২১ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পর্যটক বটে!

মাত্র ১৬ মাসের শিশু এসমি। দেশ ভ্রমণ সম্পর্কে কোন কিছু বোঝার কথা নয়। তাতে কি? এরই মধ্যে তিন মহাদেশের অন্তত ১২ দেশ ভ্রমণ করে তারকা বনে গেছে মেয়েটি। এসমির মা কারেন এডওয়ার্ড। পেশায় নার্স। মেয়ে জন্মের ১০ সপ্তাহ পর স্বামী শন বায়েজকে নিয়ে লন্ডন থেকে দেশ ভ্রমণে বের হন। এর পর একে একে প্রায় ১২ মাস দেশ ভ্রমণ করেন এই দম্পতি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের এই ভ্রমণের ছবি এবং অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন। নিজেকে স্রেফ পাগল মা হিসেবে আখ্যা দিয়ে কারেন বলেন, মাাতৃত্বকালীন ছুটিতে ঘরে কাটানোর কথা থাকলেও আমি তা করিনি। বিভিন্ন দেশ দেখেছি। তবে এসব ভ্রমণের সময় এসমির কোন সমস্যা হয়নি। এসমি বিভিন্ন দেশের আবহাওয়ার সঙ্গে নিজেকে খাপখাইয়ে নিয়েছে সহজেই। রেলস্টেশন, বিমানবন্দর ও জাহাজঘাটে অপেক্ষার সময় আমার বুকের ক্যারিয়ারে ঝোলানো অবস্থাই ঘুমিয়ে নিয়েছে। কাঁদেনি। আর শন বায়েজ সম্পর্কে কারেন লিখেছেন, আমাদের একটা আলাদা পরিকল্পনা ছিল সন্তানের জন্য কিছু একটা করার। এ জন্য শন তার চাকরি ছেড়ে দেয়। এই ছোট্ট বাচ্চা নিয়ে দেশ ভ্রমণের কথা শুনে অনেকেই অবাক হয়েছে। কেউ হেঁসেছে। তবে আমরা দমে যাইনি।

এই ভ্রমণের অভিজ্ঞতা জানাতে কারেন ইনস্টাগ্রামে ‘ট্রাভেলম্যাডমম’ নামে একটি এ্যাকাউন্ট খুলেছে। এতে তাদের ভ্রমণকালীন অভিজ্ঞতার কথা শুনতে অনেকেই অনুরোধ পাঠিয়েছে। বিশেষ করে মহিলারা জানতে চাচ্ছে এই ভ্রমণকালীন সময়ে এসমি নিজেকে কীভাবে খাপ খাইয়েছে? এ সময় মেয়েটির খাবার গ্রহণ ও ঘুমে কোন সমস্যা হয়েছে কি না? ও কান্নাকাটি করেছে কি না ইত্যাদি।

ভ্রমণপিপাসু এই দম্পতি আগেও অনেক দেশ ভ্রমণ করেছেন। কারেন এডওয়ার্ড এরই মধ্যে ৬০টি দেশ ভ্রমণ করেছেন।

তিনি আরও বলেন, এই ছোট্ট শিশুকে নিয়ে বিশ্ব ভ্রমণে বের হওয়ার পরিকল্পনা শুনে অনেকেই হেঁসেছিল। সবাই আমাদের পাগল ভেবেছিল। কারণ ছোট শিশুকে নিয়ে ভ্রমণে বের হওয়া অত্যন্ত কঠিন কাজ। ভ্রমণের সময় রাস্তার মধ্যেই অনেক সময় আমি আমার মেয়েকে বুকের দুধ খাইয়েছি। আমার মনে হয় এসমি ভ্রমণ খুব উপভোগ করছে। ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছে। এ সময় এসমির নতুন অভিজ্ঞতা হয়েছে। কারণ মেয়েটি খুব মিশুক। বাইরে বের হলেই এসমি বেশি উপভোগ করে। তবে মাঝে মাঝে আমি তার জন্য কষ্টও পাই। কারণ সে এই ভ্রমণকালীন সময়ে অন্যদের মতো খেলাধুলা করতে পারেনি আমার মেয়েটি। কারণ আমাদের সঙ্গে তেমন খেলনা ছিল না। -ডেইলি মেইল অবলম্বনে।