২১ নভেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

জীবিত নবজাতককে সরিয়ে মৃত সন্তান দেয়ার অভিযোগ

  • স্বজনরা বিক্ষুব্ধ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ রাজধানীর মোহাম্মদপুরে একটি বেসরকারী হাসপাতালে নবজাতক ছেলে সন্তানকে সরিয়ে ফেলে তার বদলে একটি মৃত মেয়ে শিশু দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। মৃত শিশুর পরিবার অভিযোগ করেছেন, মোহাম্মদপুরের ফার্টিলিটি সার্ভিস এ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টার হসপিটালের কর্তৃপক্ষ তাদের জীবিত শিশুর পরিবর্তে মৃত শিশু দিয়েছে। এ ঘটনায় স্বজনরা বিক্ষোভ করেন। ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ অভিযোগ অস্বীকার করে, প্রয়োজনে ডিএনএ পরীক্ষা করে দেখতে বলেছেন। পুলিশ বলছে, বিষয়টি ‘ভুল বোঝাবুঝি’ হতে পারে।

মঙ্গলবার সকালে নবজাতকের বাবা ভুক্তভোগী শামসুল ইসলাম বুলু অভিযোগ করেন, জীবিত ছেলে শিশুর বাবা হলেও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ সিনেমার মতো পরিবর্তন করে মৃত মেয়ে শিশু দেখাচ্ছেন। আমি আমার সন্তান ফিরে চাই। তিনি সাংবাদিকদের জানান, তার স্ত্রী পারভীনের গর্ভাবস্থায় আল্ট্রাসনোগ্রাম পরীক্ষা করা হয়। তখন চিকিৎসকরা জানান, তার ছেলে সন্তান আসছে। শামসুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার সকালে পারভীনের প্রসব বেদনা শুরু হয়। পরে তাকে বছিলা থেকে ‘মোহাম্মদপুর ফার্টিলিটি সার্ভিস এ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টারে’ নেয়া হয়। নরমাল ডেলিভারির পর একজন আয়া আমাকে প্রথমে জানায়, আমার ছেলে হয়েছে। কিন্তু পরে আমাকে বলা হয়, আমার স্ত্রী মৃত সন্তান প্রসব করেছে। আর সেটি মেয়ে ছিল। তিনি অভিযোগ করেন, ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ তার ছেলে বদলে মৃত বাচ্চা ধরিয়ে দিয়েছে। ক্লিনিকের পরিচালক ডাঃ মনিরুজ্জামান সিদ্দিকী ওই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, সকাল ৮টা ১০ মিনিটে পারভীন নামে ওই রোগী ভর্তি হন। তবে বাচ্চা ও মা দু’জনের অবস্থা খারাপ থাকায় ঝুঁকি নিয়ে আমাদের অপারেশন করাতে হয়েছে। তার যে সমস্যা হয়েছিল ডাক্তারি ভাষায় তা ‘একিউট কলাপস’ সমস্যা। এ কারণে বাচ্চাটিকে বাঁচানো যায়নি। ওই সময় অপারেশন থিয়েটারে একটি অপারেশনই হয়েছিল। তিনি জানান, তাদের সঙ্গে কোন কাগজপত্র না থাকলেও মানবিক দিক বিবেচনা করে রোগীকে লেবার ওয়ার্ডে নেয়া হয়। তারপর অপারেশন করা হয়। তিনি আরও জানান, প্রয়োজন প্রশাসনকে আমরা ‘ডিএনএ’ পরীক্ষা করাতে বলেছি। তাদের ক্লিনিকে প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ৩০০ শিশুর জন্ম হয়। পরিচালক মনিরুজ্জামান জানান, এ ধরনের অভিযোগ চিকিৎসকের ওপর প্রভাব ফেলে। তারা অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করেন। লেবার ওয়ার্ডের চিকিৎসক হেলেন জেবিন জানান, এ রোগী আমাদের এখানে আগেও চিকিৎসা নিয়েছে। গত ৯ তারিখেও তিনি চেকআপ করাতে এসেছিলেন। তখন তাকে বলা হয়েছে তিনদিন পর আসতে। কিন্তু তিনি আসেননি। আজ (মঙ্গলবার) সকালে তিনি হাসপাতালে আসলে অবস্থা খারাপ দেখে আমরা অপারেশন করাই। কিন্তু বাচ্চা ও বাচ্চার মা উভয়ের অবস্থা খারাপ থাকায় বাচ্চাটি পেটেই মারা গেছে। ভূমিষ্ট হওয়ার পর আমরা ত্রিশ মিনিট পর্যবেক্ষণ করেও বাচ্চার হৃদযন্ত্র সচল পাইনি। মোহাম্মদপুর থানার ওসি জামাল উদ্দীন মীর জানান, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি ভুল বোঝাবুঝি বলে মনে হচ্ছে। তারপরও অভিযোগ থাকলে তাদের থানায় যোগযোগ করতে বলা হয়েছে। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে ওসি জামাল উদ্দীন জানান।