১৭ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সেবা নয়, অর্থই মুখ্য

সেবা নয়, অর্থই মুখ্য
  • আইসিইউতে লাগবে গলাকাটা টাকা ;###;সর্বক্ষণিক বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের অভাব ;###;ক্লিনিকগুলো নির্ভরশীল সরকারী চিকিৎসকদের ওপর ্র ৬৪ ভাগ নার্সের প্রশিক্ষণ নেই

নিখিল মানখিন ॥ অনেক বেসরকারী হাসপাতাল ও ক্লিনিকের বিরুদ্ধে অনুমোদন পাওয়ার পর শর্ত ভঙ্গ, অব্যবস্থাপনা ও ভুল চিকিৎসা প্রদানের অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি এসব অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত একের পর এক বেসরকারী হাসপাতাল ও ক্লিনিককে জেল জরিমানা দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, পর্যাপ্ত সর্বক্ষণিক চিকিৎসকের অভাবে চরমভাবে ব্যাহত হয় বেসরকারী হাসপাতাল ও ক্লিনিকের স্বাভাবিক চিকিৎসাসেবা। অথচ সরকারী ও বেসরকারী চিকিৎসকের বড় অংশ ব্যক্তিমালিকানাধীন হাসপাতাল ও ক্লিনিক কাজ করেন। কিন্তু তাঁদের অধিকাংশই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিমালিকানাধীন চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে সর্বক্ষণিক বা বেশিক্ষণ অবস্থান করেন না। রোগ ও রোগীর অবস্থা অনুযায়ী চিকিৎসকদের ডেকে নেয়ার ঘটনা ঘটে। অনেক বেসরকারী চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে সঙ্কটাপন্ন রোগীর প্রয়োজনে সঠিক সময়ে চিকিৎসক পাওয়া যায় না। ফলে চিকিৎসক আসার আগেই অনেক রোগীর মৃত্যু হয়। ক্লিনিকগুলো মূলত সরকারী খাতের চিকিৎসকদের ওপর নির্ভরশীল। স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে বেসরকারী হাসপাতাল, ক্লিনিকের অনুমোদন পেতে মোট একত্রিশটি শর্ত পূরণ করতে হয়। কিন্তু প্রদত্ত আবেদনপত্রের ৩১টি তথ্য কাগজে-কলমে ঠিক থাকলেও অধিকাংশ শর্ত পূরণ করেন না মালিকরা। আর আইসিইউ নিয়ে ফাঁকিবাজি ও আর্থিক বাণিজ্য চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (আইসিইউ) এর নামে উচ্চ চিকিৎসা ফি আদায় করছে অনেক হাসপাতাল। শুধু তাই নয়, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সুবিধা ও উপকরণ ছাড়াই চলছে রাজধানীর অনেক বেসরকারী হাসপাতালের ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (আইসিইউ)।

সম্প্রতি নগর স্বাস্থ্যসেবায় বেসরকারী খাতের ভূমিকা নিয়ে এক গবেষণা পরিচালনা করে আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআরবি)। গবেষণায় দেখা গেছে, ৬২ শতাংশ চিকিৎসক ব্যক্তিমালিকানাধীন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে কাজ করেন। অন্যদিকে সরকারী খাতের ৮০ শতাংশ চিকিৎসকও ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ মেডিকেল এ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) হিসাব মতে, দেশে নিবন্ধিত চিকিৎসকের সংখ্যা ৭৩ হাজার ৩০০। সেপ্টেম্বর ২০১৩ থেকে ২০১৪ সালের মার্চ পর্যন্ত ঢাকা, খুলনা ও সিলেট সিটি করপোরেশন এলাকার বেসরকারী হাসপাতাল ও ক্লিনিকের তথ্য আইসিডিডিআরবির গবেষকরা সংগ্রহ করেছেন। এতে হাসপাতাল ও ক্লিনিকের ৪৭ জন মালিক, ২০ জন স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপক ও ২০ জন রোগীর সাক্ষাতকার নেয়া হয়েছে। এ ছাড়া ৩০টি প্রতিষ্ঠানের ওপর পর্যবেক্ষণ তথ্য গবেষণায় ব্যবহার করা হয়েছে।

গবেষকরা বলছেন, বেসরকারী হাসপাতাল ও ক্লিনিকে সর্বক্ষণিক চিকিৎসক রাখা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ। অস্ত্রোপচারের সময় চিকিৎসকের উপস্থিতি প্রায় নিশ্চিত থাকে। ক্লিনিকগুলো মূলত সরকারী খাতের চিকিৎসকদের ওপর নির্ভরশীল। দেশের আইনে বলা আছে, ইন্টার্ন চিকিৎসকরা নিজের প্রতিষ্ঠানের বাইরে রোগী দেখতে পারবেন না। কিন্তু অনেক বেসরকারী ক্লিনিকে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা রোগী দেখেন।

ঢাকা সিটি করপোরেশনের একটি হিসাব এতে দেয়া হয়েছে। ওষুধের ও চশমার দোকান বাদ দিয়ে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় সরকারী- বেসরকারী হাসপাতাল ও ক্লিনিকের সংখ্যা ৭ হাজার ৩৪৭টি। প্রতি এক লাখ মানুষের জন্য সরকারী- বেসরকারী মিলিয়ে হাসপাতাল বা ক্লিনিক আছে ১০৫টি।

গবেষণায় বলা হয়, আইসিডিডিআরবির সেন্টার ফর ইক্যুইটি এ্যান্ড হেলথ সিস্টেমস এই গবেষণা করেছে। এতে অর্থায়ন করেছে ব্রিটেনের দাতা সংস্থা ডিএফআইডি। আটজন গবেষক দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন আনোয়ার ইকবাল। গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, এমন ধারণা প্রচলিত আছে যে, ওষুধ কোম্পানিগুলো চিকিৎসকদের একটি অংশকে দিয়ে ব্যবস্থাপত্রে নিজেদের ওষুধ লিখিয়ে নেয়। কিন্তু গবেষণায় দেখা গেছে, ওষুধ কোম্পানির সঙ্গে ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর যৌথ লাভের সম্পর্ক গড়ে উঠছে। এতে চিকিৎসার ক্ষেত্রে লাভ ও ক্ষতি দুটোই হতে পারে। চিকিৎসকরা কোম্পানি থেকে ওষুধ সম্পর্কে হালনাগাদ তথ্য পান, আর প্রতিষ্ঠানের ওষুধ প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত হয়। কিন্তু একই ধরনের ওষুধ ব্যবহারের চাপ থাকার কারণে কিছু জীবাণু ওষুধ-প্রতিরোধী হওয়ার আশঙ্কা থাকে। অন্যদিকে বাধ্য হয়ে কিনতে হয় বলে রোগীর খরচের বোঝা বড় হতে পারে।

গবেষকরা বলছেন, চিকিৎসাসেবা দেয়ার ক্ষেত্রে বেসরকারী হাসপাতাল ও ক্লিনিক বড় ভূমিকা রাখলেও এই খাতে জনবলের স্বল্পতা একটি বড় সমস্যা। সিলেটের ২০ ও খুলনায় ৩০ শতাংশ প্রতিষ্ঠানে সর্বক্ষণিক চিকিৎসক থাকেন না। দিনে চিকিৎসকস্বল্পতা বেশি প্রকট। উচ্চশিক্ষার সঙ্গে চিকিৎসকস্বল্পতার একটি সম্পর্ক আছে বলে গবেষকরা মনে করেন। যেমন খুলনায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রীর কোন ব্যবস্থা নেই। তরুণ চিকিৎসকরা ঢাকায় বা চট্টগ্রামে চলে যান। তাই এই শহরে তরুণ চিকিৎসক তুলনামূলক কম।

শর্ত পালন করে না অধিকাংশ হাসপাতাল-ক্লিনিক ॥ স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে বেসরকারী হাসপাতাল, ক্লিনিকের অনুমোদন পেতে আবেদনপত্রে চাওয়া তথ্যের মধ্যে রয়েছে হাসপাতাল, ক্লিনিকের নাম, ঠিকানা ও ফোন নম্বর, মোট শয্যা সংখ্যা, হাসপাতাল, ক্লিনিক প্রতিষ্ঠার তারিখ, প্রতিষ্ঠানের ধরন, মালিক/ মালিকদের ছবি-নাম ও পূর্ণ ঠিকানা এবং টেলিফোন নম্বর, মালিক/ মালিকরা সরকারী চাকরি করলে তার বিবরণ এবং না করলে অঙ্গীকারনামা, যৌথ মালিকানার ক্ষেত্রে চুক্তিপত্রের সত্যায়িত কপি, আমমোক্তারনামার সত্যায়িত কপি, বাড়িভাড়া চুক্তিপত্রের সত্যায়িত কপি এবং নিজ বাড়ি হলে দলিলের সত্যায়িত কপি, ট্রেড লাইসেন্সের সত্যায়িত কপি, রোগীদের জন্য বিভাগভিত্তিক সেবা প্রদানের তালিকা (বিবরণ আলাদাভাবে সংযুক্ত করতে হবে), প্রতিষ্ঠানে যে সমস্ত অস্ত্রোপচার করা হবে তার তালিকা (বিবরণ আলাদাভাবে সংযুক্ত করতে হবে), প্রতিষ্ঠানে মোট মেঝের (ফ্লোর) পরিমাণ, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত একক কেবিন সংখ্যা, শীতাতপবিহীন একক কেবিন সংখ্যা, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ডবল কেবিন সংখ্যা, শীতাতপবিহীন ডবল কেবিন সংখ্যা, সাধারণ ওয়ার্ডের শয্যা সংখ্যা, রোগীদের জন্য প্রদত্ত মেঝের পরিমাণ, কেবিন ও ওয়ার্ডের প্রকৃত মেঝের পরিমাণ ২১. অস্ত্রোপচার কক্ষ- অস্ত্রোপচার কক্ষের একটি সংক্ষিপ্ত বর্ণনা (বিবরণ আলাদাভাবে সংযুক্ত করতে হবে) ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কী না ২২, প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় ওষুধের তালিকা (বিবরণ আলাদাভাবে সংযুক্ত করতে হবে), প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির তালিকা (বিবরণ আলাদাভাবে সংযুক্ত করতে হবে), বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নাম, ঠিকানা ও শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্রের সত্যায়িত কপি ও সম্মতিপত্র, সর্বক্ষণিক চিকিৎসকদের ছবি, নাম, ঠিকানা ও শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্রের সত্যায়িত কপি এবং নিয়োগপত্র, যোগদানপত্র ও সরকারী চাকরি না করার অঙ্গীকারনামা, সর্বক্ষণিক নার্সদের ছবি, নাম, ঠিকানা ও শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্রের সত্যায়িত কপি এবং নিয়োগপত্র, যোগদানপত্র ও সরকারী চাকরি না করার অঙ্গীকারনামা, সর্বক্ষণিক ঝাড়ুদার, ওয়ার্ড বয়, আয়ার ছবি, নাম, ঠিকানা ও শিক্ষাগত যোগ্যতার সত্যায়িত কপি এবং নিয়োগপত্র, যোগদানপত্রের কপি, সর্বক্ষণিক অন্য কর্মচারীদের ছবি, নাম, ঠিকানা ও শিক্ষাগত যোগ্যতার সত্যায়িত কপি এবং নিয়োগপত্র, যোগদানপত্রের কপি ২৯. প্রতিষ্ঠানে প্রদত্ত অন্যান্য সুবিধাদি (বিবরণ আলাদাভাবে সংযুক্ত করতে হবে), পানি সরবরাহ, পয়ঃপ্রণালী, জরুরী বিদ্যুত ব্যবস্থা (জেনারেটর), আলো-বাতাস ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ বজায় আছে কী না? ৩১. প্যাথলজি পরীক্ষার সুযোগ আছে কী ? কিন্তু সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, প্রদত্ত আবেদনপত্রের ৩১টি তথ্য কাগজে-কলমে ঠিক থাকলেও বাস্তবে দেখা যায় না।

স্বাস্থ্য অধিদফতর সূত্র জানায়, দেশে ৮ হাজার ৬২০টি নিবন্ধিত ও বৈধ চিকিৎসা কেন্দ্রের ৬৬০টি রয়েছে রাজধানী ঢাকায়। তবে ধারণা করা হয়, এর সংখ্যা আরও কয়েকগুণ বেশি হবে, যার বেশিরভাগেরই নেই সরকারী অনুমোদন। র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আনোয়ার পাশার দেয়া তথ্যে জানা যায়, গত পাঁচ বছরে রাজধানীতে অন্তত ১২০টি ক্লিনিক নজরদারিতে আনা হয়েছে। এর মধ্যে অর্ধশত প্রতিষ্ঠান সিলগালা করা হয়েছে। শতাধিক ভুয়া চিকিৎসকের জেল-জরিমানা।

আইসিইউ নিয়ে ব্যবসা ॥ ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (আইসিইউ) এর নামে উচ্চ চিকিৎসা ফি আদায় করছে অনেক হাসপাতাল। শুধু তাই নয়, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সুবিধা ও উপকরণ ছাড়াই চলছে রাজধানীর কিছু সংখ্যক হাসপাতালের ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (আইসিইউ)। অভিযোগ উঠেছে, প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত মেডিক্যাল উপকরণ ও ওষুধের পরিমাণ দেখিয়ে বিল বাড়িয়ে দেয়া হয়। পর্যাপ্ত সংখ্যক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক রাখা হয় না। দু’তিনটি বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দ্বারা সব রোগের চিকিৎসা করানোর ব্যবসা চালানো হয়। অনেক হাসপাতালে আইসিইউর শতকরা ৭০ ভাগ শয্যার সঙ্গে কৃত্রিম শ্বাস প্রশ্বাস নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র নেই। শতকরা ৬০ ভাগ আইসিইউতে প্রতিটি শয্যার জন্য একজন করে সেবিকা নেই। আর যেসব সেবিকা আছেন তাদের শতকরা ৬৪ ভাগ সেবিকার প্রশিক্ষণ নেই। খরচ করেও কিছু হাসপাতালে সেবা পাওয়া যায় না বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনিতেই উচ্চ ফি ও সীমিত শয্যার কারণে আইসিইউ সেবা নিতে পারে না অনেক দরিদ্র রোগী।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের এ্যানেসথেসিয়া, এ্যানালজেসিয়া এ্যান্ড ইনটেনসিভ কেয়ার মেডিসিনের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা জানান, আইসিইউতে রোগীকে ওঠানো-নামানো, কাত করাসহ বিভিন্ন অবস্থানে রাখার জন্য বিশেষায়িত শয্যার দরকার। প্রত্যেক রোগীর জন্য পৃথক ভেন্টিলেটর (কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র) ও কার্ডিয়াক মনিটর (হৃদযন্ত্রের অবস্থা, শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা, কার্বন-ডাই অক্সাইড নির্গমনের মাত্রা, শ্বাস-প্রশ্বাসের গতি, রক্তচাপ পরিমাপক), ইনফিউশন পাম্প (স্যালাইনের সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম মাত্রা নির্ধারণ যন্ত্র) দরকার। আইসিইউতে শক মেডিশন (হৃদযন্ত্রের গতি হঠাৎ থেমে গেলে তা চালু করার যন্ত্র), সিরিঞ্জ পাম্প (শরীরে ইনজেকশনের মাধ্যমে যে ওষুধ প্রবেশ করানো হয় তার মাত্রা নির্ধারণের যন্ত্র), ব্লাড ওয়ার্মার (রক্ত দেয়ার আগে শরীরের ভেতরকার তাপমাত্রার সমান করার জন্য ব্যবহৃত যন্ত্র) থাকবে। পাশাপাশি কিডনি ডায়ালাইসিস মেশিন, আল্ট্রাসনোগ্রাম, এবিজি মেশিন (মুমূর্ষু রোগীর রক্তে বিভিন্ন উপাদানের মাত্রা নির্ধারণ) থাকতে হবে। তাঁরা বলেন, জরুরী পরীক্ষার জন্য আইসিইউসির সঙ্গে একটি পরীক্ষাগার থাকাও আবশ্যক বলে জানান বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।

জটিল রোগের চিকিৎসায় ও জরুরী প্রয়োজনে আইসিইউর সেবা নিতে হয়। চিকিৎসকরাও এই সেবার কথা ব্যবস্থাপনাপত্রে লেখেন। কিন্তু খরচ করেও কিছু হাসপাতালে সেবা পাওয়া যায় না বলে অভিযোগ উঠেছে। অনেক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অভিযোগ করেন, বর্তমানে আইসিইউ একটি ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। আইসিইউগুলো কে কীভাবে চালাচ্ছে, তা সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত নজরদারিতে থাকা উচিত। রাজধানীর নামী হাসপাতালগুলোতে আইসিইউর দৈনিক খরচ ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা এবং মাঝারি হাসপাতালগুলোতে খরচ ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা বলা হলেও তার দ্বিগুণ টাকা দিতে হয় রোগীদের।

এদিকে প্রাইভেট হাসপাতাল-গুলোর বিরুদ্ধে ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটের(আইসিইউ) নামে উচ্চ ফি আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। শুধুমাত্র প্রতিদিন প্রতি বেডের পেছনেই গুনতে হচ্ছে কমপক্ষে ১০ হাজার টাকা। রোগীর অবস্থা অনুযায়ী বাড়তে থাকে আইসিইউ’র দৈনিক চিকিৎসা ব্যয়। প্রতিদিন গড়ে একজন রোগীকে দিতে হয় ৩০ হাজার থেকে ৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত। উচ্চ হারের কারণে প্রাইভেট হাসপাতালের আইসিইউ সেবা গ্রহণ করতে পারে না স্বল্প আয়ের লোকজন। টাকার অভাবে আইসিইউ সেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করতে হয় অনেক রোগীকে। অত্যাধুনিক চিকিৎসা সেবা ব্যবস্থা থাকার পরও প্রাইভেট হাসপাতালগুলোর আইসিইউ ফি কমানো সম্ভব এবং উচিত বলে মনে করছেন দেশের বিভিন্ন পেশাজীবীর লোকজন। ব্যবসার পাশাপাশি সেবার মনোভাব বজায় রাখার দাবি জানান অনেক রোগী ও তাদের অভিভাবকরা। তারা অভিযোগ করেন, অনেক রোগী আইসিইউ ফি ও ওষুধপত্রের টাকা হাতে নিয়ে ভর্তি হয়। কিন্তু দু’ দিন পরই আইসিইউ ফিসহ চিকিৎসা খরচ লাখের বেশি হয়ে যায়। ফি বেড়ে যাওয়ার কোন ব্যাখ্যা পর্যন্ত দিতে চায় না অনেক হাসপাতাল কর্তপক্ষ। আর পুরো টাকা পরিশোধ না করলে রোগী আটকে রাখার মতো ঘটনাও ঘটছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. দীন মোঃ নূরুল হক জনকণ্ঠকে জানান, দেশের প্রতিটি মেডিক্যাল কলেজসহ জেলা সদর হাসপাতালে নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র (আইসিইউ) স্থাপনের বিষয়টি সরকারী বিবেচনায় রয়েছে। জেলা সদর পর্যায়ের হাসপাতালে দায়িত্বরত চিকিৎসকরা উদ্যোগী হলে দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রতিটি হাসপাতালে আইসিইউ স্থাপন করা যাবে। এজন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সরবরাহে সার্বিক সহযোগিতা করবে সরকার। এ উদ্যোগ সফল হলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ অনেকাংশে কমে যাবে। উচ্চ ফি নেয়ার প্রতিযোগিতাও বেশি থাকবে না। রোগী ও তাদের অভিভাবকদেরও আরও বেশি সচেতন হওয়া দরকার। বেসরকারী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার নীতিমালা খসড়া তৈরি করা হয়েছে। খুব শীঘ্রই তা চূড়ান্ত হবে। অনুমোদনের শর্ত ভঙ্গকারী এবং বাণিজ্যিক স্বার্থ প্রাধান্য দিতে গিয়ে ভুল চিকিৎসা প্রদানকারী চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।