১৫ নভেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ধনী-দরিদ্রের আয়ুর বৈষম্যও বাড়ছে

  • যুক্তরাষ্ট্রে কল্যাণের সবচেয়ে বড় মাপকাঠিতেও পরাজিত নিম্ন আয়ের মানুষ

ধনীরা সাধারণত দরিদ্রদের চেয়ে বেশি দিন বাঁচে বলে বিশেষজ্ঞদের কাছে অনেক আগে থেকেই জানা আছে। কিন্তু এখন ক্রমশ প্রকাশিত পরিসংখ্যানে আরও উদ্বেগজনক ছবি প্রকাশ পাচ্ছে। চিকিৎসা, প্রযুক্তি ও শিক্ষার ক্ষেত্রে বড় রকমের অগ্রগতি সত্ত্বেও উঁচু আয়ের ও নিচু আয়ের আমেরিকানদের মধ্যে আয়ুষ্কালের ব্যবধানও দ্রুত বাড়ছে। খবর ইন্টারন্যাশনাল নিউইয়র্ক টাইমস অনলাইনের।

দরিদ্ররা কেবল আয়ের দিক দিয়েই লয় আয়ুর দিক দিয়েও পিছিয়ে পড়ছে। অথচ, মানুষের আয়ুই জনকল্যাণের সবচেয়ে মৌলিক মাপকাঠি। ১৯৭০-এর দশকের প্রথম দিকে বেশি আয়ের কোন ৬০ বছরের ব্যক্তি কম আয়ের কোন একই বয়সের কোন ব্যক্তির চেয়ে এক দশমিক দুই বছর বেশি বাঁচার আশা করতে পারতেন।

সোশ্যাল সিকিউরিটি এ্যাডমিনিস্ট্রেশনের এক বিশ্লেষণে একথা বলা হয়। ২০০১ সালের কথা বলতে গেলে, তিনি তার দরিদ্রতর প্রতিপক্ষের তুলনায় ৫ দশমিক ৮ বছর বেশি বাঁচার আশা করতে পারতেন। শুক্রবার প্রকাশিত পরিসংখ্যানে নতুন গবেষণার ফলাফলে আরও বেদনাদায়ক চিত্র ফুটে ওঠে। আয়ের সর্বোচ্চ সীমা-পরিসীমা বিশ্লেষণ করে ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের অর্থনীতিবিদরা দেখতে পান যে, ১৯২০ সালে জাত পুরুষদের ক্ষেত্রে অর্থ উপার্জনকারীদের শীর্ষ স্তরের ১০ শতাংশ এবং সর্বনিম্নস্তরের ১০ শতাংশের গড় আয়ুর পার্থক্য ছয় বছর। ১৯৫০ সালে জাত পুরুষদের ক্ষেত্রে ঐ পার্থক্য দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে ১৪ বছরে দাঁড়ায়। নারীদের ক্ষেত্রে ঐ দু’শ্রেণীর অর্থ উপার্জনকারীদের গড় আয়ুর পার্থক্য ৪ দশমিক ৭ বছর থেকে বেড়ে ১৩ বছরে দাঁড়ায়। ধনী-দরিদ্রদের এ ক্রমবর্ধমান বৈষম্য নীতি নির্ধারকদের মধ্যে আশঙ্কার সৃষ্টি করছে। এটি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচার অভিযানেও গুরুত্ব পেয়েছে। বৃহস্পতিবার ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সিনেটর বার্নি স্যান্ডারস এবং হিলারি ক্লিনটন কোন কোন আমেরিকানের আয়ুস্কাল হ্রাস পাওয়ায় উদ্বেগ ব্যক্ত করেন। ওবামা প্রশাসনের সাবেক কর্মকর্তা পিটার ওরসজ্যাক বলেন, এটি অসাম্য নিয়ে আলোচনার পরবর্তী ক্ষেত্র তৈরি করতে পারে। তিনি তখন সিটি গ্রুপে কর্মরত। যারা বৈষম্যের এ ধারা প্রথম উন্মোচন করেন তাদের মধ্যে তিনি অন্যতম। আয়ুর পার্থক্যের কারণ নিয়ে এখনও অনুসন্ধান করা হচ্ছে। কিন্তু জনস্বাস্থ্য গবেষকরা বলছেন, ধনী ও শিক্ষিত মানুষের মধ্যে ধূমপান খুবই কমে যাওয়া এ পার্থক্যের অন্যতম কারণ হতে পারে। ব্রুকিংস জরিপ অনুযায়ী, ১৯২০ সালে জাত পুরুষদের তুলনায় ১৯৫০ সালে জাত পুরুষদের মধ্যে মজুরি উপার্জনকারী ১০ শতাংশের গড় আয়ু শতকরা মাত্র ৩ ভাগ বেড়েছে। তবে সর্বোচ্চ মজুরি উপার্জনকারী ১০ শতাংশের গড় আয়ু শতকরা প্রায় ২৮ ভাগ বেড়েছে।