২০ নভেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ভারতের আধিপত্যে এসএ গেমসের বর্ণিল সমাপ্তি

রুমেল খান ॥ শেষ ভাল যার, সব ভাল তার। না, শুরুর মতো শেষটাও ভাল হলো না। সমাপনী দিনেও জোটেনি কোন সোনার পদক। হ্যাঁ, বলা হচ্ছে বাংলাদেশের কথাই। ব্যর্থতা দিয়েই তারা শেষ করেছে ‘দক্ষিণ এশিয়ার অলিম্পিক’ খ্যাত সাউথ এশিয়ান গেমসের (এসএ গেমস) মিশন। গত ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ভারতের অসম ও মেঘালয় রাজ্যের গুয়াহাটি এবং শিলংয়ে পর্দা উঠেছিল এই দ্বাদশ ক্রীড়া আসরের। গেমসের পর্দা নামে মঙ্গলবার।

এবারের গেমসের পদক তালিকায় ১৮৮ স্বর্ণসহ ৩০৮ পদক নিয়ে যথারীতি শীর্ষস্থানে আছে ভারত। আর ২৫ স্বর্ণসহ ১৮৬ পদক নিয়ে তার পরের অবস্থানে শ্রীলঙ্কা। ১২ স্বর্ণসহ ১০৬ পদক নিয়ে তালিকায় তৃতীয় অবস্থানে পাকিস্তান। আসরের শেষদিকে এসে চমক দেখিয়েছে আফগানিস্তান। ৭ স্বর্ণসহ ৩৫ পদক নিয়ে বাংলাদেশকে পেছনে ফেলে চতুর্থ অবস্থানে আছে তারা। নেপাল যদি বাংলাদেশের সমান স্বর্ণপদক পেত নেপালের স্বর্ণ ৩টি), তাহলে তারা পেছনে ফেলতে পারত বাংলাদেশকে। কেননা তাদের রৌপ্যপদক বাংলাদেশের চেয়ে বেশি (নেপালের রুপা ২৩, বাংলাদেশের ১৫)। গত ২০১০ আসরে পদক তালিকায় বাংলাদেশ ছিল তিন নম্বরে, এবার তারা দুই ধাপ পেছনে গিয়ে পঞ্চম স্থানে। সন্দেহ নেই, অবনতির চমৎকার নিদর্শন! আর আগের ৪ স্বর্ণসহ মোট ৭৫ পদক নিয়ে আফগানিস্তানের পরেই আছে বাংলাদেশ। অপরদিকে এবারের আসরে নেপাল ৩ স্বর্ণ জয় করলেও এখনও স্বর্ণ বঞ্চিত মালদ্বীপ ও ভুটান।

এই বর্ণাঢ্য ক্রীড়া আসরে প্রত্যাশার সঙ্গে প্রাপ্তির সেভাবে সমন্বয় ঘটাতে পারেনি বাংলাদেশ। ২০১০ ঢাকা এসএ গেমসে বাংলাদেশ ১৮ স্বর্ণ, ২৪ রৌপ্য ও ৫৫ তাম্রপদক পেয়েছিল। কিন্তু এবার তারা গতবারের ১৮ স্বর্ণের অর্ধেকও জেতেনি! অথচ গেমসে অংশ নিতে ভারত যাওয়ার আগে দলের কর্মকর্তারা বড় মুখ করে অনেক পদক জয়ের আশাবাদ ব্যক্ত করে গিয়েছিলেন। পদক বাংলাদেশ পেয়েছে ঠিকই, তবে সেগুলোর বেশিরভাগই তামার!

বাংলাদেশের অর্জন ৪ সোনা। আর এই সোনার ৩টিই জিতেছেন নারী ক্রীড়াবিদরা। ভারোত্তলনে মাবিয়া আক্তার সিমান্ত জেতেন প্রথম স্বর্ণটি। তারপর জলকন্যা মাহফুজা আক্তার শিলা সাঁতারে একাই জেতেন ২ স্বর্ণ। আর পুরুষদের মধ্যে একমাত্র স্বর্ণ জয় করেন পিস্তল শূটিংয়ে শাকিল আহমেদ।

এ্যাথলেটিক্স, কাবাডি, ফুটবল ... এই তিন ডিসিপ্লিন থেকে একটি সোনাও জেতেনি বাংলাদেশ। অথচ এই তিন খেলা নিয়ে বাংলাদেশী ক্রীড়াপ্রেমীদের আগ্রহ ছিল বেশি। বিশেষ করে ফুটবলে স্বর্ণ না পেলেও অন্তত রৌপ্য জেতা উচিত ছিল বলে মনে করেন অনেকেই। মহিলা ও পুরুষ উভয় দলই তামা জিতেছে। উভয়দলই হারে ভারতের কাছে। মহিলা দলের হার ছিল বেশি হতাশার। কেননা তারা ওই ম্যাচে ড্র করলেই ভারতকে টপকে ফাইনালে উঠতে পারত। কিন্তু ম্যাচে তারা হেরে যায় বড় ব্যবধানে। আর পুরুষ দল তো দুর্বল ভুটানের সঙ্গে শুরুতেই ড্র করে সমালোচিত হয়। পড়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে কোনমতে সেমিতে উঠলেও বাজে খেলে ভারতের কাছে হেরে বিদায় নেয়। গত আসরে বাংলাদেশের ১৮ স্বর্ণ পদকের মধ্যে কারাতে ডিসিপ্লিনে চার, গলফে দুটি ও ক্রিকেটে একটিসহ মোট ৭ স্বর্ণ পদক এসেছিল। এবারের আসরে ওই ইভেন্টগুলো না থাকায় পদক সম্ভাবনার দিক থেকে অনেক পিছিয়ে পড়ে বাংলাদেশ। এসএ গেমসকে সামনে রেখে গত বছরের আগস্ট থেকে বাংলাদেশ অলিম্পিক এ্যাসোসিয়েশনের (বিওএ) উদ্যোগে বিভিন্ন ফেডারেশন তাদের প্রস্তুতিপর্ব শুরু করে। এবারের আসরে আরচারি, এ্যাথলেটিক্স, বক্সিং, ব্যাডমিন্টন, টেবিল টেনিস, কাবাডি শূটিং, সুইমিং, ভলিবল, তায়কোয়ানদো, ভারোত্তোলন, কুস্তি, সাইক্লিং, বাস্কেটবল, হ্যান্ডবল, ফুটবল, জুডো, টেনিস, হকি, খো খো, উশু ও স্কোয়াশসহ ২২ ডিসিপ্লিনে অংশ নেয় বাংলাদেশ। বাংলাদেশ শুধু ট্রায়াথলন ডিসিপ্লিনে অংশ নেয়নি। এ প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের ২২৩ পুরুষ এবং ১৪৭ মহিলা খেলোয়াড়, ৬০ কোচ, ৩৯ ম্যানেজার এবং অন্য কর্মকর্তাসহ মোট ৪৬৯ সদস্যের দল অংশগ্রহণ করে। তবে দল ভারি হলেও পদকের ঝোলা কিন্তু ততটা ভারি হয়নি! যা বাংলাদেশের জন্য লজ্জার, হতাশার। নেপালের কাঠমান্ডুতে ১৯৮৪ সাল থেকে অনুষ্ঠিত হয় প্রথম এসএ গেমস। কখনও এক, কখনও দুই, চার ও পাঁচ বছরের বিরতি দিয়ে অনিয়মিতভাবে হয়ে এসেছে এই ক্রীড়া আসরটি। ভারত বরাবরই এ আসরে আধিপত্য বিস্তার করে এসেছে। এবারও তার ব্যত্যয় হয়নি।