১৭ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ব্রাজিলে নেইমারের সম্পত্তি জব্দ

ব্রাজিলে নেইমারের সম্পত্তি জব্দ

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ শেষ রক্ষা হলো না নেইমারের। বেশ কিছুদিন ধরেই গুঞ্জন ছিল, শাস্তি পেতে যাচ্ছেন ব্রাজিলিয়ান অধিনায়ক। অবশেষে সেটাই হলো। স্প্যানিশ ক্লাব বার্সিলোনা তারকা নেইমারের সম্পত্তি বাজেয়াফত করা হয়েছে তার নিজ দেশেই। কর ফাঁকি মামলায় ২৪ বছর বয়সী এ তারকার সম্পত্তি বাজেয়াফত করার নির্দেশ দিয়েছেন ব্রাজিলের আদালত।

মঙ্গলবার নেইমারের প্রায় ১৯২ মিলিয়ন ব্রাজিলিয়ান রিয়াল মূল্যমানের সম্পত্তি বাজেয়াফত করেছে সাও পাওলোর ফেডারেল কোর্ট। যার মধ্যে আছে তার ব্যক্তিগত জেট বিমান ও ইয়ট। ইয়টের বাংলা অর্থ দাঁড়ায় বাইচ খেলার জন্য নির্মিত এক ধরনের পাল তোলা হালকা নৌকো। অর্থাৎ প্রমোদতরী। যা আনন্দ-বিনোদনের জন্য ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

২০১৫ সালে নেইমারের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছিল, ব্রাজিলিয়ান ক্লাব সান্টোসে থাকতে দুই বছরে (২০১১ থেকে ২০১৩) ৬৩ মিলিয়ন রিয়াল কর ফাঁকি দিয়েছেন নেইমার ও তার পরিবার। কিন্তু এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছিলেন নেইমার। গত সেপ্টেম্বরেই সাওপাওলোর আদালত ইঙ্গিত দিয়েছিল, নেইমারের সম্পত্তি বাজেয়াফত হচ্ছে। ব্রাজিলের পত্রিকার রিপোর্টে জানা গিয়েছিল এমনটাই। এরপর নেইমারের বাবা উচ্চ আদালতে আপীল করেন। সেই আপীল প্রত্যাখ্যান করেছে আদালত। বাজেয়াফত করা হয় নেইমারের ১৯২ মিলিয়ন ব্রাজিলিয়ান রিয়াল মূল্যমানের সম্পত্তি। যা ডলারের হিসেবে ৫০ মিলিয়ন, আর ইউরোতে দাঁড়ায় ৪৫ মিলিয়ন।

আদালত জানায়, কর পরিশোধ করতে ব্যর্থ হলে নেইমার উক্ত সম্পত্তি ব্যবহার করতে পারবেন না। এ ছাড়া ব্যক্তিগত সম্পত্তি তিনি কোনভাবে বিক্রিও করতে পারবেন না। এ যেন মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘায়ের মতোই। কেননা স্পেনের আদালতেও নেইমারের বিরুদ্ধে ঝুলে আছে কর ফাঁকির মামলা। খেলার পাশাপাশি বার্সিলোনা ফরোয়ার্ডকে সামলাতে হচ্ছে আদালতও। ব্রাজিলের ফেডারেল কর এজেন্সির অডিটর ইয়াগারো জাঙ্গ মার্টিন্স সাক্ষাতকারে বলেছেন, নেইমার যদি কর ফাঁকি মামলায় জরিমানার অর্থ পরিশোধ করেন তবে তাকে জেলে যেতে হবে না। অবশ্য কর ফাঁকির মামলায় নেইমার বরাবরই নিজেকে নির্দোষ দাবি করে আসছেন ব্রাজিলিয়ান অধিনায়ক।

বিমান ও প্রমোদতরীর পাশাপাশি ব্রাজিলের গুরাউয়া, সান্টোস, প্রাইয়া গ্রান্ডে, সাও ভিসেন্টে, সাও পাওলো ও ইটাপেমা অঞ্চলে নেইমারের কিছু ব্যক্তিগত সম্পত্তিও জব্দ করতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

নেইমারের জন্য একটাই স্বস্তির খবর, তাকে জেলে যেতে হচ্ছে না। যে জরিমানা উশুল করার জন্য এই সম্পত্তিগুলো জব্দ করা হয়েছে, সেটি পরিশোধ করে দিলেই আর কোন ঝামেলা থাকবে না। ব্রাজিলের ফেডারেল কর এজেন্সির অডিটর ইয়াগারো জাঙ্গ মার্টিন্স বলেছেন, নেইমার এখনও রায়ের বিরুদ্ধে আপীল করতে পারবেন, তবে এটা পরের ধাপ। গত বছর যে শাস্তিটা ছিল, সেটি বদলায়নি। যদি তিনি পাওনা টাকা শোধ করে দেন, তাহলেই মামলাটি শেষ হয়ে যাবে। ব্রাজিলেল আইন এত কঠোর নয়। তবে বিষয়টিকে নেইমার কিভাবে নেন, সেটাই দেখার। সময়ের অন্যতম সেরা তারকা যদি জরিমানার অর্থ পরিশোধে গড়িমসি করেন তাহলেই হবে বিপত্তি। সেক্ষেত্রে শ্রীঘরেও যেতে হতে পারে তাকে।

এ নিয়ে কয়েকদিনের ব্যবধানে নিজ দেশ ব্রাজিলেই দুটি মামলায় শাস্তি পেলেন নেইমার। এর আগে অন্য একটি মামলায় ২০০৭-০৮ সালে কর ফাঁকি দেয়ার অভিযোগে তাকে প্রায় ১ লাখ ইউরো জরিমানা করেছিলেন আদালত। এবার হলো আরেকটি। আর বার্সিলোনায় পাড়ি জমানো নিয়ে স্পেনের ঝামেলা তো আছেই।

তাহলে কি শেষ পর্যন্ত ফেঁসে যাচ্ছেন নেইমার!