২১ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

দুই যুদ্ধাপরাধীর যুদ্ধকালের ছবি নিয়ে মহেশখালীতে তোলপাড়

এইচএম এরশাদ, কক্সবাজার ॥ বিএনপি-জামায়াতীরা যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষায় এবং তাদের বিরুদ্ধে চলমান বিচার কার্যক্রম বাঁধাগ্রস্ত করতে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করেও ব্যর্থ হয়েছে। যুদ্ধাপরাধীদের নির্দোষ দাবি করে জামায়াতীরা মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে দেশের জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছে। সরকারের বিরুদ্ধে সাধারণ জনগণকে ধোঁকা দিয়ে জ্বালাও পোড়াও রাজনীতির মাধ্যমে জনগণের ও রাষ্ট্রের ব্যাপক জানমালের ক্ষতি করেছে। সরকার মানবতাবিরোধী অপরাধে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের অধিকতর তদন্ত শেষে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ যে সত্য তার আরও একটি জলন্ত প্রমাণ মিলেছে।

বর্তমান সময়ে আলোচিত মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকার চাক্ষুষ প্রমাণ পাওয়া গেছে কক্সবাজারের মহেশখালীতে। দেশ স্বাধীনের দীর্ঘ ৪৪ বছর পর তালিকাভুক্ত রাজাকারদের বাড়ি ঘরে তল্লাশি করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উদ্ধার করেছে মহেশখালীর দুই যুদ্ধাপরাধীর যুদ্ধকালের নানা ছবি। ওইসব ছবিই প্রমাণ করে সরকার গঠিত তদন্ত টিমের চুলচেরা বিশ্লেষণ ও ব্যাপক তদন্তে উঠে আসা সত্যিকারের যুদ্ধাপরাধীর নামের তালিকা। মহেশখালী পৌরমেয়র মকছুদ মিয়ার পিতা শান্তি কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ হাশেম প্রকাশ বড় মোহাম্মদ ও তার আপন ভাই শান্তি কমিটির সভাপতি মহেশখালীর যুদ্ধাপরাধীর তালিকায় ১নং আসামি মৌলানা জকরিয়ার বাড়িÑঘরে সম্প্রতি তল্লাশি চালিয়ে পাক হানাদার বাহিনীর কমান্ডারের সঙ্গে অন্তরঙ্গ মুহূর্তে ধারণকৃত ওসব ছবি উদ্ধার করেছে প্রশাসন। ওসব ছবি বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ ও গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় পুরো জেলা জুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে।

জনকণ্ঠের হস্তগত হওয়া ওইসব ছবির মধ্যে স্পষ্ট দেখা যায়, পাক হানাদার বাহিনীর সঙ্গে অন্তরঙ্গ মুহূর্ত রয়েছে পৌর মেয়র মকছুদ মিয়ার পিতা মোঃ হাশেম প্রকাশ বড় মোহাম্মদ ও তার আপন ভাই শান্তি কমিটির সভাপতি মৌলানা জকরিয়ার ছবি। এতে করে বর্তমান সময়ে আলোচিত মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকার চাক্ষুষ প্রমাণ মেলে তাদের বিরুদ্ধে। স্বাধীনতা যুদ্ধের ঐতিহাসিক তথ্যপত্র থেকে জানা যায়, মাওলানা জকরিয়া ও মোঃ হাসেম সরাসরি পাক হানাদার বাহিনীর সঙ্গে জড়িত ছিল। এমনকি পাক হায়েনাদের সঙ্গে এসব রাজাকারদের দহরম মহরম সম্পর্ক ছিল। স্বাধীনতা যুদ্ধে জকরিয়া ও মোঃ হাসেম পাক হানাদারের গুপ্তচর হিসেবে মহেশখালীর বুকে চষে বেড়িয়ে ধর্ষণ, খুন, লুটপাট, অগ্নিসংযোগসহ নানা অপরাধ সংঘটিত করেছিল।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রকাশিত সম্প্রতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের তৎপরতায় উদ্ধার হওয়া ছবিগুলো দেখেই স্থানীয় লোকজনের মধ্যে অন্যরকম স্বস্তি দেখা গেছে। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের মধ্যেও যুদ্ধাপরাধী রাজাকারদের বাস্তবিক চিত্র ফুটে উঠেছে। যুদ্ধাপরাধের তথ্য সংবলিত অন্তত ৩১টি ছবি বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতেও পৌঁছে গেছে বলে জানা গেছে। ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, সেই সময় মৌলানা জকরিয়া ও মোঃ হাসেম পাকবাহিনীর সঙ্গে ছবি তুলে বড়ই গর্ববোধ করতেন।