১৫ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

গাজীপুরে ডিবির এক এএসআই ও দুই কনস্টেবল প্রত্যাহার

  • নার্স নেতাকে মারধর

নিজস্ব সংবাদদাতা, গাজীপুর, ১৬ ফেব্রুয়ারি ॥ শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে পুলিশের সন্দেহভাজন আসামি পালিয়ে যাওয়ায় হাসপাতালের নার্স এ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদককে মারধর এবং সেবিকাদের মারধর করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের সদস্যরা। এর প্রতিবাদে এবং বিচার দাবিতে হাসপাতালের নার্স, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ করেছে। এ ঘটনায় মঙ্গলবার গাজীপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের এক এএসআই ও দুই কনস্টেবলকে জেলা পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

গাজীপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আমির হোসেন জানান, গাজীপুর ডিবি পুলিশ সিটি কর্পোরেশনের নলজানি এলাকার ইসমাইল খানের পুত্র রিফাতকে (২২) আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাকে মঙ্গলবার রাতে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দিতে নেয় ওই তিন পুলিশ। এ সময় হাসপাতালের জরুরী বিভাগ থেকে অন্য এক আসামী রানা পালিয়ে যায়। তাকে পালিয়ে যেতে সাহায্য করার অভিযোগে নার্সদের সঙ্গে পুলিশের কথাকটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে হাসপাতালের নার্স এ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আবুল ফজলকে মারধর ও সেবিকাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করারও অভিযোগ পাওয়া গেছে এএসআই মুশফিকুর রহমানসহ ওই দুই পুলিশ কনস্টেবলের বিরুদ্ধে। পরে রাতে হাসপাতালের চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ রেখে ডিবি পুলিশের বিচার দাবিতে হাসপাতালের নার্স, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ করে। ওই ঘটনায় মঙ্গলবার গাজীপুর ডিবি পুলিশের অভিযুক্ত সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মুশফিকুর রহমান এবং কনস্টেবল আনোয়ার হোসেন ও ফজলুল হককে জেলা পুলিশ লাইনে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেন গাজীপুর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ।

শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার মোঃ আবদুস সালাম সরকার জানান, ডিবি পুলিশের এক এএসআই ও দুই কনস্টেবলকে প্রত্যাহার করা পর হাসপাতালের নার্স, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ প্রত্যাহার করে হাসপাতালের কার্যক্রম শুরু করেন। তবে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে উপযুক্ত ব্যবস্থা না নিলে শনিবার থেকে লাগাতার আন্দোলনের কর্মসূচী দেবে বলে নার্স এ্যাসাসিয়েশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।