২০ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বিএনপি ও জাপা প্রার্থীদের প্রত্যয়ন করবেন ফখরুল ও রুহুল আমিন

  • ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে বিএনপি দলীয় প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দিতে হবে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের দেয়া প্রত্যয়নপত্র নিয়ে। তবে এ সংক্রান্ত চিঠি এখনও কমিশনের কাছে জমা দেয়া হয়নি। মঙ্গলবার বিএনপির গঠনতন্ত্র সংশোধনের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনে চিঠি দেয়ার পর দলের যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এ সংক্রান্ত চিঠি কমিশনে পৌঁছে দেয়া হবে। এছাড়াও জাতীয় পার্টির প্রার্থীদের প্রত্যয়নের ক্ষমতা দেয়া হয়েছে দলের মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদারকে। এ সংক্রান্ত একটি চিঠি নির্বাচন কমিশনে পৌঁছে দেন পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য এসএম ফয়সাল চিশতি। এছাড়াও জেএসডির প্রেসিডেন্ট আ স ম আবদুর রব প্রত্যয়ন করবেন দলটির প্রার্থীদের।

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল দুপুরে নির্বাচন কমিশন সচিব মোঃ সিরাজুল ইসলামের কাছে দলের গঠনতন্ত্র সংশোধনের একটি চিঠি পৌঁছে দেন। পরে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ইউপি পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থীরদের মনোনয়ন চূড়ান্ত করবেন দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া। তবে তাদের প্রত্যয়ন দেবেন দলীয় মহাসচিব। এ বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে ইসিকে জানানো হয়নি। আগামীকালের মধ্যে এ সংক্রান্ত চিঠি নির্বাচন কমিশনে পৌঁছে দেয়া হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

দলের গঠনতন্ত্র সংশোধনের বিষয়ে বলেন, বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনের জন্য দলের গঠনতন্ত্রের একটি ধারায় সংশোধনী এনেছেন চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া। এ বিষয়টি লিখিতভাবে ইসিকে জানানো হয়েছে। গত ১০ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সভায় চেয়ারপার্সনের পাশাপাশি সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান পদেও ভোটের বিধান রেখে দলীয় গঠনতন্ত্রে সংশোধনী আনা হয়। তিনি জানান, ইউপি নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী মনোনয়নের প্রার্থী বাছাইয়ে কিছুটা পরিবর্তন আনা হয়েছে। নবম সংসদের সময় যারা বিএনপি প্রার্থী ছিলেন তারাও প্রার্থী বাছাইয়ে থাকবেন। আগে প্রার্থী বাছাইয়ে ৫ জনের কমিটি গঠন করা হলেও এখন ছয়জন তৃণমূলের প্রার্থী বাছাই করবেন। তাদের সুপারিশকৃত প্রার্থীরা ইউপি নির্বাচনের জন্য মনোনয়ন পাবেন।

এদিকে জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে প্রেসিডিয়াম মেম্বার এসএম ফয়সাল চিশতি কমিশনের অতিরিক্ত সচিব মোখলেসুর রহমানের কাছে চিঠি দেন। যেখানে ইউপি নির্বাচনে দলের চূড়ান্ত প্রার্থীর প্রত্যয়নের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে দলের মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদারকে। পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, দলের পক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে জাপা চেয়ারম্যান প্রার্থী মনোনীত করবেন। চেয়ারম্যানের মনোনীত প্রার্থীদের প্রত্যয়নপত্র দেবেন। অপরদিকে জেএসডির প্রেসিডেন্ট আ স ম আবদুর রব দলের প্রার্থীদের প্রত্যয়ন দেবেন।

ইতোমধ্যে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে প্রার্থী প্রত্যয়নের দায়িত্ব দিয়ে ইসিতে চিঠি দেয়া হয়েছে। এর আগে পৌরসভা নির্বাচনেও আওয়ামী লীগের প্রার্থী প্রত্যয়নের দায়িত্ব পালন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজে। তবে ওই নির্বাচনের বিএনপির পক্ষ থেকে যুগ্ম মহাসচিব মোঃ শাজাহান এবং জাতীয় পার্টির প্রেসিডেন্ট এইচএম এরশাদ প্রার্থীদের প্রত্যয়নপত্র প্রদান করেন।

ইউপিতে ইসির নিরাপত্তা পরিকল্পনা ॥ এদিকে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নিরাপত্তা পরিকল্পনা করেছে নির্বাচন কমিশন। তবে এবারের নিরাপত্তা পরিকল্পনায় নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিজিবিকে রাখা হচ্ছে না। জানা গেছে, বিজিবি ছাড়াই র‌্যাব পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে তৈরি করা হয়েছে নিরাপত্তা পরিকল্পনা। ইসির দাবি ইউপি নির্বাচনে সহিংসতা অনেক কম হবে। কারণ তৃণমূলে যারা নির্বাচনে অংশ নেন তারা সবাই সবার পরিচিত। অনেক ক্ষেত্রে একই পাড়া বা মহল্লা বা পরিবারের লোকেরা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অংশ নেয়। তাই এ নির্বাচনে তারা কোন ঝামেলায় যাবে না।

নির্বাচন কমিশনার মোঃ শাহনেওয়াজ এ বিষয়ে বলেন, কমিশনের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত পুলিশ, র‌্যাব ও আনসার-ভিডিপি সদস্য নিয়োগ করা হবে ইউপি নির্বাচনে। বিজিবি মোতায়েনের চিন্তা ভাবনা করছে না ইসি। প্রয়োজনে ভোট কেন্দ্রে আনসার সদস্য বাড়িয়ে দেয়া হবে। তবে বিজিবি মোতায়েনের পরিকল্পনা না থাকলেও প্রয়োজনে পরিস্থিতি বিবেচনা করে সব ব্যবস্থাই নেয়া হবে উল্লেখ করেন। তিনি জানান ইউপি নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে শঙ্কার কিছু নেই। নির্বাচনী আচরণবিধি প্রতিপালনে ইসি কঠোর হবে। বিধিলঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে দ- ও জরিমানাসহ সব ব্যবস্থা নিতে নির্বাহী ও বিচারিক হাকিম থাকবে।

তবে ইসির পক্ষ থেকে ইউপি নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কোন আশঙ্ক করা না হলেও বিএনপির পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে এ নির্বাচনে সহিংসতার আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। দলের পক্ষ থেকে কমিশনে দেয়া এক চিঠিতে বলা হয়েছে দলীয়ভাবে ইউপি নির্বাচনে সংঘাত বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সামাজিক সম্প্রীতিও নষ্ট হবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ইসির পক্ষ থেকে এসব আশঙ্কা নাকচ করে সুষ্ঠু গ্রহণযোগ্য ইউপি নির্বাচনে কথা বলা হয়েছে।

আগামী মার্চে ২২ তারিখে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হবে প্রথমবারের মতে দলীয়ভাবে ইউপি নির্বাচন। ইতোমধ্যে প্রথম দফায় বিস্তারিত সময়সূচী জানিয়েছে দেয়া হয়েছে। প্রথম দফায় নির্বাচনের জন্য আগ্রহী প্রার্থীরা আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি মধ্যে মনোনয়নপত্র সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে জম দিতে পারবেন। ৩ মার্চ থেকে প্রথম দফায় নির্বাচনী প্রচার শুরু হবে। এছাড়া আরও ৫ দফায় নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ইসির পক্ষ থেকে। তবে এসব দফার নির্বাচনের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দেয়াসহ বিস্তারিত সময়সূচি ঘোষণা করা হয়নি। কমিশন জানিয়েছে রিটার্নিং কর্মকর্তারা তাদের সুবিধামতো সময়সূচী নির্ধারণ করে কমিশনকে জানাবেন।