২৪ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সিরিয়ায় সহিংসতা বন্ধ করুন

সিরিয়ায় রবিবার ব্যাপক সহিংসতার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা মূলধারার উদারপন্থী সিরীয় বিদ্রোহীদের ওপর বিমান হামলা বন্ধে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। রাশিয়ার এই হামলাকে সিরীয় যুদ্ধ অবসানের সর্বশেষ প্রচেষ্টার পথে সবচেয়ে বড় বাধা হিসেবে দেখছে পশ্চিমা দেশগুলো। বিশ্বশক্তিসমূহ শুক্রবার সীমিত পর্যায়ের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। তবে এই সপ্তাহ শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই চুক্তি কার্যকর হবে না এবং সিরিয়ার যুদ্ধরত পক্ষগুলো; দামেস্ক ও অসংখ্য বিদ্রোহী দল কেউই এই চুক্তি স্বাক্ষর করেনি। খবর গার্ডিয়ান, ইয়াহু নিউজ ও বিবিসির।

সিরীয় বিদ্রোহীদের লক্ষ্য করে রুশ বিমান হামলা প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের সরকারী বাহিনীকে সিরিয়ার সবচেয়ে বড় শহর আলেপ্পো দখলে সহায়তা করছে। আর আলেপ্পো দখলের লড়াইয়ে এটি তাদের সবচেয়ে বড় জয় হতে পারে। সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে আলেপ্পো ছিল দেশটির বৃহত্তম নগরী বাণিজ্যিক কেন্দ্র। রুশ যুদ্ধবিমান রবিবারও তাদের লক্ষ্যে হামলা অব্যাহত রেখেছে এবং সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে কুর্দীদের অবস্থান লক্ষ্য করে দ্বিতীয় দিনের মতো হামলা চালিয়ে সিরীয় সংঘাতে আরও জড়িয়ে পড়েছে তুরস্ক। এদিকে আঙ্কারার অভিযোগ, ওই অঞ্চলের রাজনৈতিক শূন্যতার ফায়দা লুটছে কর্দীরা। এদিকে সিরিয়ার এই নতুন সহিংসতায় এই ভঙ্গুর চুক্তিটি ভ-ুল হয়ে যাওয়ার হুমকির মধ্যে রয়েছে। চুক্তিতে ইন্টারন্যাশনাল সিরিয়া সাপোর্ট গ্রুপের অন্তর্গত মন্ত্রীরা দেশটিতে ত্রাণ সরবরাহ ত্বরান্বিত ও সম্প্রসারিত করতেও সম্মত হন। তবে ইসলামিক স্টেট (আইএস) ও সিরিয়ায় আল-কায়েদা শাখা আল-নুসরা ফ্রন্টের ক্ষেত্রে অস্ত্রবিরতি প্রযোজ্য হবে না। ক্রেমলিন রবিবার জানিয়েছে, ওবামা ও পুতিন এই সঙ্কট নিয়ে টেলিফোনে কথা বলেছেন এবং মিউনিখ চুক্তি একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ বলে সম্মত হয়েছেন তারা। দেশটিতে ত্রাণ সরবরাহ ত্বরান্বিত করতে এবং অস্ত্রবিরতি বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন উভয় নেতা। কিন্তু হোয়াইট হাউস বলেছে, বিমান হামলা বন্ধের প্রয়োজনীয়তার ওপর ওবামা বিশেষ জোর দিয়েছেন। সিরিয়ার উদারপন্থী বিদ্রোহী বাহিনীর ওপর বিমান হামলা বন্ধে মস্কোর গঠনমূলক ভূমিকা পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন ওবামা। সিরিয়ার উদারপন্থী বিরোধী যোদ্ধাদের ওপর হামলা বন্ধে রাশিয়ার প্রতি একই আহ্বান জানিয়েছেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফিলিপ হ্যামন্ড। তিনি বলেছেন, একটি ফোনকলের মাধ্যমে সিরিয়া যুদ্ধ অবসানে এই বিশ্বে একজন মানুষই আছেন এবং তিনি হলেন পুতিন। সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ ক্ষমতা ছাড়বেন কিনা তার সবই চূড়ান্তভাবে নির্ভর করছে রাশিয়ার ওপর। তারা আসাদকে ক্ষমতা থেকে সরাতে নিজেদের প্রভাব কাজে লাগাতে চান কিনা সেটি বড় বিষয়। এমন আহ্বান সত্ত্বেও লাতাকিয়া ও আলেপ্পো প্রদেশে রাশিয়া বিমান হামলা অব্যাহত রেখেছে। ব্রিটিশ ভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস বলেছে, সিরীয় প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের অনুগত বাহিনীর সমর্থনে আলেপ্পোর উত্তরাঞ্চলে ব্যাপক বোমাবর্ষণ করেছে রুশ যুদ্ধবিমানগুলো। তবে ক্রেমলিন এক বিবৃতিতে স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, আইএস ও অন্য সন্ত্রাসী সংগঠনের বিরুদ্ধে তার অভিযান চালাতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ রাশিয়া। এদিকে ত্রাণ কর্মীরা বলেছেন, সাম্প্রতিক সহিংসতা বেড়ে যাওয়ায় মানবিক ত্রাণ সরবরাহ প্রচেষ্টা ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।

সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে কুর্দী যোদ্ধাদের ওপর হামলা চালানো বন্ধ করতে তুরস্কের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ফ্রান্স। সিরীয় যুদ্ধ পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ায় এক বিবৃতিতে ‘উদ্বেগ’ প্রকাশ করে ফরাসি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তুরস্ক শনিবার থেকে সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে কুর্দী বেসামরিক বাহিনীর অবস্থান লক্ষ্য করে গোলাবর্ষণ শুরু করেছে। সিরীয় কুর্দিদের এই বাহিনীটিকে তুরস্কে নিষিদ্ধ তুর্কি কুর্দীস্তান ওয়ার্কার্স পার্টির (পিকেকে) সঙ্গে সম্পর্কিত বলে দাবি করেছে তুরস্ক। ফ্রান্স বলেছে, সিরিয়ার সহিংসতা বন্ধ করতে গত সপ্তাহে মিউনিখে যে সমঝোতা হয়েছে তা বাস্তবায়নে অগ্রাধিকার দেয়া উচিত এবং তথাকথিক আইএসের বিরুদ্ধে লড়াই জোরদার করা উচিত।