১৫ নভেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সানি লিওন : দেখালেন তিনি দেখালেন

সানি লিওন : দেখালেন তিনি দেখালেন

অনলাইন ডেস্ক॥ সানি লিওনের নাম আমি প্রথম শুনি ২০১০ সালে। একটি পর্ন ফিল্মে তিনি অভিনয় করেছিলেন যার নাম ছিল ‘পোর্ট্রেইট অফ আ পর্ন স্টার’। ফিল্মটি বেশ কয়েকটি এভিএন পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়। প্রসঙ্গত, এই পুরস্কারটি পর্নের দুনিয়াতে অস্কারের সমতুল্য। সেই পুরস্কারের লিস্টে চোখ রাখার সূত্রেই প্রথম সানির সিনেমার সঙ্গে পরিচয় এবং যথারীতি দেখে ছিটকে গিয়েছিলাম। তাঁর বিভঙ্গ, শরীরী লীলা, তাঁর উন্মুক্ত আকাঙ্ক্ষার প্রদর্শনী আরও অনেকের মতোই আমার রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছিল। তবে তখন তিনি আমার কাছে শুধুই এক পর্ন-অভিনেত্রী ছিলেন।

কিছুদিন বাদে শুনলাম সানি লিওন পর্ন-কেরিয়ারের সমাপ্তি ঘোষণা করে বলিউডে পাকাপাকি ঘাঁটি গাড়তে চলেছেন। তার পর তো ইতিহাস। বলিউডে একটার পর একটা হিট সিনেমা, বিতর্কিত অ্যাড, দেশের রাজনীতিবিদদের সানি সম্বন্ধে কটূক্তি, আবারও হিট, নামীদামি এনডোর্সমেন্ট ইত্যাদি পেরিয়ে এসে সানি আবার খবরের শিরোনামে। যখন তিনি মুখোমুখি অন-স্ক্রিন সাক্ষাৎকারে তাঁর অতীত জীবন নিয়ে অ্যাঙ্করের বাঁকা বাঁকা প্রশ্নের জবাবে মাথা ঠান্ডা করে গ্রেসফুলি উত্তর দিয়ে আমাদের লিবারাল আমজনতার মন জয় করে নিলেন। আমি মনে মনে টুপি খুলেছিলাম। পর্ন সিনেমা থেকে বেরিয়ে এসে কঠিন লড়াই করে একজন নারী মূলস্রোতে নিজের জায়গা করে নিচ্ছেন, দৃপ্ত সাহসিকতায় নিজেকে প্রতিষ্ঠা করছেন এবং ফুৎকারে উড়িয়ে দিচ্ছেন তাঁকে ঘিরে যাবতীয় ইনহিবিশন তথা পুরুষতান্ত্রিক বিদ্বেষ- এগুলো দেখে মনে হয়েছিল আমি নিজের আধুনিক প্রগতিশীল চিন্তা দিয়ে মনে মনে যে স্বপ্নের নারীপ্রতিমা তৈরি করেছি সানি লিওন তার একেবারে খাপে খাপ। নিশ্চিন্ত হয়ে ঘুমোতে গিয়েছিলাম এই ভেবে যে, আমাদের মেয়েরা আর পিছিয়ে নেই, তারাও জাগছে। আমার ঘুম নিশ্চিন্ত এবং নিশ্ছিদ্র রেখেছিল এই বিশ্বাস যে আধুনিক ভারতের মেয়েরা নিজেদের প্রতিষ্ঠা করবে ঠিক যেমন সানি লিওন করেছেন। ঠিক সেই পথে যে পথে আমি চাই।