১৮ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মেসি-সুয়ারেজের অদ্ভুত গোলে হৈচৈ

  • টি ইসলাম তারিক

সচরাচর দেখা যায়নি এমন ঘটনা। ঘটেছে কালেভদ্রে। তাইতো এ-ত-তো হৈচৈ। ১৪ ফেব্রুয়ারি রাতে স্প্যানিশ লা লীগায় সেল্টা ডি ভিগোর বিরুদ্ধে বার্সিলোনার হয়ে লিওনেল মেসি ও লুইস সুয়ারেজ পেনাল্টি থেকে যে অদ্ভুতুড়ে গোল করেছেন তা নিয়ে এখন সরগরম ফুটবলবিশ্ব। দু’পায়ের কারুকাজ দিয়ে ইতোমধ্যে জয় করে নিয়েছেন শত্রু-মিত্র সবার মন। ধারাবাহিক জাদুকরী পারফরমেন্স প্রদর্শন করা লিওনেল মেসি বর্তমানেও বিশ্বসেরা ফুটবলার। ফুটবল মাঠে যিনি হরহামেশাই এমন সব কীর্তি করেন, যার বর্ণনা দিতে গিয়ে বিশেষণ হারিয়ে ফেলেন ধারাভাষ্যকার থেকে শুরু করে সবাই। লা লীগার ম্যাচে সেল্টা ডি ভিগোর বিরুদ্ধে এমন আরেকটি মহান কাজ করেছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। যার প্রশংসায় মুখর এখন ফুটবলবিশ্ব। ম্যাচের ৮১ মিনিটে বার্সিলোনা পেনাল্টি পায়। ওই সময় ৩-১ গোলে এগিয়ে থাকায় জয় প্রায় নিশ্চিতই হয়ে গিয়েছিল ক্যাটালানদের। পেনাল্টি শট নিতে আসেন মেসি। এই গোলটি করতে পারলেই লা লীগায় ৩০০টি গোল করার অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করতে পারতেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। কিন্তু সবাইকে অবাক করে দিয়ে অদ্ভুত এক কা- ঘটান বর্তমান ফিফা সেরা তারকা। গোলপোস্ট লক্ষ্য করে জোরালো শট নেয়ার বদলে মেসি আলতো করে টোকা দেন বলে। পেছন থেকে দৌড়ে এসে শট নিয়ে বল জালে জড়ান লুইস সুয়ারেজ। এই গোল করেই হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন উরুগুয়ের স্ট্রাইকার। ফুটবলে এমন অদ্ভুত পেনাল্টি খুব কমই দেখা গেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম তাই মেসি-সুয়ারেজের এই পেনাল্টিকে ঘোষণা দিয়েছে ‘শতাব্দীর সেরা পেনাল্টি’ হিসেবে। অনেকেই ভাবতে পারেন, আচমকা এমন অদ্ভুত পেনাল্টি কেন নেবেন মেসি ও সুয়াজে। তবে এমন একটা পেনাল্টি নেয়া হবে, সেটি অনুশীলনেই নাকি ঠিক করা ছিল বলে জানিয়েছেন নেইমার। তবে সেটি মেসি-সুয়ারেজ নয়, মেসি-নেইমার যুগলবন্দীতেই নাকি হওয়ার কথা ছিল।

এ প্রসঙ্গে নেইমার বলেন, এটা আমার জন্যই পরিকল্পনা করা ছিল। আমরা এটা অনুশীলনও করেছি। কিন্তু লুইস বলের কাছে আগে চলে গেছে। যাই হোক, ব্যাপার না। ও গোল করেছে, পরিকল্পনাটা তাই কাজেই লেগেছে। ক্যারিয়ারে ৮৩ পেনাল্টির ১৭টি মিস করা মেসির পেনাল্টি নিয়ে আলোচনা এই প্রথম নয়। তবে এবারেরটি যেন ছাপিয়ে গেল বাকি সবকিছুকেই। নেইমার অবাক না হলেও মেসির এই কা-ে তাঁর বার্সা সতীর্থদের অনেকেই অবাক হয়েছেন বলে জানিয়েছেন জর্ডি অ্যালবা। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, লিও সব সময়ই নতুন নতুন জিনিস করার চেষ্টা করেন। আমরা এমন কিছু অনুশীলনেও দেখিনি। তিনি যে এমন কিছু করবেন, সেটা আমরাও জানতাম না। ক্রুইফের সেই গোলের স্মৃতিচারণ করেন বার্সিলোনা কোচ লুইস এনরিকে। তিনি বলেন, আমরা সবাই ক্রুইফের গোল মনে রেখেছি। আমি এরকম করার সাহস করতাম না। তিনি আরও বলেন, কেউ এটা পছন্দ করবে, কেউ করবে না। কিন্তু বার্সিলোনার খেলোয়াড় এবং সদস্য হিসেবে শিরোপা জেতা ছাড়াও দুর্দান্ত কিছু করে আমরা আমাদের খেলাটা উপভোগের চেষ্টা করি। এর আগে ইতিহাসে পেনাল্টি থেকে এমন গোল হয়েছে আরও তিনবার। সর্বপ্রথম ১৯৫৭ সালে বেলজিয়াম ও আইসল্যান্ডের মধ্যকার ম্যাচে। বেলজিয়ান ফুটবলার রিক কোপেনস ও আন্দ্রে পিটেরসের ওয়ান টু ওয়ান ছোট পাসে শেষ পর্র্যন্ত কোপেনস গোলটি করেন। পেনাল্টিতে শটটি প্রথমে নিয়েছিলেন কোপেনসই। ১৯৬৪ সালে ঘটে দ্বিতীয় ঘটনাটি। ইংলিশ এফ কাপে ম্যানচেস্টার সিটি ও প্লেমাউথের ম্যাচে মাইক ট্রিইব্লিকক ও জন ইউম্যানের মাঝে হওয়া এ পেনাল্টিতে গোল করেন ট্রিইব্লিকক। তৃতীয় অদ্ভুত পেনাল্টি শটটি সাবেক বার্সা কিংবদন্তি ইয়োহান ক্রুইফের।