ ও নতুন করে স্বপ্ন দেখা-এই আশা-নিরাশার দোলাচলে মূল দুটি চরিত্র ভৃগু-অনুসূয়ার অবস্থান। শক্তিশালী সংলাপে সীমান্তে দাঁড়িয়ে তাদের স্মৃতি-রোমন্থন, সাংস্কৃতিক মিলনের যে আকুতি তারই চিত্রিত রূপ কোমল গান্ধার। চলচ্চিত্রটিতে অভিনয় করেছেন অবিনাশ ব্যানার্জী, বিজন ভট্টাচার্য, সতীন্দ্র ভট্টাচার্য, সুপ্রিয়া দেবী, অনিল চ্যাটার্জী, শোভা দে প্রমুখ। সন্ধ্যায় দেখানো হয় ১৯৬২ সালে নির্মিত ছবি ‘সুবর্ণরেখা’ ও ১৯৭০ সালে নির্মিত স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘আমার লেনিন’।