১৫ নভেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

নিরাপত্তা ঝুঁকিতে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল!

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ বাংলাদেশ ক্রিকেট আর নিরাপত্তা ঝুঁকি যেন একসূত্রে গাথা হয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশে কোথাও নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা নেই। না আছে ঝুঁকি। অথচ অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দল দুইবার বাংলাদেশে খেলতে আসেনি। একবার জাতীয় দল, আরেকবার যুব দল। এবার বাংলাদেশে নয়, ভারতে অনুষ্ঠেয় টি২০ বিশ্বকাপে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের নিরাপত্তা নিয়েই ঝুঁকির কথা শোনা যাচ্ছে। ভারতেরই গণমাধ্যমগুলো বাংলাদেশের নিরাপত্তা শঙ্কার বিষয়টি সামনে টেনে এনেছে।

ভারতে যখনই খেলা হয়, সেই খেলায় যখনই পাকিস্তান থাকে, পাকিস্তান ক্রিকেট দল নিয়ে নিরাপত্তা ঝুঁকি থাকেই। এবারও সেটি আছে। বিশ্বকাপের জন্য দল ঘোষণা করলেও পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড থেকে জানিয়েই দেয়া হয়েছে সরকার অনুমতি দিলেই টি২০ বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে যাবে পাকিস্তান। এবার বাংলাদেশও সেই নিরাপত্তা ঝুঁকির দলে পড়ে গেল। শুধু পাকিস্তান ও বাংলাদেশই নয়, আফগানিস্তানও নাকি ঝুঁকির মধ্যে আছে।

গতবছর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সিরিজ হওয়ার কথা ছিল। এ নিয়ে অক্টোবরে মুম্বাইয়ে ভারত আর পাকিস্তানের দ্বিপক্ষীয় সিরিজের বিষয়ে দুই দেশের ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতির মধ্যে আলোচনা হওয়ার কথা ছিল। আলোচনাটি ভেস্তে যায় দেশটির ধর্মীয় ডানপন্থী কয়েকটি রাজনৈতিক দলের কারণে। তাদের আগ্রাসী মনোভাবের কারণে আলোচনা আর হয়নি। দলগুলোর মতে পাকিস্তানের বিপক্ষে কোন ম্যাচই খেলতে পারবে না ভারত। এরপর থেকেই দু’দেশের ক্রিকেট নিয়ে শুরু হয় টানাপোড়ন। শঙ্কা জাগে ভারতের মাটিতে পাকিস্তানের বিশ্বকাপ খেলা নিয়েও। আর পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডও বেশ কয়েকবার জানিয়েছে, ভারতের মাটিতে তারা নিরাপদ নয়। পাকিস্তান বিশ্বকাপে গ্রুপপর্বে নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলবে ১৬ মার্চ কলকাতার ইডেন গার্ডেনে। পাকিস্তান দলকে আশ্বস্ত করে ইতোমধ্যে কলকাতায় বাড়ানো হচ্ছে নিরাপত্তা। কলকাতা ক্রিকেট এ্যাসোসিয়েশন থেকে জানা যায়, পুরো স্টেডিয়াম চত্বরে বাড়তি নিরাপত্তার পাশাপাশি থাকবে ট্যাঙ্ক।

বাংলাদেশ এবারের আসরে সরাসরি মূলপর্বে খেলতে পারছে না। খেলতে হবে বাছাইপর্বে। বাছাই পর্বে গ্রুপ ‘এ’তে আছে বাংলাদেশ। যদি বাছাইপর্ব উতরে মূলপর্বে খেলা নিশ্চিত হয়, তাহলে বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচটি পাকিস্তানের বিপক্ষে কলকাতাতেই হবে। যেহেতু পাকিস্তানকে নিয়ে নিরাপত্তা ঝুঁকি আছে। তাই বাংলাদেশও এর বাইরে থাকতে পারছে না। কলকাতার স্টেডিয়াম ইডেন গার্ডেনে একের পর এক পুলিশী পরিদর্শন হচ্ছে। ভারতের গণমাধ্যম থেকে যা খবর মিলছে, তাতে পাকিস্তান টিমকে নিয়ে নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও নিচ্ছিদ্র করা হবে। কলকাতার দৈনিক আনন্দবাজারের সূত্র মতে, পুলিশ না কি পাকিস্তান ছাড়াও আফগানিস্তান ও বাংলাদেশ টিমের নিরাপত্তা নিয়েও চিন্তিত। ঠিক হয়েছে তিনটে টিমকেই রাখা হবে এক হোটেলে। এ বিষয়টিই বাংলাদেশকে নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ফেলে দিয়েছে। ৮ মার্চ শুরু হবে টি২০ বিশ্বকাপ। শেষ হবে ৩ এপ্রিল। বিশ্বকাপে বাংলাদেশের মিশন শুরু হবে ৯ মার্চ। হল্যান্ডের বিপক্ষে বাছাইপর্বের ম্যাচ দিয়েই এবারের বিশ্বকাপে খেলা শুরু করবে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ যে বাছাইপর্ব খেলবে, তিনটি ম্যাচই হিমাচল প্রদেশের ধর্মশালায় হবে। ভারতে অনুষ্ঠিতব্য টি২০ ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় এই আসরে খেলতে বাংলাদেশ দলকে প্রথম রাউন্ডে অর্থাৎ বাছাইপর্ব খেলে তারপর মূল পর্বে আসতে হবে। এরই মধ্যে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) বাংলাদেশ দলের ম্যাচগুলোর সময় ও ভেন্যু প্রকাশ করেছে।

এশিয়া কাপের পরপরই আগামী ৯ মার্চ হল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশ সময় বিকেল সাড়ে তিনটায় প্রথম ম্যাচ খেলার পর একদিন বাদে ১১ মার্চ আয়ারল্যান্ড ও ১৩ মার্চ ওমানের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। দুটি খেলাই অনুষ্ঠিত হবে বাংলাদেশ সময় রাত আটটায়। এ ম্যাচগুলোতে খেলতে নামার আগে ৫ মার্চ রাত আটটায় ধর্মশালাতেই হংকংয়ের বিপক্ষে একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার কথা রয়েছে বাংলাদেশের। যদি ২৪ ফেব্রুয়ারি শুরু হয়ে ৬ মার্চ শেষ হতে যাওয়া এশিয়া কাপের ফাইনালে খেলে বাংলাদেশ, তাহলে হংকংয়ের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচটি খেলতে পারবে না মাশরাফিরা।

যদি বাংলাদেশ বাছাইপর্ব অতিক্রম করতে পারে তাহলে মূল পর্বে খেলবে। যেখানে পাকিস্তান, ভারত, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। মূল পর্বে বাংলাদেশের প্রথম লড়াইটাই হবে পাকিস্তানের বিপক্ষে। দুপুর সাড়ে তিনটায় কলকাতার ইডেন গার্ডেনে ম্যাচটি শুরু হবে। ২১ মার্চ ও ২৩ মার্চ ব্যাঙ্গালুরুতে যথাক্রমে অস্ট্রেলিয়া ও স্বাগতিক ভারতের মুখোমুখি হবে মাশরাফির দল। দুটি ম্যাচই বাংলাদেশ সময় আটটায় শুরু হবে।

এরপর ২৬ মার্চ মূল পর্বের শেষ ম্যাচে ইডেন গার্ডেনে বিকেল সাড়ে তিনটায় নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে খেলবে বাংলাদেশ। বাছাইপর্ব এবং মূলপর্বের সব ম্যাচে বাংলাদেশের নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই। শুধু ইডেন গার্ডেনে পাকিস্তানের বিপক্ষে যখন খেলা হবে, সেই ম্যাচের সময়গুলোতে নিরাপত্তা শঙ্কায় থাকবে বাংলাদেশ।