১৯ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

দাঁড়াতে পারছে না ব্রিকস

উদীয়মান অর্থনীতির দেশ ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকার সম্মিলিত জোট ব্রিকসের ‘নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক’ যাত্রা শুরু হয় মূলত ২০১৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে। বিকাশমান অর্থনীতির পাঁচ দেশ সংক্ষেপে সবার কাছে পরিচিত হয় ‘ব্রিকস’ হিসেবে। মূলধন ১০০ বিলিয়ন ডলার। যাত্রা শুরু হয়েছে ৫০ বিলিয়ন ডলার নিয়ে। বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের আদলে গড়ে ওঠা ব্যাংকটির মূল লক্ষ্য উন্নয়নশীল দেশগুলোতে ঋণ বিতরণ। সূচনাটা শুভই ছিল। সেসময় ব্রিকসে যোগদানে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া, মিসর, তুরস্ক, ইরান, আর্জেন্টিনা, নাইজিরিয়া, সিরিয়া, এমনকি গ্রীসও। কিন্তু বছর না পেরোতেই নানা সঙ্কটের মুখোমুখি ব্যাংকটি। সঙ্কট মোকাবেলা করে দাঁড়াতেই যেন পারছে না তারা। বলা চলে অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে যাচ্ছে ব্রিকস। ২০১২ সালে যখন এ ব্যাংক গঠনের সিদ্ধান্ত হয় তখন বিশ্ব অর্থনীতি এক দীর্ঘ মন্দা থেকে বেরিয়ে আসছে। তখন বৈশ্বিক জিডিপি, বাণিজ্যের পরিমাণ, বিনিয়োগ ও নতুন চাকরি সৃষ্টির মতো আর্থিক সূচকগুলোর গ্রাফ অনুকূলে ছিল। এখন দৃশ্যপট পাল্টেছে অনেক। অথচ এখনও ব্রিকসভুক্ত দেশগুলোকে পার করতে হয়েছে কঠিন সময়।

চীন বিশ্বে দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ। অনেক দেশেরই আমদানি-রফতানি চীনের ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল। দেশটির শেয়ারবাজারের ধস সূচক নামিয়ে দিয়েছে অন্য পুঁজিবাজারেও। অর্থনীতির গতি দুর্বল হয়ে আসার প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক বাণিজ্যে। রফতানি ঠিক রাখতে টানা কয়েকবার নিজস্ব মুদ্রার দাম কমিয়েছে চীন। ইউক্রেনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপে বিরূপ প্রতিক্রিয়া জানায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। ফলে আর্থিক নিষেধাজ্ঞার মুখেও পড়তে হয় দেশটিকে। অন্যদিকে তেলের পড়তি দামও দেশটির অর্থনীতিতে চরমভাবে আঘাত করেছে। যদিও আর্থিক দুর্দশার ধাক্কা সরাসরি ভারতের গায়ে লাগেনি, তবু খুব একটা স্বস্তিকর অবস্থায় নেই দেশটি। দুর্নীতি ও লাল ফিতার দৌরাত্ম্যের কারণে বার বারই আন্তর্জাতিক খবরের শিরোনাম হয়েছে ভারত। মোদি সরকারের ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ ক্যাম্পেন প্রশংসা পেলেও বিনিয়োগের পালে তেমন হাওয়া লাগাতে পারেনি দেশটি। দক্ষিণ আফ্রিকার অর্থনৈতিক সূচক অগ্রসরমান হলেও সার্বিক মন্দা পরিস্থিতি এখনও অনুকূলে আসেনি। এদিকে ব্রাজিলের অবস্থা তথৈবচ। রাজনৈতিক অস্থিরতা, আর্থিকভাবে অসফল নানা কর্মসূচী- সব মিলিয়ে পরিস্থিতি অনুকূলে নেই তাদের। ফলে ব্রিকস ব্যাংকের যে ঘোষণা আশার সঞ্চার করেছিল এর কতখানি শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হবে তা নিয়ে ভাবনার যথেষ্টই অবকাশ থেকে যাচ্ছে।

ব্রিকস ব্যাংক প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই উন্নয়নশীল দেশগুলোর সঙ্কট পরিত্রাণের উপায় খুঁজেছিলেন ব্রিকসের শীর্ষ কর্ণধাররা। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই অর্থনীতিবিদরা আশা করেছিলেন, ব্রিকস ব্যাংক বিশ্বব্যাংকের বিকল্প হয়ে উঠবে শীঘ্রই। কারণ বিশ্বের সব দেশেরই এখন ঋণের চাহিদা আছে। ফলে দ্রুতই ব্রিকস বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের প্রতিযোগী হয়ে উঠবে। তারা মনে করত ব্রিকস ব্যাংক যদি সময়োপযোগী ব্যাংক হয় এবং তাদের শর্তাবলী যদি অনুকূলে থাকে তাহলে এটির সাফল্য সুনিশ্চিত। এতে তৃতীয় বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশগুলো লাভবান হবে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে সে আশায় ছেদ পড়েছে। যাদের নিয়ে এত আশা এত স্বপ্ন তারাই আজ মন্দার কবলে। বলা যায়, তারাই আজ পশ্চিমা বিশ্বের মুখাপেক্ষী। সমস্যাগুলো কাটিয়ে উঠতে সম্মিলিতভাবে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। এই অবস্থা থেকে দ্রুত উত্তরণ ঘটাতে হবে। নিজেকে দাঁড়ানোর শক্তি অর্জন করতে হবে ব্রিকসকে। একটি উন্নয়ন ব্যাংক হিসেবে আত্মপ্রকাশ ঘটানোর উদ্যোগ নিতে হবে। এই লক্ষ্যে দীর্ঘমেয়াদী যৌক্তিক ও বাস্তবানুগ পদক্ষেপ দ্বারা উন্নয়নশীল দেশের উন্নয়ন কাঠামো গঠন এবং দারিদ্র্য বিমোচনে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে। কর্মপন্থার মাধ্যমে ব্রিকস ব্যাংককে সম্প্রসারণ ঘটাতে হবে।