২১ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য খালেদারও বিচার করতে হবে

  • সংসদে আলোচনা

সংসদ রিপোর্টার ॥ রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে সংসদ সদস্যরা অভিযোগ করেছেন, বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া পাকিস্তানের এজেন্ট হিসেবে বাংলাদেশ বিরোধী ষড়যন্ত্র করছেন। পাকিস্তানে বৃষ্টি হলে তিনি বাংলাদেশে বসে ছাতা ধরেন। পাকিস্তান বাংলাদেশের চিরশত্রু। পরাজিত এ দেশটির সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক রাখার কোন যৌক্তিকতা নেই। আর ৪০ বছর পর যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হলে, মানুষকে পুড়িয়ে মারার মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য খালেদা জিয়ারও বিচার করতে হবে।

স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এবং পরে ডেপুটি স্পীকার এ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বি মিয়ার সভাপতিত্বে মঙ্গলবার রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নেন সরকারী দলের শেখ ফজলুল করিম সেলিম, এ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন, মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী, মাহফুজুর রহমান, ফরিদুর হক খান, এম এ মালেক, এ এম নাইমুর রহমান দুর্জয়, জাতীয় পার্টির জিয়াউল হক মৃধা প্রমুখ।

আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকার দলীয় সিনিয়র সংসদ সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেন, বেগম খালেদা জিয়া থাকেন বাংলাদেশে, কিন্তু মনেপ্রাণে পুরো পাকিস্তানী। পাকিস্তানে বৃষ্টি হলে তিনি বাংলাদেশে বসে ছাতা ধরেন। খালেদা জিয়ার পাকিস্তান প্রীতির পরিচয় পাওয়া যায় পাকিস্তানী ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধীর একজন জেনারেল জানজুয়ার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করার মধ্য দিয়ে। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া পাকিস্তানের এজেন্ট হিসেবে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেন। মানুষ পুড়িয়ে মারেন। ৪০ বছর পর যদি যুদ্ধাপরাধের বিচার হতে পারে, তাহলে এক সময় মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের কারণে খালেদা জিয়ারও বিচার হতে হবে।

পাকিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করতে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতি দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, পাকিস্তানের এক কূটনীতিককে জঙ্গী সম্পৃক্ততার কারণে বাংলাদেশ বহিষ্কার করেছে। অথচ কোন অপরাধ না থাকার পরও বাংলাদেশের কূটনীতিক মৌসুমী রহমানকে বহিষ্কার করেছে পাকিস্তান। ঢাকায় তাদের দূতাবাসের মাধ্যমে তারা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। তিনি বলেন, পাকিস্তান বাংলাদেশের চিরশত্রু। তারা স্বাধীনতা যুদ্ধে হেরে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে যেন বাংলাদেশ এগিয়ে যেতে না পারে। এ অবস্থায় দেশটির সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক রাখার কোন যৌক্তিকতা নেই।

খালেদা জিয়ার সঙ্গে কোন ধরনের আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে শেখ সেলিম বলেন, এদের সঙ্গে কোন ধরনের আলোচনায় যাবে না আওয়ামী লীগ। আজ তিনি (খালেদা জিয়া) কোন মুখে আলোচনার কথা বলেন? তার লজ্জা করে না? নির্বাচনের আগে শেখ হাসিনা তাঁকে কয়েকবার ফোন করেছিলেন। তিনি ফোন ধরেননি। একবার ফোন ধরলেও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছিলেন। তিনি ভেবেছিলেন, শেখ হাসিনা দুর্বল, তাই আলোচনা করতে চাইছে। তাই শেখ হাসিনার আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে নির্বাচন প্রতিহত করার জন্য এমন কোন ষড়যন্ত্র নেই যে তিনি করেননি। অসাংবিধানিক উপায়ে ক্ষমতা দখল করতে চেয়েছিলেন।

সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন বিএনপি-জামায়াত জোটের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, দেশে আজ কোন জঙ্গীবাদ-বোমাবাজি ও সন্ত্রাসবাদ নেই। তবুও আমাদের সবসময় সতর্ক থাকতে হবে। আগুনসন্ত্রাসী জঙ্গীদের নেত্রী খালেদা জিয়া এখনও নানা ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছেন। খালেদা জিয়া যদি দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত বন্ধ না করেন, তবে দেশের জনগণ তাঁকে কোনদিন ক্ষমা করবে না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অক্লান্ত পরিশ্রম করে দেশকে সবদিক থেকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন, দেশের এ অগ্রযাত্রা কেউ রুখতে পারবে না।

জাতীয় পার্টির জিয়াউল হক মৃধা বলেন, সংসদে এখন কার্যকর বিরোধী দল রয়েছে। অতীতের বিরোধী দলগুলো সংসদে অশ্লীল গালাগাল করত, ফাইল ছুঁড়ে মারত। জাতীয় পার্টি বিরোধী দল হওয়ার পর সংসদে সুন্দর পরিবেশ বিরাজ করছে। বিরোধী দল হিসেবে জাতীয় পার্টি সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করে। দেশের উন্নয়ন কর্মকা-ে ও দারিদ্র্য নির্মূলে সরকারী পদক্ষেপকে অত্যন্ত অপ্রতুল বলে উল্লেখ করেন তিনি।