১৮ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ভারতকেই ফেবারিট ঘোষণা ধোনির

  • টি২০ বিশ্বকাপ

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ টি২০ বিশ্বকাপের আগে স্বাগতিক ভারতের দারুণ দুটি সাফল্য। অস্ট্রেলিয়া সফরে অস্ট্রেলিয়াকে তিন ম্যাচে ‘হোয়াইটওয়াশ’র পর ঘরের মাটিতে শ্রীলঙ্কাকে ২-১এ হারায় মহেন্দ্র সিং ধোনির দল। ধরে রাখে টি২০ র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থান। ব্যাটে-বলে দুরন্ত পারফর্ম করছেন বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মা, অজিঙ্কা রাহানে, জাসপ্রিত বুমরা, রবিচন্দ্রন অশ্বিনরা। এই অবস্থায় আসন্ন বিশ্বকাপে দলটি ঘিরে সমর্থকদের প্রত্যাশা অনেকে। বিশ্লেষকদের মতে, ঘরের মাটিতে এবার ‘হট ফেবারিট’ ভারত। প্রকান্তরে বিষয়টা স্বীকার করছেন ধোনিও। ‘টি২০ এমন ধরনের ক্রিকেট যেখানে প্রকৃত ফেবারিট বলে কিছু নেই। তবে সম্প্রতি আমরা ভাল খেলছি। অভিজ্ঞ ও তারুণ্য মিলিয়ে দলে চমৎকার ভারসাম্য ফিরে এসেছে। যা আমাকে আশাবাদী করছে। শিরোপা জয়ের সামর্থ্য আমার এই দলের রয়েছে।’ বলেন ধোনি। এটা ঠিক ভারতের ব্যাটিং বিশ্বসেরা।

দুটি সিরিজেই সেটি দেখা গেছে। শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপের কারণে দুই সিরিজে শেষ ছয় টি২০তে দলের সব ব্যাটসম্যান ও বোলাররা সেভাবে নিজেদের প্রমাণের সুযোগই পাননি। টপঅর্ডার অসম্ভব ভাল করায় ধোনি নিজেও দীর্ঘদিন পর ফেরা যুবরাজ সিং অস্ট্রেলিয়া সফর ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ব্যাট হাতে খুব একটা সুযোগ পাননি। এ সম্পর্কে ‘ক্যাপ্টেন কুল’ বলেন, ‘এটা ঠিক দলের সবাই ব্যাটিংয়ের সুযোগ পায়নি। কিন্তু আমাদের দুর্ধর্ষ এই লাইনআপের বিপক্ষে আপনাকে (প্রতিপক্ষ বোলিং) সমস্যার মুখোমুখি হতেই হবে। ৬, ৭ ও ৮ নম্বরে ব্যাটিং করা খেলোয়াড়দের বড় শট খেলার সুযোগ করে দিতে হবে। কারণ টি২০তে এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ওই সময় ব্যাটসম্যান কত রান করল সেটা কোন বিষয় নয়। তবে আপনি যদি ৩-৪টি বল খেলারও সুযোগ পান এবং ১০-১৫ রান করতে পারেন, সেটা সত্যিকার অর্থেই বড় বিষয়।’

বিশ্বকাপে নিজ মাঠের চেনা-জানা কন্ডিশনও তাদের জন্য বড় বিষয় হবে বলে স্বীকার করে ধোনি আরও বলেন ‘সংক্ষিপ্ত ভার্সনের ক্রিকেটে (ওয়ানডে ও টি২০ বোঝাতে) আমরা সব সময়ই ফেবারিট। বিশ্বকাপও হতে যাচ্ছে ভারতের মাটিতে। দলে টপ ক্লাস স্পিনাররা খেলবে যা আমাদের জন্য সহায়ক হবে, এখানে আইপিএল খেলাটাও কাজে আসবে। আইপিএলের আট আসরের সাতটিই এখানে হয়েছে এবং তার সবকিছুই হিসেবে আসবে। ছেলেরা দীর্ঘ অভিজ্ঞতাটা কাজে লাগাতে পারবে।’ টি২০তে প্রতিপক্ষের বিপজ্জনক ব্যাটসম্যানদের শুরুতেই ফিরিয়ে দেয়াটা গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন ভারতীয় অধিনায়ক। তিনি বলেন, ‘সংক্ষিপ্ত ভার্সনে সব সময়ই দুটি দলের মধ্যে পার্থক্য খুব কম থাকে। আপনাকে প্রতিপক্ষের বিগ-হিটারদে ব্যাটসম্যানকে শুরুতেই ফিরিয়ে দিতে হবে। একইভাবে নকআউট পর্বে অবশ্যই আপনাকে আপনার সেরাটা খেলতে হবে। নকআউট- খারাপ দিন থাকতে পারবে না! কেননা এখানে ক্রিকেটের চেয়ে লটারিটাই বেশি। আমি মনে করি, এ পর্যায়ে ধারাবাহিক হওয়াটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’

ডেথ-ওভারের বোলিংটাকেও বেশ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন ধোনি। ডেথ-ওভারে ইয়র্কার দিতে পারা জাসপ্রিত বুমরাহর মতো পেসার দারুণ ভূমিকা পালন করবে আশা করছেন ধোনি। পাশাপাশি অশ্বিনের মতো বোলারকেও শুরুতেই আক্রমণে আনার কথা বলেন তিনি। তবে ৫০ ওভারের চেয়ে ২০ ওভারে ডেথ-ওভারের বোলিং বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে চিহ্নিত করেন স্বাগতিক অধিনায়ক। টি২০ বিশ্বকাপের আগে দলের সেরা বোলারদের প্রায় সবাই বোলিংয়ের সুযোগ পাওয়ায় খুশি ভারতীয় অধিনায়ক, ‘সব মিলিয়ে আমাদের সব বোলারই বোলিং করতে পেরেছে, যা খুবই ভাল। স্পিনার অথবা ফাস্ট বোলার, উভয় বোলারই রান কম দিয়েছে। অর্থাৎ চাপের মধ্যেও তারা ভাল করেছে, এটা খুবই ভাল দিক। সব কিছু মিলিয়ে আমরা ভাল অবস্থায় আছি।’

আইসিসি চাপ দেবে না পাকিস্তানকে

টি২০ বিশ্বকাপ

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ ভারতের মাটিতে আসন্ন টি২০ বিশ্বকাপে খেলতে পাকিস্তানের ওপর চাপ প্রয়োগ করবে না আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি। দেশটির ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) প্রধান নির্বাহী নাজম শেঠী বলেন, ‘টি২০ বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের বিষয়টি পিসিবির হাতে নেই। পাকিস্তান সরকার অনুমতি না দিলে বোর্ড কি-ই বা করতে পারে? আইসিসিকে আমরা এটা জানিয়েছি। এ বিষয়ে সংস্থাটি আমাদের কোন রকম হুমকি দেয়নি। এ সংক্রান্ত খবর কেবলই গুজব।’ ব্রিটিশ পত্রিকা ডেইলি মেইলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তান বিশ্বকাপে অংশ না নিলে তাদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেবে আইসিসি। সেটি উল্লেখ করেই শেঠী এ কথা বলেন।

সম্প্রতি বাংলাদেশে হয়ে যাওয়া অনুর্ধ ১৯ বিশ্বকাপের উদাহরণ টেনে তিনি আরও যোগ করেন, ‘অসিরা বাংলাদেশে গিয়ে অনুর্ধ ১৯ বিশ্বকাপ খেলেনি। কিন্তু আইসিসি কি ব্যবস্থা নিয়েছে? কোন দেশে ভ্রমণের বিষয়ে সিদ্ধান্তটা সরকারের পক্ষ থেকেই আসে।’ উল্লেখ্য, ভারতের মাটিতে আসন্ন বিশ্বকাপে পাকিস্তান অংশ নেবে কি না, এ নিয়ে অনেক দিন ধরেই জল্পনা-কল্পনা চলছে। ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা বিঘিœত হওয়ার কথা বলা হচ্ছে। পাশাপাশি চলছে দুই দেশের কেন্দ্রীয় রাজনীতির টানাপোড়েন। সর্বশেষ দু’দেশের দ্বিপক্ষীয় সিরিজ স্থগিত হওয়ায় পরিস্থিতি কিছুটা হলেও ঘোলাটে। পর্যন্ত পাকিস্তান সরকারের অনুমতির ওপরই সব নির্ভর করছে।