২১ নভেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

তিন মাসে খেলাপী ঋণ কমেছে ৩ হাজার কোটি টাকা

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ ব্যাংকিং খাতে খেলাপী ঋণ কমছেই না। গেল বছরের ডিসেম্বর শেষে এ খাতে খেলাপী ঋণ দাঁড়িয়েছে ৫১ হাজার ৩৭১ কোটি টাকা। যা মোট বিতরণ করা ঋণের ৮ দশমিক ৭৯ শতাংশ। এক বছর আগে ২০১৪ সালে খেলাপী ঋণ ছিল ৫০ হাজার ১৫৬ কোটি টাকা। এ হিসাবে ১ বছরের ব্যবধানে খেলাপী ঋণ বেড়েছে ১ হাজার ২১৫ কোটি টাকা। তবে গেল বছরের সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর এই তিন মাসে এ খাতে খেলাপী ঋণ কমেছে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা। ধারণা করা হচ্ছে বিশেষ সুবিধায় বিপুল অঙ্কের ঋণ পুনঃতফসিল ও পুনর্গঠনের মাধ্যমে নিয়মিত হওয়ায় ডিসেম্বর প্রান্তিকে খেলাপী ঋণ কমেছে। এ ছাড়া ডিসেম্বর প্রান্তিকে খেলাপী ঋণ আদায়ের ওপরও জোর দেয়া হয়। কারণ ডিসেম্বর শেষে ব্যাংকগুলোর অডিট রিপোর্ট প্রকাশ হয়। তাই সেখানে যেন ভাল অবস্থান দেখানো যায়, তাই এ সময়ে ঋণ আদায়ের ওপর বেশি জোর দেয় ব্যাংকগুলো। বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, বিশেষ সুবিধায় ঋণ পুনঃতফসিল ও পুনর্গঠনের পাশাপাশি ঋণ আদায় বৃদ্ধি পাওয়ায় এ সময়ে খেলাপী ঋণ কমেছে।

জানা গেছে, গেল বছর ৫০০ কোটি টাকার ওপরে থাকা বড় বড় প্রতিষ্ঠানের প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকার ঋণ পুনর্গঠনের সুযোগ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর পাশাপাশি শতভাগ প্রভিশন বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা রেখে বেশ কিছু ঋণ অবলোপনও করেছে। ফলে গেল বছরের সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর এই তিন মাসে খেলাপী ঋণ কমেছে ৩ হাজার ৩৩৭ কোটি টাকা বা ৬ শতাংশ। সেপ্টেম্বর শেষে এ খাতে খেলাপী ঋণ ছিল ৫৪ হাজার ৭০৮ কোটি ২৮ লাখ টাকা বা ৯ দশমিক ৮৯ শতাংশ। এর আগে জুন প্রান্তিকে ব্যাংকগুলোর মোট খেলাপী ঋণ ছিল ৫২ হাজার ৫১৯ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৯ দশমিক ৬৭ শতাংশ। আর মার্চে ছিল ৫৪ হাজার ৬৫৮ কোটি টাকা। যা ১০ দশমিক ৪৭ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা যায়, গেল বছরের ডিসেম্বর শেষে ব্যাংকগুলো ৫ লাখ ৯৫ হাজার ৩০২ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করেছে। এর মধ্যে খেলাপী ঋণ ৫১ হাজার ৩৭১ কোটি টাকা। এ সময়ে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতেই সর্বাধিক পরিমাণ খেলাপী ঋণ রয়েছে। রাষ্ট্রীয় মালিকানার সোনালী, জনতা, অগ্রণী, রূপালী, বেসিক ও বিডিবিএলের খেলাপী ঋণ বেড়ে ২৩ হাজার ৭৪৪ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। যা এসব ব্যাংকের মোট বিতরণকৃত ঋণের ২১ দশমিক ৪৬ শতাংশ। এবারই প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (বিডিবিএর) হিসাবও রাষ্ট্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। এর আগে ২০১৪ ডিসেম্বর শেষে এসব ব্যাংকের ২২ হাজার ৭৬৩ কোটি টাকার বেশি খেলাপী ঋণ ছিল। যা ওই সময় বিতরণকৃত ঋণের ২২ দশমিক ২৩ শতাংশ। ডিসেম্বর শেষে বেসরকারী ৩৯ ব্যাংকে ২০১৫ শেষে খেলাপী ঋণের পরিমাণ হয়েছে ২০ হাজার ৭৬০ কোটি টাকা বা মোট ঋণের ৪ দশমিক ৮৫ শতাংশ। এর আগে ২০১৪ সাল শেষে এসব ব্যাংকের খেলাপী ঋণের পরিমাণ ছিল ১৮ হাজার ৪২৬ কোটি টাকা বা ব্যাংকগুলোর বিতরণ করা ঋণের ৪ দশমিক ৯৮ শতাংশ। বিশেষায়িত কৃষি ও রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের (রাকাব) খেলাপী ঋণ কমে হয়েছে ৪ হাজার ৯৬৮ কোটি টাকা বা তাদের মোট ঋণের ২৩ দশমিক ২৪ শতাংশ। বিদেশী নয় ব্যাংকে খেলাপী ঋণ বেড়ে ১ হাজার ৮৯৭ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে, যা ওই নয় ব্যাংকের মোট ঋণের ৭ দশমকি ৭৭ শতাংশ। ২০১৪ সাল শেষে এর পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৭০৭ কোটি টাকা বা মোট ঋণের ৭ দশমিক ৩০ শতাংশ।