১৯ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সাখাওয়াত আশুরা খাতুনকে আটকে রেখে ধর্ষণ করে

  • যুদ্ধাপরাধী বিচার;###;ফজলুর রহমান গাজীর জবানবন্দী

স্টাফ রিপোর্টার ॥ একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে যশোরের সাবেক সংসদ সদস্য মাওলানা সাখাওয়াত হোসেনসহ নয়জনের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের দ্বিতীয় সাক্ষী ফজলুর রহমান গাজী তার জবানবন্দীতে বলেছেন, রাজাকার সাখাওয়াত নিজ হাতে আমার বাবা চাঁদতুল্লা গাজীকে গুলি করে হত্যা করে। এছাড়া বগা গ্রামের আশুরা খাতুনকে আটকে রেখে সাখাওয়াত ধর্ষণ করে। সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আসামিপক্ষের আইনজীবী তাকে জেরা করেন। পরবর্তী সাক্ষীর জন্য আজ বুধবার দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেফতারের পর মৃত্যুবরণকারী রাহ্মণবাড়িয়ার এমদাদুল হকের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ নিষ্পত্তি করেছে ট্রাইব্যুনাল। চেয়ারম্যান বিচারপতি আনোয়ারুল হকের নেতৃত্বে তিন সদস্যবিশিষ্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ আদেশ প্রদান করেছেন। এ সময় প্রসিকিউটশন পক্ষে উপস্থিত ছিলেন প্রসিকিউটর জিয়াদ আল মালুম, প্রসিকিউটর রেজিয়া সুলতানা চমন, প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তাপস কান্তি বল। আসামিপক্ষে ছিলেন সাত্তার পালোয়ান ও আব্দুস শুকুর। সাক্ষী তার জবানবন্দীতে বলেন, আমার নাম ফজলুর রহমান গাজী। আমার বর্তমান বয়স আনুমানিক ৬০ বছর। আমার ঠিকানা গ্রাম- চিংড়া, থানা- কেশবপুর, জেলা- যশোর। ১৯৭১ সালে আমার বাবা চাঁদতুল্লা গাজী আওয়ামী লীগের রাজনীতি করতেন এবং ওই সময় তিনি আমাদের ২নং দাসগদাড়ি আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। ১৯৭১ সালের ভাদ্র মাসের মাঝামাঝি সময়ে একদিন সকাল ১০টা-সাড়ে ১০টার দিকে আসামি রাজাকার সাখাওয়াত হোসেন আমার বাবার খোঁজে চিংড়া বাজারে যায়। ওই ২০-২২ জন রাজাকারের মধ্যে আসামি ইব্রাহিম, খালেক, লুৎফর, আব্দুল আজিজ পিতা ফুল সর্দার, আসামি আব্দুল আজিজ, মুজিবুর রহমান, বিল্লাল, ওয়াহিদুস সালামও ছিলেন। যখন তারা বাবাকে খোঁজাখুঁজি করে তখন আমি আমাদের ঘরের বারান্দায় শুয়েছিলাম। তখন ইব্রাহিম রাজাকার আমার মাথায় লাথি মারে। এ সময় আমি ভয়ে আমার মায়ের পাশে গিয়ে আমার সৎমা (দুধমা) আয়েশা বেগমকে জড়িয়ে ধরি।

আসামি ও রাজাকাররা আমার বাবাকে খোঁজাখুঁজি করে না পাওয়ার পর আসামি সাখাওয়াত হোসেনের নির্দেশে তার সহযোগী আসামি ও রাজাকাররা আমাদের বাড়িঘর লুটপাট করে আগুন ধরিয়ে দেয়। সাক্ষী আরও বলেন, বাবাকে যেখানে নির্যাতন করা হয় এই আশুরাকে সেখানেই আটকে রাখা হয়। পরে লোকমুখে জানতে পারি তাকে ধর্ষণ করা হয়েছিল।

মামলায় সাখাওয়াত হোসেন ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন- মোঃ বিল্লাল হোসেন, মোঃ ইব্রাহিম হোসেন, শেখ মোহাম্মদ মুজিবর রহমান, মোঃ আব্দুল আজিজ সরদার, মোঃ আজিজ সরদার, কাজী ওয়াহেদুল ইসলাম, মোঃ লুৎফর মোড়ল এবং মোঃ আব্দুল খালেক মোড়ল। গত ৮ সেপ্টেম্বর তাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল। ১৯৯১ সালে জামায়াতের হয়ে নির্বাচনে দাঁড়িয়ে যশোর-৬ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন সাখাওয়াত।

টাক্কাবালী ॥ মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেফতারের পর মৃত্যুবরণকারী রাহ্মণবাড়িয়ার এমদাদুল হকের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ নিষ্পত্তি করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। মঙ্গলবার ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি আনোয়ারুল হকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এই আদেশ দেন।