২০ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

রাজশাহীতে তথ্য গোপন করে দুই আসামির জামিন

স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী ॥ পবা উপজেলার গ্রামে দুই স্কুলছাত্রকে নির্যাতনের ঘটনায় দায়ের মামলা শিশু আদালতে স্থানান্তর করা হয়েছে। মঙ্গলবার সিনিয়র জুডিশিয়াল আদালত থেকে মামলাটি শিশু আদালতে পাঠানো হয়। তবে সোমবার তথ্য গোপন করে ওই আদালত থেকে মামলার দুই আসামি জামিন নিয়েছে বলে জানান এপিপি রাশেদ উন নবী আহসান। এ নিয়ে আইনজীবীদের মধ্যেও তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এপিপি রাশেদ উন নবী আহসান জানান, মঙ্গলবার সকালে রাজশাহীর সিনিয়র জুডিশিয়াল আদালতে আত্মসমর্পন করে জামিনের আবেদন করে মামলার সাত আসামি। নির্যাতিত শিশুদের একজনের বয়স ১৩ ও অপরজনের ১৪ বছর নজরে আসায় আবেদনটি শুনানির জন্য বিচারক একরামুল কবীর গ্রহন না করে মামলা শিশু আদালতে পাঠিয়ে দেন। পরে তারা শিশু আদালতে আর আত্মসমর্পন করেনি। তিনি জানান, তথ্য গোপন করে মামলাটি সিনিয়ার জুডিশিয়াল আদালতে পাঠানো হয়। আর এই সুযোগে মঙ্গলবার এ মামলার গ্রেফতার আজিজুল ইসলাম জামিন পেয়ে যায়। একই সঙ্গে আত্মসমর্পন করে জামিন নেয় মামলার অপর আসামি উজ্জল।

সড়ক অবরোধ বিক্ষোভ

এদিকে মোবাইল ফোন চুরির কথিত অভিযোগে রাজশাহীর পবায় জাহিদ ও ইমন নামের দুই শিশুর ওপর নির্যাতনের প্রতিবাদে আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। অপরাধীদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও শাস্তির দাবিতে মঙ্গলবারও উপজেলার দুয়ারী এলাকায় রাজশাহী-তানোর সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে তারা। মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে পবার দুয়ারী এলাকায় জমায়েত হয় জাহিদের অধ্যয়নরত বাকসারা স্কুলের শত শত শিক্ষার্থী। তাদের সঙ্গে যোগ দেন এলাকাবাসীও। এ সময় আহত জাহিদের পিতাও উপস্থিত ছিলেন। এ সময় বিভিন্ন সেøাগান সম্বলিত ব্যানার নিয়ে শিক্ষার্থীরা কিশোর জাহিদ এবং ইমনের ওপর পাশবিক নির্যাতনের প্রতিবাদ জানায়। তারা অবিলম্বে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। এর আগে গত সোমবার নির্যাতনকারীদের ধরে আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ করে এলাকাবাসী। এদিকে ঘটনার চারদিনেও একজন আসামি ছাড়া আর কাউকে ধরতে পারেনি পুলিশ। এ নিয়ে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন এলাকাবাসী। এলাকাবাসীর অভিযোগ আসামিদের মধ্যে ছুটিতে আসা একজন সেনা ও একজন র‌্যাব সদস্য থাকায় পুলিশ দায়সারা ভূমিকা পালন করছে। প্রসঙ্গত, শুক্রবার সকালে পবার চৌবাড়িয়া এলাকার ফজলুর রহমানের ছেলে রাকিবের একটি মোবাইল ফোন চুরি হয়। ওই ফোন চুরির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে শিশু ইমনকে ধরে নিয়ে যায় ফজলুর বাড়ির লোকজন। একইদিন দুপুর তিনটার দিকে নানার বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার সময় ধরে নিয়ে যাওয়া হয় জাহিদ হোসেনকে।